Samakal:
2025-04-04@14:31:43 GMT

বকেয়াতেই চলছে বিপিএল

Published: 30th, January 2025 GMT

বকেয়াতেই চলছে বিপিএল

বিপিএলে ফ্র্যাঞ্চাইজিদের নিবন্ধন করতে বা টিকিয়ে রাখতে বছরে দেড় কোটি টাকার ফি দিতে হয় বিসিবিকে। এই টাকা না দিলে খেলার অনুমতি পাওয়ার কথা না কোনো দলের। এক বছর আগেও এ নিয়ম কঠোরভাবে মানা হতো। দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে বিসিবির অবস্থান এতটাই নড়বড়ে হয়ে গেছে, ফি না দিয়েও লিগের বেশির ভাগ ম্যাচ খেলে ফেলেছে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো।

একমাত্র ফরচুন বরিশাল ছাড়া বাকি ছয় দলের কেউই ফ্র্যাঞ্চাইজি ফির পুরোটা দেয়নি বলে জানান বিসিবির একজন পরিচালক। তিনি জানান, রংপুর রাইডার্স ৫০ লাখ টাকার চেক দিয়েছে মঙ্গলবার। বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সঙ্গে ফ্র্যাঞ্চাইজি স্বত্বাধিকারীদের সভায় বকেয়া ফি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

একাদশ বিপিএলে ১১ রাউন্ডের খেলা হয়ে গেলেও রংপুরের কাছে ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি বকেয়া ১ কোটি টাকা। বাকি পাঁচ ফ্র্যাঞ্চাইজি ১৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা করে বকেয়া রেখেছে বলে জানা গেছে। যে দেশে বিসিবির টাকা বকেয়া রেখে লিগ খেলে ফেলে, সেখানে ক্রিকেটারদের সম্মানী না পাওয়া বিপিএলের নিয়ম ধরে নিতেই পারেন। হয়তো এ কারণেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টিপ্পনী করে বিপিএলকে লেখা হচ্ছে, ‘বকেয়া’ লিগ।

বিপিএলে ক্রিকেটারদের সম্মানী সময়মতো পরিশোধ না করার সংস্কৃতি পুরোনো। ২০১২ সাল থেকেই দেশি-বিদেশি ক্রিকেটারদের অভিযোগ জমা হয়েছে বিসিবিতে। ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক সংস্থা প্রতিবারই শঙ্কা প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছে।

আগের অভিযোগগুলো লিগ শেষে শোনা গেলেও এবার মাঝামাঝি সময় থেকেই তোলপাড়। টাকার দাবিতে ক্রিকেটাররা অনুশীলন বয়কট করেছেন। ক্রিকেটারদের হোটেল থেকে বাসায় পাঠিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে গতকাল। দুর্বার রাজশাহীর ঢাকার আবাসিক ক্রিকেটারদের বাসায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে টাকা বাঁচাতে। টিম ম্যানেজমেন্টের দেওয়া মেসেজ ক্রিকেটাররা সাংবাদিকদের কাছে পাঠিয়ে দিলে গোমড় ফাঁস হতে দেরি লাগেনি।

পরিস্থিতি বেগতিক দেখে রাজশাহী থেকে পরে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানায়, দলটির ঢাকায় বসবাসকারী ক্রিকেটারদের তিন দিনের ছুটি দেওয়া হয়েছে। বাধ্যতামূলক এই ছুটিতে গেছেন এনামুল হক বিজয়, তাসকিন আহমেদ, জিসান আলমরা। তারা ঠাট্টা করে বলছেন, ‘ফ্যামিলি লিভ।’

রাজশাহী একা নয়, চিটাগং কিংসের দেশি-বিদেশি ক্রিকেটাররাও সম্মানীর দাবিতে অস্থির হয়ে উঠেছেন। চেক বাউন্স করার তথ্য ফাঁস করায় জাতীয় দলের ক্রিকেটার পারভেজ হোসেন ইমনকে নিয়ে তো আপত্তিকর মন্তব্যও করেছেন ফ্র্যাঞ্চাইজি স্বত্বাধিকারী সামির কাদের।

বিসিবি থেকে এখন পর্যন্ত এ ফ্র্যাঞ্চাইজির কাছে জবাবদিহি চাওয়া হয়নি। রাজশাহীর স্বত্বাধিকারী ভ্যালেন্টাইন গ্রুপের এমডি শফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে নোটিশ ইস্যু করেনি বোর্ড। লিগের খেলা শেষের পথে চলে আসায় বাকি দলের ক্রিকেটাররাও একটু একটু করে মুখ খুলতে শুরু করেছেন।

খুলনা টাইগার্সের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমরা খেলোয়াড়রা ক্রিকেট খেলি টাকার জন্য। পারিশ্রমিক না পেলে প্রত্যেক খেলোয়াড়ের জন্যই খারাপ। ক্রিকেট বোর্ড আমাদের অভিভাবক, তারা আমাদের দায়িত্ব নিয়ে কথা বলবে ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের সঙ্গে। সে ক্ষেত্রে যদি সমস্যা হয়, ক্রিকেট বোর্ড একটা ভালো সমাধান দেবে আমার কাছে মনে হয়।’

.

উৎস: Samakal

কীওয়ার্ড: ব প এল ব প এল

এছাড়াও পড়ুন:

নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে গ্রাম পুলিশ গ্রেপ্তার

নাশকতার পরিকল্পনা করছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে মাদারীপুরে কামাল সরদার নামের এক গ্রাম পুলিশকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে তার বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার কামাল জেলার মস্তফাপুর ইউনিয়নের চাপাতলী গ্রামের কেরামত সরদারের ছেলে। তিনি একই ইউনিয়নে গ্রাম পুলিশ হিসেবে কর্মরত। 

ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নাশকতার পরিকল্পনাকারীদের ধরতে চাপাতলীতে অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ। এ সময় নিজ বাড়ি থেকে কামাল সরদারকে (৪০) গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষ করে তাকে পুলিশ বাদী মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে মাদারীপুর সদর থানায় হস্তান্তর করে ডিবি পুলিশ। 

স্থানীয়রা জানায়, আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতার ছত্রছায়ায় এলাকায় নানা অপকর্ম করে আসছিলেন কামাল। তার বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক, পুলিশ বিভাগসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেন কয়েকজন ভুক্তভোগী। কয়েকবার তাকে সতর্ক করা হলেও কোনো প্রতিকার পাননি বলে জানান স্থানীয়রা।

স্থানীয় হায়দার হোসেন বলেন, ‘কামাল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হয়ে কাজ করেন। পাশাপাশি মারামারি, মোটরসাইকেল চুরিসহ নানা অপকর্মে তিনি জড়িত। তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা আছে।’

মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মোকছেদুর রহমান জানান, কামাল সরদারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধারায় এক ডজন মামলা রয়েছে। তবে পুলিশ বাদী একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ