চার্চ অব বাংলাদেশের মডারেটর ও ঢাকার বিশপ স্যামুয়েল সুনিল মানখিনের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করে তার বিচারের দাবি জানিয়েছেন খৃস্টান কমিউনিটির নেতারা।

তারা দাবি করেছেন, বিশপ স্যামুয়েল নিজের পরিবার, অনুগত লোকজন ও আওয়ামী লীগের নেতাদের সহায়তায় দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি করে প্রচুর অর্থ সম্পদের মালিক হয়েছেন।

শুক্রবার সকালে রাজধানীর ইস্কাটনে জাতীয় চার্চ পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় তারা এ দাবি জানান।

সভায় বক্তারা বলেন, হালুয়াঘাটের স্যামুয়েল সুনিল মানখিন অবৈধভাবে চার্চের ও সরকারি জমি বিক্রি, সীমাহীন কুকর্ম, অনিয়ম, দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ করছেন। এই চক্রটি ট্যাক্সও ফাঁকি দিচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে তাদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান বক্তারা।

স্যামুয়েল মানখিন চার্চের সংবিধান পরিবর্তন করে এবং সরকারি নিয়মের তোয়াক্কা না করে নিজের চাকরির মেয়াদ ৬৮ বছর করিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ এনে তারা বলেন, এ অপকর্মে সহায়তা নিয়েছেন স্ত্রী মনিতা মানখিন, ছেলে আছিক চাম্বুগং, সিনড সম্পাদক রেভারেন্ড প্রভুদান হীরা, সিনড ডায়োসিসের কতিপয় সদস্য, শালোম উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা ও ঢাকা ডায়োসিসের কয়েকজন পুরোহিতের।

সভায় অভিযোগ আরও করা হয়, ৫ আগস্টের পর গ্রেপ্তার হওয়া যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা স্বপন মল্লিক বাবুকে চার্চের টাকা খরচ করে জামিনে মুক্ত করা হয়। হালুয়াঘাট মিশনের ৩ একর, রাজশাহী শহরের ১১ শতাংশ ও জণ্ডীপুর বয়েজ হোস্টেলের জমি নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করা হয় এবং বিক্রির টাকা আত্মসাৎ করা হয়। এছাড়াও সৈয়দপুর, নওগাঁ, কুষ্টিয়ার মশান, হালুয়াঘাট, পানিহাটা ও রাজশাহীর মহিষবাথান বিক্রি করে চার্চের অস্তিত্ব বিলীন করা হয়েছে।

তারা বলেন, চার্চের ১০ কোটি টাকা নিয়ম বহির্ভূতভাবে ফিক্সড ডিপোজিট করে তার লভ্যাংশ আত্মসাৎ করা হচ্ছে।

স্যামুয়েল সুনিল মানখিনের স্ত্রী মনিতা মানখিনের অনিয়ম ও দুর্নীতির উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, কুষ্টিয়া মিশন স্কুলে অডিট করতে না দিয়ে তিনি ৪২ লাথ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়াও স্কুলের দায়িত্বে থাকাকালে মিশনের নামে ১০ লাখ টাকা এফডিআর না করে আত্মসাৎ করেন এবং নিয়োগ ও বদলির নামে লাখ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন।

খৃস্টান কমিউনিটির নেতা অগাস্টিন দীপক কর্মকারের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ডা.

মার্টিন হীরক চৌধুরী, জেমস মালাকার, যোসেফ সুদিন মন্ডল, মাইকেল বায়েন, জেমস রয়, মোশি বাবুল ঘরজা, ডেবিট সঞ্জয় সরকার, শঙ্কর বিশ্বাস, রবার্ট বিশ্বাস, অ্যাডভোকেট জুয়েল মন্ডল, সঞ্জয় রাসেল মণ্ডল, অপু সরকার, মনিমালা বেবি, ইসাহাক মণ্ডল, দুলাল বাড়ৈ, শান্তণু বাড়ৈ, তাপস বাড়ৈ, শিশুদান বাড়ৈ, নিকোলাস সেন, প্রভাত হালদার, এন্ড্রু লিটন মণ্ডল, সুমন টিংকু মল্লিক, জর্জ মানস হালদার, বিধান সরকার, লিটন মণ্ডল, রিপন হালদার, শিমসন বিশ্বাসসহ অন্যান্য চার্চ সদস্যরা।

উৎস: Samakal

কীওয়ার্ড: সরক র

এছাড়াও পড়ুন:

মোদি ভাল বন্ধু, তবে... সঠিক আচরণ করছে না: ট্রাম্প

এই মুহূর্তে সারাবিশ্বের সংবাদমাধ্যমগুলোতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত পাল্টা শুল্ক নিয়ে আলোচনা চলছে। বিশ্বের এমন কোনো দেশ বাকী নেই যার ওপর ট্রাম্প শুল্ক আরোপ করেননি। 

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বন্ধু বলে দাবি করলেও শুল্কের বেলায় ট্রাম্প দিল্লিকে ছাড় দেননি। তিনি ভারতের ওপর ২৬ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন। বুধবার এই শুল্ক ঘোষণার সময় ট্রাম্পের মুখে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তার বন্ধুত্বের বিষয়টিও উঠে আসে। 

ট্রাম্প বলেছেন, “প্রধানমন্ত্রী (নরেন্দ্র মোদি) কিছুদিন আগেই এখান থেকে ঘুরে গিয়েছেন। তিনি আমার ভাল বন্ধু। কিন্তু আমি তাকে বলেছি, আপনি আমার বন্ধু, তবে আপনি আমাদের সঙ্গে ঠিকঠাক আচরণ করছেন না।”

তিনি বলেন, “ভারত আমাদের ওপর ৫২ শতাংশ শুল্ক আরোপ করছে, তো আমরা তাদের চার্জ করছি তার অর্ধেক, ২৬ শতাংশ।”

প্রসঙ্গত, ‘পারস্পরিক শুল্ক’ বা পাল্টা শুল্ক মানে, যে দেশ আমেরিকার ওপর যতটা শুল্ক চাপাচ্ছে, সেই দেশের পণ্যে পাল্টা তার উপযুক্ত শুল্ক চাপাচ্ছে আমেরিকা। ২ এপ্রিল থেকে এই শুল্ক কার্যকর হবে।

ঢাকা/শাহেদ

সম্পর্কিত নিবন্ধ