Samakal:
2025-04-03@15:55:48 GMT

সুরের টানে দিগ্বিদিক

Published: 30th, January 2025 GMT

সুরের টানে দিগ্বিদিক

অবসর কাকে বলে, তা হয়তো জানা নেই দিলশাদ নাহার কনার। সে কারণেই আমরা তাঁকে দেখি, দেশ-বিদেশে এক মঞ্চ থেকে আরেক মঞ্চে ক্রমাগত ছুটে যেতে। মঞ্চের ব্যস্ততা একটু কমলেই দেখি, তিনি মেতে উঠেছেন নতুন গানের আয়োজনে। অ্যালবাম যুগ থেকে শুরু করে অনলাইনে একক গানের প্রকাশনা শুরু পর্যন্ত তাঁর এই রুটিনের এতটুকু রদবদল হয়নি। পাশাপাশি ছিল সিনেমা, নাটক, অ্যালবাম, বিজ্ঞাপনের জিঙ্গেল থেকে শুরু করে রেডিও, টিভি সব মাধ্যমেই তাঁর সরব উপস্থিতি। সে কারণেই কান পাতলেই কোনো না কোনো জায়গা থেকে ভেসে আসে নন্দিত এই শিল্পীর কণ্ঠস্বর। অনুরাগীদের কণ্ঠেও হরহামেশা শুনতে পাওয়া যায় তাঁর গানগুলো। অনিন্দ্য কণ্ঠ আর অনবদ্য পরিবেশনা দিয়ে প্রায় সব শ্রেণির শ্রোতার মনোযোগ কেড়ে নেওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে কনার।

সেই সুবাদে সময়ের অন্যতম ভার্সেটাইল কণ্ঠশিল্পী হিসেবে গড়ে উঠেছে পরিচিতি। তাই প্রতিনিয়ত তাঁর কাছে শ্রোতার নতুন গানের প্রত্যাশা করা অবান্তর মনে হয় না। কনারও তাই থেমে থাকার অবকাশ মেলে না। সুরের টানে ছুটতে হয় দিগ্বিদিক। তবু এই ব্যস্ত জীবন ভালো লাগে কনার। তিনি বলেন, ‘কর্মই জীবন’– গুণীজনদের এ কথাটা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি বলেই থেমে থাকতে চাই না। তার চেয়ে বড় কথা হলো, আমার কাছে শ্রোতার যে প্রত্যাশা, তা পূরণ করার একটা দায় অনুভব করি সবসময়। তাই যখন যে মাধ্যমে সুযোগ পাই, মনপ্রাণ উজাড় করে গেয়ে যাই। গানে গানে নতুন কিছু শেখারও চেষ্টা করি। একজন পরিণত শিল্পী হয়ে ওঠার বাসনা থেকেই সংগীতের প্রতিটি মাধ্যমে নিরলস কাজ করে যাচ্ছি।’ কনার এ কথা থেকে এটা তো বোঝা গেল যে, কতটা ব্যস্ত সময় পার করছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, একের পর এক গান গেয়ে তিনি কি শুধু কাজের সংখ্যাই বাড়িয়ে যাচ্ছেন, নাকি সেখানে থাকছে সময়ের ছাপ?

এ প্রশ্ন মনে উঁকি দিতেই আমরা নজর দিলাম তাঁর সর্বশেষ কাজের তালিকায়। দেখা গেল, সংখ্যা বাড়ানোর তাগিদে সস্তা জনপ্রিয়তার স্রোতে আদৌ গা ভাসাননি এই কণ্ঠশিল্পী; বরং প্রতিটি আয়োজনে নিজেকে নতুনভাবে উপস্থাপন করেছেন। একই সঙ্গে গায়কীতে নিজেকে ভেঙে নতুনভাবে তুলে ধরার চেষ্টাও ছিল তাঁর। নিরীক্ষাধর্মী আয়োজন থেকেই পিছিয়ে আসেননি। এসব দেখে কনার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, শিল্পীজীবনের এই ব্যস্ত শিডিউল মেলান কীভাবে? এর উত্তর দিতে গিয়ে কনা হেসে বলেন, এ বিষয়টা আমার কাছেও এক রহস্য।

জানি না কীভাবে যেন সবকিছু ম্যানেজ করে ফেলি। কোথাও বেড়াতে গেলাম, তখনও অনুভব করি মনের মধ্যে সুরের খেলা চলছে। ঘরোয়া আড্ডাতেও ঘুরেফিরে চলে আসে গানের প্রসঙ্গ। আসলে যখন যা কিছুই করতে চাই, তার মধ্যে সংগীতের আবহ খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করি। যা থেকে প্রমাণ হয়, সংগীতের নেশায় আমি পুরোপুরি আসক্ত, সাত সুরের বন্ধন থেকে নিজেকে মুক্ত করা সম্ভব নয়। তাই প্রতিদিনের রুটিনে সিংহভাগ সময় সংগীতের দখলেই থেকে যায়; যার জন্য আলাদা করে শিডিউল তৈরি করতে হয় না। শুধু লিখে রাখা জরুরি কোনো কোথায় রেকর্ডিং, কবে কোথায় শো। আর এভাবেই আমি পাড়ি দিয়ে চলেছি, শিল্পীজীবনের পথ।’ v

.

উৎস: Samakal

এছাড়াও পড়ুন:

‘আর কোনো দিন বাবার সঙ্গে কথা বলতে পারব না’

‘‘যাওয়ার সময় বাবা বলেছিল, তুই যাবি নে? আমি বলেছিলাম, না বাবা আমার শরীর খারাপ। বমি হচ্ছে, আমি যাব না। বাবা বলেছিল, আর কোনো জায়গায় তোকে নিয়ে যাব না। ওই দিন বাবার সঙ্গে শেষ কথা হয়েছিল। আর কোনো দিন কথা বলতে পারব না বাবার সঙ্গে। বাবা আমারে কয়ে থুয়ে গেছিল, তুই থাকিস আমি আসবনে।’’ 

বাবার মরদেহের পাশে বসে কাঁদতে কাঁদতে কথাগুলো বলছিল চট্টগ্রামের জাঙ্গালিয়া এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত কুষ্টিয়ার আশীষ মন্ডলের ৯ বছরের মেয়ে আনুশকা মন্ডল পরী।

এর আগে বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে আশীষের মরদেহ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স কুষ্টিয়া শহরের কুমারগাড়া ঘোষপাড়ায় বাড়িতে পৌঁছালে তার স্বজনেরা আহাজারি করতে থাকেন। তাকে শেষবারের মতো এক নজর দেখার জন্য ভিড় করে এলাকাবাসী। বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বার বার মূর্ছা যাচ্ছিলেন আশীষের স্ত্রী। স্বজনেরা তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছিলেন। সে সময় পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন আশীষের শ্বশুর মিহির বিশ্বাস। 

আরো পড়ুন:

চট্টগ্রামে সড়কের সেই অংশে লাল পতাকা স্থাপন

মোটরসাইকেলে এক পরিবার, যশোরে বাসের ধাক্কায় শেষ তিনজন

কথা হলে চোখ মুছে তিনি বলেন, ‘‘গত রবিবার (৩০ মার্চ) কুষ্টিয়া থেকে আশীষ তার ভাইয়ের ছেলে দুর্জয়কে নিয়ে পিকনিকে যাওয়ার জন্য ঢাকায় বোনের বাড়িতে যায়। সেখানে থেকে বোন সাধনা রানী মন্ডল, ভগ্নিপতি দিলীপ কুমার বিশ্বাস, ভাগনি আরাধ্য বিশ্বাসসহ কয়েকজন মাইক্রোবাসে কক্সবাজার যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় পড়ে। এতে আশীষ, তার বোন ও ভগ্নিপতির মৃত্যু হয়।’’ ওই সড়ক দুর্ঘটনায় মোট ১০ জন মারা যায়। 

তিনি বলেন, ‘‘আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে আশীষের নিথর দেহ বাড়িতে পৌঁছেছে। এখন কীভাবে চলবে এই পরিবার এই ভেবে আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ছে।’’

স্বজন ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আশীষ মন্ডল স্থানীয় বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করতেন। কর্মস্থলের কাছাকাছি কুষ্টিয়া শহরের নিজ বাড়িতে স্ত্রী ও এক মেয়েকে নিয়ে থাকতেন। খুব ছোটবেলায় মামা তাকে গ্রাম থেকে নিয়ে এসেছিলেন। সেই সূত্রে মামা বাড়ির পাশেই জমি কিনে স্থায়ী বসবাস করছেন। নিহত আশীষ মন্ডল কুমারখালী উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামের মৃত যতীন্দ্রনাথ মন্ডলের ছেলে। 

এদিকে, ভাগনেকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ মামা গোপাল চন্দ্র বিশ্বাস। কথা হলে তিনি বলেন, ‘‘আশীষের যখন দেড় বছর বয়স, তখন আমি তাকে আমার কাছে নিয়ে এসেছি। সন্তানের মতো কোলে-পিঠে করে তাকে বড় করেছি।’’

কুষ্টিয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে পড়াশোনা করে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করছিল আশীষ। বিবাহিত জীবনে তার ৯ বছরের একটি মেয়ে আছে। 

ঢাকা/কাঞ্চন/বকুল

সম্পর্কিত নিবন্ধ