মরহুম আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টে-৭ এর ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত
Published: 31st, January 2025 GMT
সোনারগাঁ উপজেলায় মছলন্দপুর যুব সমাজের আয়োজনে সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক সেলিম হোসেন দীপুর সার্বিক তত্বাবধানে মরহুম আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টে-৭ এর ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলার বারদী ইউনিয়নে মছলন্দপুর খেলা মাঠে এ খেলা অনুষ্ঠিত হয়। নির্ধারিত সময়ে খেলায় সজীব একাদশ ২-১ গোলে আল-আমীন একাদশকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয়।
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নান। তিনি বলেন, এ ধরনের ফুটবল খেলার মাধ্যমে আমরা আমাদের প্রিয় ক্রীড়া সংগঠক আরাফাত রহমান কোকোকে স্মরণ করতে পারি। তিনি আমাদের ক্রীড়া জগতের এক অন্যতম নক্ষত্র।
খেলায় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উদ্ধোধন করেন সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন, সভাপতিত্ব করেন সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি সভাপতি ও বারদী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আলী আজগর।
পরে প্রধান অতিথি বিজয়ী দলকে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি এবং পুরস্কার তুলে দেন। রানার্স আপ দলকে ট্রফি এবং পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা।
ফাইনাল খেলার ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ নির্বাচিত হন সজীব একাদশের সোহাগ। সর্বোচ্চ গোল দিয়ে পুরো টুর্নামেন্টের ‘ম্যান অব দ্যা টুর্নামেন্টের পুরস্কারে ভূষিত হন সজীব একাদশের সোহাগ। তার হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন।
এ সময় বিশেষ বক্তা হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপি সিনিয়র সহসভাপতি কাজী নজরুল ইসলাম টিটু, সোনারগাঁ পৌরসভা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান মেম্বার, উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান ভূঁইয়া মাসুম।
উপদেষ্টা হিসাবে উপস্হিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজ সেবক পিরোজপুর মাসুম রানা, সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সদস্য বি.
বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্হিত ছিলেন পিরোজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মনিরুজ্জামান, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক সাফির উদ্দীন মজনু, আতাউর রহমান, এডভোকেট সাদ্দাম হোসেন, সহ সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আব্দুর রহিম, সাদিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান সরকার,নোয়াগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক, নোয়াগাঁো ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আতাউর রহমান, জাসাসের উপজেলার আমির হোসেন, উপজেলা কৃষকদলের ফজলুল হক,সদস্য সচিব ফজলুল হক প্রমুখ।
উৎস: Narayanganj Times
কীওয়ার্ড: ন র য়ণগঞ জ ব এনপ র স রহম ন উপজ ল
এছাড়াও পড়ুন:
তিন জেলায় চার শিশু ধর্ষণের শিকার
রাজধানী ঢাকার দারুসসালাম ও মুগদা, ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা এবং কিশোরগঞ্জের ভৈরবে চার শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে।
দারুসসালামে ধর্ষণের শিকার শিশুটির বাবা জানান, শাহআলী এলাকায় পরিবারের সঙ্গে থাকে তাঁর মেয়ে (১৪)। সে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করে। সোমবার দুপুরে যুবক মেহেদী হাসান তার বোনের বাসায় বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে মেয়েটিকে সঙ্গে নিয়ে যায়। পরে কৌশলে তাকে একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে ধর্ষণ করে।
বাসায় ফিরে মেয়েটি পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানায়। তখন তাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
দারুসসালাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিব উল হাসান বলেন, এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযোগ স্বীকার করেছে সে।
এদিকে মুগদার মানিকনগরে ধর্ষণের শিকার শিশুকে (১২) গতকাল বুধবার দুপুরে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়।
মুগদা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাফায়েত মুকুল বলেন, গত ২৮ মার্চ ওই শিশুকে কৌশলে ভাড়া বাসায় ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে সাগর। পরে মঙ্গলবার শিশুটির বাবা থানায় অভিযোগ করেন। পুলিশ সাগরকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় ওই শিশুটির বাবা মুগদা থানায় মামলা করেছেন। আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে, ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে নিয়ে গিয়ে এক শিশুকে (১০) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত মো. দুলাল মিয়ার (৩০) বাড়ি ভাঙচুর করেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মুক্তাগাছা থানার ওসি মোহাম্মদ কামাল হোসেন।
স্থানীয়রা জানায়, অভিযুক্তকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করায় মজিদকে মারধর করে জনতা। এ সময় মজিদের বাড়ি ও তার ভাই আতিকের দোকান ভাঙচুর করে। মজিদকে ধরে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, নামা মহিষতারা গ্রামের মন্নেছ আলীর ছেলে মো. দুলাল ওই শিশুকে ঈদের দিন বিকেলে শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে নিয়ে যায়। এ সময় তার মেয়েকেও সঙ্গে নিয়ে যায়। নিজের মেয়েকে শ্বশুরবাড়িতে রেখে ওই শিশুকে এক নির্জন স্থানে নিয়ে যৌন নির্যাতন করে।
মঙ্গলবার সকালে ওই শিশুকে একটি ভ্যানে করে অসুস্থ অবস্থায় তার বাড়িতে পৌঁছে দেয়। দুলাল তাকে ধর্ষণ করেছে বলে অসুস্থ শিশুটি তার পরিবারকে জানায়। এ সময় পরিবারের লোকজন দুলালকে ধরতে যায়। তাকে কৌশলে ভাগিয়ে দেয় স্থানীয় মজিদ। পরে পুলিশ গিয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।
এ ছাড়া কিশোরগঞ্জের ভৈরবে এক ছেলে শিশুকে (৬) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে দুই কিশোরের বিরুদ্ধে। গত সোমবার রাত সাড়ে ৮টায় পৌর শহরের মেঘনা নদীর পার ডিপোঘাট মুশকিলা হাটি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গতকাল দুপুর ১২টায় শিশুটির পরিবারের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়েছেন বলে নিশ্চিত করেন ভৈরব থানার ওসি খন্দকার ফুয়াদ রুহানী। অভিযুক্তদের বয়স কম হওয়ায় তাদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হলো না।
স্থানীয়রা জানান, শিশুটির বাবা একজন দিনমজুর। ঈদের দিন বাড়ির পাশে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় দুই কিশোর তাকে আটকে একটি মসজিদের শৌচাগারে নিয়ে যায়। তার ওপর যৌন নির্যাতন করে। তার চিৎকারে দুই কিশোর পালিয়ে যায়। শিশুটি তার পরিবারের কাছে ঘটনা জানায়। তাকে পরদিন ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে কিশোরগঞ্জের সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কিশোর কুমার ধর বলেন, শিশুটিকে যৌন নির্যাতন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে শিশুটির বাবা বলেন, ‘ছেলের রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। পরদিন আমরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। দুই অভিযুক্তের পরিবারকে ঘটনা জানালে তারা আমাদের হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। তারা এলাকার প্রভাবশালী। ঘটনার পর থেকে আমরা পরিবার নিয়ে আতঙ্কে রয়েছি।’
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা নিলুফা ও রাজিব মিয়া বলেন, অভিযুক্তদের ভয়ে কেউ কিছু বলতে পারছে না।
অভিযুক্ত এক কিশোরের বাবা কারণ মিয়া বলেন, ‘আমার ছেলেকে শত্রুতা করে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছে। আমার ছেলে অপরাধ করেনি। যদি অপরাধ করে থাকে, তাকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।’
ভৈরব থানার ওসি খন্দকার ফুয়াদ রুহানী বলেন, ‘ঘটনা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’