সাবেক রেলমন্ত্রী সুজন তিন দিনের রিমান্ডে
Published: 30th, January 2025 GMT
পঞ্চগড়ে সাবেক রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজনের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে রিমান্ড মঞ্জুর করেন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নাহিদা আকতার জুলিয়েট। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়া আল আমিন নামে এক ইজিবাইকচালককে হত্যার পর লাশ গুমের মামলার প্রধান আসামি সুজন।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার এক ঘণ্টার শুনানিতে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে সকালে পুলিশি নিরাপত্তায় সুজনকে নিয়ে এলে আদালত চত্বরে লোকজন তাঁর বিরুদ্ধে স্লোগান দেন।
জানা গেছে, পঞ্চগড়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নিয়ে গত ৪ আগস্ট নিখোঁজ হন আল আমিন নামে এক ইজিবাইকচালক। এ ঘটনায় তাঁর বাবা মনু মিয়া গত ১০ নভেম্বর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক রেলমন্ত্রী সুজনসহ ১৯ জনকে আসামি করে হত্যা ও গুমের মামলা করেন। এ মামলায় ১৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হিসেবে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি আদম সুফি, জিপি আব্দুল বারী, এপিপি মোস্তাফিজুর রহমান মিলন, এপিপি মোস্তাফিজুর রহমান, আইনজীবী হাবীব আল আমিন ফেরদৌসসহ অন্তত ১০ জন অংশগ্রহণ করেন। আসামিপক্ষে ছিলেন– মির্জা সারোয়ার হোসেন, সাবেক পিপি আমিনুর রহমান, আজিজার রহমান আজু, আবু বক্কর সিদ্দিক, আলী আসমান বিপুলসহ ১০ থেকে ১২ জন আইনজীবী।
আসামিপক্ষের আইনজীবী মির্জা সারোয়ার হোসেন বলেন, রিমান্ড আবেদনের শুনানিতে তদন্তকারী কর্মকর্তা উল্লেখ করেছেন, সাবেক রেলমন্ত্রী মোবাইল ফোনে গুম ও পরে হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন। তারা বলেছেন, তথ্যপ্রযুক্তির যুগে সে রেকর্ড বের করা সম্ভব। মামলার বাদী একটি এফিডেভিট দিয়েছেন; যাতে তিনি বলেছেন, আসামি সুজনকে তিনি চেনেন না। তাঁর জামিনের আবেদন করলেও আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আদালতের পিপি আদম সুফি বলেন, ‘যেহেতু ভুক্তভোগীকে বা তাঁর লাশ পাওয়া যায়নি, তাই রহস্য উদঘাটনের জন্য আসামির রিমান্ড প্রয়োজন। এটি আদালত অনুধাবন করায় রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। আসামিপক্ষ যে এফিডেভিট দেখিয়েছে, তাতে কোনো সাক্ষীর স্বাক্ষর নেই। এ মামলা কোনোভাবেই আপসযোগ্য নয়।’ এর আগে মঙ্গলবার রাতে ঢাকার কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে সাবেক রেলমন্ত্রী সুজনকে কড়া নিরাপত্তায় পঞ্চগড় জেলা কারাগারে নেওয়া হয়।
.উৎস: Samakal
কীওয়ার্ড: র লমন ত র স ব ক র লমন ত র র রহম ন আইনজ ব কর ছ ন
এছাড়াও পড়ুন:
ম্যারাডোনাকে হত্যা করা হয়েছে
বুয়েনস এইরেসের সান ইসিদরো আদালতে চলছে মামলার শুনানি। ডিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যু অসুস্থতার কারণে স্বাভাবিক মৃত্যু, নাকি অবহেলা ছিল চিকিৎসকদের, তা খতিয়ে দেখছেন আদালত। কিংবদন্তির শেষ দিনগুলোয় তাঁর চিকিৎসায় নিয়োজিত ছিলেন যে আটজন চিকিৎসক, তাঁদের মধ্যে সাতজনের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় অবহেলাজনিত অপরাধের অভিযোগে চলছে বিচার কার্যক্রম।
বাদীপক্ষ ম্যারাডোনার দুই মেয়ে দালমা ও জিয়ান্নিনার হয়ে আদালতে লড়ছেন আর্জেন্টাইন আইনজীবী ফের্নান্দো বার্লান্দো। এক টিভি অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, ‘পশুর সঙ্গে যেমন আচরণ করে, ডিয়েগোর সঙ্গে সেটাই করা হয়েছে। আদালতে যা কিছু দেখা গেছে, সেটাই প্রমাণ করে।’
আরও পড়ুনমেসির দেহরক্ষীকে নিষেধাজ্ঞা৪ ঘণ্টা আগেআর্জেন্টিনার টিভি চ্যানেল এলত্রেসে প্রচারিত অনুষ্ঠান ‘লা নোচে দে মিরথা’য় বার্লান্দো ব্যাখ্যা করেন, ২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর ম্যারাডোনাকে হত্যা করা হয়েছিল—এটা প্রমাণ করাই তাঁর আইনি দলের লক্ষ্য, ‘অবহেলার বিষয়টি আমরা আগেই পেরিয়ে এসেছি। এখন তা বিচারিকভাবে প্রমাণের চেষ্টা করছি।’
এই পৃথিবীতে ডিয়েগোর অনুপস্থিতিতে লাভটা তৃতীয় পক্ষের, যারা তাঁর উত্তরাধিকার নয়। কিছু লোক আছে, যারা কিছু সন্দেহজনক চুক্তিপত্র সইয়ের মাধ্যমে তাঁর মৃত্যুর পরও লাভবান হচ্ছে, এমনকি তাঁর ওপর ভর করে জীবিকা নির্বাহ করছে।ফের্নান্দো বার্লান্দো, ম্যারাডোনার মেয়ে দালমা ও জিয়ান্নিনার পক্ষের আইনজীবীবার্লান্দোর দাবি, পরিকল্পনা করে ছিয়াশির বিশ্বকাপ কিংবদন্তিকে মেরে ফেলা হয়েছে। চিকিৎসাজনিত অবহেলা তাঁর মৃত্যুর কারণ নয়, ‘আমি একমত, কোনো সন্দেহ নেই তাঁকে হত্যা করা হয়েছে।’ অনুষ্ঠানের উপস্থাপিকা আর্জেন্টাইন অভিনেত্রী ও সঞ্চালক মিরথা লেগ্রান্দ আইনজীবী বার্লান্দোর কাছে জানতে চান, ম্যারাডোনাকে মৃত্যুমুখে পতিত করা হয়েছে, নাকি হত্যা করা হয়েছে?’ বার্লান্দোর উত্তর, ‘ম্যারাডোনার মানসিক ও শারীরিক চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা আটজন ইচ্ছাপ্রসূত হত্যার দায়ে জড়িত। কেউ যখন সবচেয়ে বাজে পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়, এ ক্ষেত্রে যেটা মৃত্যু এবং তাদের আচরণে মনে হয় কিছুই হয়নি, তখন এটা হত্যা।’
ম্যারাডোনার দুই মেয়ে দালমা ও জিয়ানিন্নার পক্ষের আইনজীবী ফের্নান্দো বার্লান্দো