এলজিইডির তিন কোটি ১১ লাখ টাকার একটি সেতুর কাজ পেয়েছিলেন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মামুন আল মাসুদ খানের ছোট ভাই শফিকুল আলম। পিলার বা অ্যাভার্টমেন্টের কাজ সেরে ওই সেতুর গার্ডার না বসিয়েই বিল তুলে নিয়েছেন তিনি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিছিলে হামলার একাধিক মামলার আসামি হয়ে শফিকুল এখন পলাতক।
এলাকাবাসী ও জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো.

আমিরুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। নরসুন্দা নদীর ওপর সদর উপজেলার মহিনন্দ ইউনিয়নের রঘুখালী ও পাশের বৌলাই ইউনিয়নের ছয়নার মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী এই সেতু নির্মাণ প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছিল।
বুধবার রঘুখালী ও ছয়না ঘুরে দেখা গেছে, নরসুন্দা নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুর দুই পারে দুটি অ্যাভার্টমেন্ট দাঁড়িয়ে আছে। ওপরে লম্বা লম্বা রড বেরিয়ে আছে। সেগুলোর কিছু কেটে নিয়ে গেছে চোরেরা। বাকিগুলোতে মরিচা ধরেছে।
এলাকাবাসী জানান, এখানে আগে একটি পাকা সেতু ছিল। সেটি ভেঙেই নতুন সেতু নির্মাণ হচ্ছিল। কিন্তু সেতুর কাজ বন্ধ থাকায় এখন জনদুর্ভোগ বেড়েছে। তাদের সুবিধার জন্য সম্প্রতি এর পাশেই বৌলাই ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. মাহবুব আলম একটি অস্থায়ী কাঠের সেতু নির্মাণ করে দিয়েছেন। সেতুর মাথায় প্ল্যাকার্ডে লেখা আছে, মোটরসাইকেলে একজনের বেশি উঠা যাবে না। কিন্তু অনেকেই সেটি মানছেন না। 
রঘুখালীর ওষুধ ব্যবসায়ী ফারুক মিয়া ও ছয়না এলাকার বিল্লাল মিয়াসহ কয়েকজনের ভাষ্য, ঠিকাদার শফিকুল আলম সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা মামুন আল মাসুদ খানের ছোট ভাই। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি বিল তুলে সেতুর কাজ ফেলে চলে গেছেন। এলাকাবাসী এর প্রতিবাদে মানববন্ধনও করেছেন। এখন শফিকুল আলম মামলার আসামি হয়ে পলাতক। মামুন আল মাসুদ খানও একই কারণে পলাতক। এলাকাবাসী দ্রুত সেতুটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন।
ঠিকাদার শফিকুল আলম পলাতক থাকায় তাঁর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। বুধবার জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আমিরুল ইসলাম বলেন, ৪০ মিটার দীর্ঘ সেতুটি নির্মাণের জন্য শফিকুল আলমের ‘এইচটিবিএল-এসএসি’ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি হয়েছিল ২০২১ সালের ৩ নভেম্বর। কাজটি ২০২২ সালের ২৯ নভেম্বর শেষ করার কথা ছিল। এর জন্য বরাদ্দ ছিল তিন কোটি ১১ লাখ টাকা। কিন্তু সেতুর দুই পাশে দুটি অ্যাভার্টমেন্ট নির্মাণ করে প্রায় দুই বছর আগে এক কোটি ৩৯ লাখ টাকা তুলে নেন ঠিকাদার। তিনি আর কাজে ফেরেননি। সেতুর গার্ডার বসানো কাজ বাকি ছিল। আগের কার্যাদেশ বাতিল করে ভৈরবের ‘মেসার্স মমিনুল হক’ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়েছে। এজন্য বরাদ্দ ধরা হয়েছে দুই কোটি ১৯ লাখ টাকা। 

উৎস: Samakal

কীওয়ার্ড: এল ক ব স

এছাড়াও পড়ুন:

চার ওয়ানডের তিনটিতে জরিমানা খেলো পাকিস্তান 

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে স্লো ওভার রেটের কারণে জরিমানা খেয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট দল। ম্যাচ রেফারি দলের ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফির ৫ শতাংশ জরিমানা করেছেন। পাকিস্তানের অধিনায়ক মোহাম্মদ রিজওয়ান দায় স্বীকার করে নেওয়ায় শুনানির দরকার পড়েনি।

এ নিয়ে নিউজিল্যান্ড সিরিজের প্রথম দুই ওয়ানডে ম্যাচেই স্লো ওভার রেটের কারণে জরিমানা গুনতে হলো পাকিস্তান ক্রিকেট দলের। শুধু তাই নয়, সর্বশেষ চার ওয়ানডের তিনটিতেই স্লো ওভার রেটের দায়ে দোষী হয়েছে মোহাম্মদ রিজওয়ানের দল।

এর আগে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির উদ্বোধনী ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পাকিস্তানের ওভার রেট স্লো ছিল। অর্থাৎ নির্ধারিত সময়ে বোলিং শেষ করতে পারেনি রিজওয়ানের দল। যে কারণে গুনতে হয় জরিমানা। তবে পরের ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত সময়ে বোলিং শেষ করতে পেরেছিল তারা। এ নিয়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টানা তিন ম্যাচে স্লো ওভার রেট হলো পাকিস্তানের।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম দুটিতেই হেরেছে পাকিস্তান। প্রথম ম্যাচে কিউইদের ৩৪৪ রান তাড়া করতে নেমে ৭৩ রানে হারে রিজওয়ান-বাবর আজমরা। দ্বিতীয় ম্যাচে ২৯৩ রানের লক্ষ্যে নেমে পাকিস্তান হেরেছে ৮৪ রানে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ