Samakal:
2025-04-03@17:12:33 GMT

অদম্য মায়ের অদম্য সন্তান

Published: 31st, January 2025 GMT

অদম্য মায়ের অদম্য সন্তান

ছোটবেলায় একটা গল্প শুনে বেশ মজা পেয়েছিলাম। তা হলো শিক্ষক ক্লাসে লেকচার দেওয়ার সময় ছাত্রদের জিজ্ঞেস করেছিলেন, যদি তোমাদের এক পাশে কিছু বই, অন্য পাশে কিছু টাকা রাখা হয় তাহলে তোমরা কোনটা নেবে? উত্তরে এক দুষ্ট ছাত্র বলে উঠল, স্যার, আমি টাকা নেব। তখন স্যার বললেন, হায়রে অপদার্থ! আমি হলে বই নিতাম। জ্ঞানের কোনো বিকল্প নেই। 
অর্থই সকল অনর্থের মূল। ছাত্র তখন বলে উঠল, স্যার, যার যা অভাব, সে তাই  নেবে। সে আরও বলল, আমার ওজন আছে, আয়তন আছে, জায়গা দখল করি, বল প্রয়োগ করি। কোনো অবস্থাতেই আমি অপদার্থ নই। 
গল্পটা হাস্যরসাত্মক হলেও বেশ ইঙ্গিতবহ। সেটাকে আরেকটি বাংলা প্রবাদ দিয়ে বলা যায়– রতনে রতন চেনে, শূকর চেনে কচু। সম্প্রতি আমিও অনুরূপ এক ঘটনার সাক্ষী। আমার একটা অভ্যাস হলো মাঝে মাঝে স্কুলের মেধাবী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে গল্পগুজবে সময় কাটানো। তারই সুযোগ করে নিতে একটা নির্দিষ্ট হাই স্কুলে মেধাবী শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য আমি আশপাশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সেরা ছাত্রছাত্রীদের জন্য পুরস্কার ঘোষণা করি। যারা নিজ নিজ স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষায় মেধা তালিকায় প্রথম ও দ্বিতীয় হবে তাদের ওই হাই স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে বিনা খরচায় ভর্তি করা হবে।
এ বছর ৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২ জন করে মোট ১২ জন মেধাবী শিক্ষার্থী উক্ত হাই স্কুলে ভর্তির জন্য যোগ্য বলে নির্বাচিত হয়। তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের সময় জানতে পারলাম, এক ছাত্রীর বাবা নেই। কিছুটা ভারাক্রান্ত মনে জানতে চাইলাম, পরিবারে আর কে আছে? শিক্ষার্থী বলল, সে তার আরেক বোনসহ মাকে নিয়ে নানাবাড়ি থাকে। তার মা টিউশনি করে যা আয়-রোজগার করে তা দিয়ে সংসারের ব্যয় নির্বাহের পাশাপাশি সন্তানদের লেখাপড়া করান। স্বাভাবিকভাবেই ওই আয়ে তাদের চলে না। তারপরও এইচএসসি পাস মা জানান, মেয়ে ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় ভালো। মেয়েকে উচ্চশিক্ষিত করার জন্য তিনি আধপেটা খেয়ে হলেও সংগ্রাম চালিয়ে যাবেন। 
আমি ভাবলাম, এই মায়ের টাকার অভাব, কিন্তু তিনি টাকার পেছনে ছুটছেন না। তিনি ছুটছেন সন্তানের শিক্ষা নিশ্চিত করার পথের সন্ধানে। মায়ের এই অদম্য মানসিকতাই কন্যার মধ্যে জ্ঞানের প্রতি অদম্য স্পৃহা জাগিয়ে দিয়েছে। আবারও প্রমাণ হলো– রতনে রতন চেনে।

মুনতাসির আজিজ
শিক্ষার্থী, নোয়খালী
 

.

উৎস: Samakal

কীওয়ার্ড: র জন য

এছাড়াও পড়ুন:

ডিওজিইর দায়িত্ব ছাড়ার পরও ট্রাম্পের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাবেন মাস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি দক্ষতা বিভাগের (ডিওজিই) দায়িত্ব ছাড়ার পরও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বন্ধু ও উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করে যাবেন ইলন মাস্ক। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবেন এই ধনকুবের। আজ বৃহস্পতিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়েছেন ভ্যান্স।

গতকাল বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম পলিটিকো এবং সম্প্রচারমাধ্যম এবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের বলেছেন, মাস্ক শিগগিরই কেন্দ্রীয় সরকারের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। এখন তিনি তাঁর বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজে ফিরে যাবেন।

গত জানুয়ারিতে ক্ষমতায় বসার পর সরকারি দক্ষতা বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন ট্রাম্প। প্রাথমিকভাবে ১৩০ দিনের জন্য ওই বিভাগে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল মাস্ককে। মে মাসের শেষের দিকে তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। তবে মেয়াদ শেষের আগেই মাস্ক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন কি না, তা পলিটিকো ও এবিসির প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়নি।

জেডি ভ্যান্স ফক্স নিউজকে বলেন, ‘ডিওজিইর করার মতো অনেক কাজ আছে। ইলন চলে যাওয়ার পরও এসব কাজ অব্যাহত থাকবে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমি ও প্রেসিডেন্ট—দুজনেরই বন্ধু এবং উপদেষ্টা হিসেবে থেকে যাচ্ছেন ইলন।’

পলিটিকোর প্রতিবেদন বলা হয়েছে, মাস্কের চঞ্চল মনোভাবের কারণে ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতর ও বাইরের অনেকে তাঁকে অপছন্দ করা শুরু করেন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের পাল্লা ভারী হতে থাকে। অন্যদিকে বিশ্বের শীর্ষ এই ধনীকে সম্পদের পরিবর্তে রাজনৈতিক দায় হিসেবে দেখতে শুরু করেন ট্রাম্পের দলের রাজনীতিবিদেরা।

আরও পড়ুনইলন মাস্ক শিগগির দায়িত্ব ছাড়ছেন, ঘনিষ্ঠদের বলেছেন ট্রাম্প২১ ঘণ্টা আগে

সম্পর্কিত নিবন্ধ