থাই হাসপাতাল ছাড়ছে মিয়ানমারের শরণার্থীরা
Published: 30th, January 2025 GMT
বিদেশে মার্কিন সহায়তা স্থগিত করতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিশ্বজুড়ে। ইতোমধ্যেই দেশটির অর্থায়নে চলমান প্রকল্পের কাজ বন্ধ বা স্থগিত করা হয়েছে। এ অবস্থায় বন্ধ করা হয়েছে জাতিসংঘের বিভিন্ন সাহায্য সংস্থার কার্যক্রম।
এর প্রভাবে থাইল্যান্ড-মিয়ানমার সীমান্তে লাখ লাখ শরণার্থীকে চিকিৎসা দেওয়া স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলো বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি (আইআরসি)। বাধ্য হয়ে থাই কর্মকর্তারা এখন কেন্দ্রগুলোর গুরুতর অসুস্থ রোগীদের অন্য হাসপাতালে সরিয়ে নিচ্ছেন।
স্থানীয় এক কর্মকর্তা ও ক্যাম্প কমিটির দুই সদস্যের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় ক্লিনিকগুলোতে অর্থ দেওয়া আইআরসি আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে সীমান্তের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলো বন্ধ করতে বলেছে। এ প্রসঙ্গে মন্তব্য চাইলেও আইআরসি তাতে সাড়া দেয়নি।
বিশ্বজুড়ে বৈদেশিক সহায়তায় পরিমাণের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অবদান সর্বোচ্চ। কিন্তু আমেরিকা ফার্স্ট নীতিকে প্রাধান্য দেওয়া ট্রাম্প ক্ষমতায় যাওয়ার প্রথম দিনেই প্রায় সব বৈদেশিক সহায়তা কর্মসূচি স্থগিত করার নির্বাহী আদেশ জারি করেন। তাঁর এ স্থগিতাদেশ বৈশ্বিক সহায়তা খাতকে ব্যাপক অস্থিরতার দিকে ঠেলে দেয়।
মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ট্রাম্পের স্থগিতাদেশ সত্ত্বেও জীবনরক্ষাকারী মানবিক ত্রাণ সহায়তা বন্ধ থাকবে না। তাদের এই ছাড়ে থাই-মিয়ানমার সীমান্তের হাসপাতালগুলো চালু থাকবে কিনা, কিংবা লাখ খানেক লোককে আশ্রয় দেওয়া ৯টি ক্যাম্পের কতটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র উপকৃত হবে, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সীমান্তের এসব স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলো যুদ্ধবিধ্বস্ত মিয়ানমারের লাখ লাখ লোককে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছিল।
থাইল্যান্ডের পশ্চিমাঞ্চলীয় তাক প্রদেশের থা সং ইয়াং জেলার মায়ে লা ক্যাম্পের শরণার্থী কমিটির সদস্য বুয়েহ সে ও স্থানীয় এক স্কুলশিক্ষক বুধবার জানান, আইআরসি ইতোমধ্যেই স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলো থেকে অনেক রোগীকে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছে। পাশাপাশি তারা অন্তঃসত্ত্বা নারী ও অক্সিজেন ট্যাঙ্কের ওপর নির্ভরশীল শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত রোগীদের সরঞ্জাম ও ওষুধ সরবরাহও বন্ধ করে দিয়েছে। ক্যাম্পের পানি সরবরাহ ও আবর্জনা নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনায় সংস্থাটির সহায়তাও বন্ধ বা সংকুচিত হচ্ছে, বলেছেন তারা।
সহায়তা স্থগিতে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তে শরণার্থী ক্যাম্পগুলোর মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা ক্ষতিগ্রস্ত হবে– এমন উদ্বেগ বাড়ছে, বলেছেন দক্ষিণ মিয়ানমারের সংগঠন হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন অব মোনল্যান্ডের (হারফম) প্রকল্প পরিচালক নাই অয়ে মোন।
তাক প্রদেশের গভর্নর চুচিপ পংচাই থাই বলেছেন, গুরুতর অসুস্থ রোগীদের স্থানীয় প্রাদেশিক হাসপাতালগুলোতে স্থানান্তর করা হবে। থাই কর্মকর্তারা আইআরসির কাছে তাদের যন্ত্রপাতি ব্যবহারের অনুমতিও চেয়েছেন। থা সং ইয়াং হাসপাতালের পরিচালক ড.
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের পর জাতিসংঘ সংস্থাগুলো তাদের বৈশ্বিক সহায়তা কার্যক্রম বন্ধ করতে শুরু করেছে। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের প্রধান ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি বলেন, ১৩৬টি দেশের বাস্তুচ্যুত ১২২ মিলিয়ন মানুষকে জীবনরক্ষাকারী সহায়তা প্রদান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। মার্কিন তহবিল স্থগিত হওয়ায় এ কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে বলে দেশগুলোকে ই-মেইলের মাধ্যমে জানানো হয়েছে।
উৎস: Samakal
কীওয়ার্ড: শরণ র থ
এছাড়াও পড়ুন:
ত্রাণবাহী গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ছে মিয়ামারের সেনারা
ত্রাণবাহী গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ছে মিয়ামারের সেনারা। বিষয়টি ভূমিকম্পের পর বিধ্বস্ত এলাকাগুলোতে ত্রাণ সরবরাহকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে বলে বুধবার জানিয়েছে রয়টার্স।
২০২১ সালে নোবেল বিজয়ী অং সান সু চির নির্বাচিত বেসামরিক সরকারের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমার পরিচালনা করতে সেনাবাহিনীকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর অর্থনীতি এবং স্বাস্থ্যসেবা সহ মৌলিক পরিষেবাগুলো ভেঙে গেছে।
জান্তার মুখপাত্র জাও মিন তুন জানিয়েছেন, মঙ্গলবার রাতে চীনা রেড ক্রস জানায়নি যে তারা একটি সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে রয়েছে। স্থানীয় যানবাহনসহ কনভয়টি থামাতে ব্যর্থ হওয়ার পরে একটি নিরাপত্তা দল ফাঁকা গুলি চালায়।
চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র জানিযেছেন, ত্রাণবাহী দল ও সরবরাহ নিরাপদে রয়েছে এবং উদ্ধারকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য মিয়ানমারের সকল পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
গুও জিয়াকুন এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “ত্রাণ তৎপরতার জন্য পরিবহন রুট খোলা ও বাধাহীন রাখা জরুরি।”
মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, শুক্রবারের ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২ হাজার ৮৮৬ জনে দাঁড়িয়েছে এবং ৪ হাজার ৬৩৯ জন আহত হয়েছে।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ জানিয়েছে, সাগাইং অঞ্চলের গ্রামীণ অংশগুলো বেশিরভাগই সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইরত সশস্ত্র প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলির নিয়ন্ত্রণে।
গ্রুপটি এক বিবৃতিতে বলেছে, “সরকারি বিধিনিষেধ, স্থানীয় প্রশাসনের জটিল বিন্যাস ও সশস্ত্র প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণ এবং ক্রমাগত সংঘাতের কারণে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর জন্য ত্রাণ পৌঁছানো সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং হবে।”
সাগাইং ভ্রমণকারী একজন ব্যক্তি রয়টার্সকে বলেছেন, “শহরের সর্বত্র সেনা রয়েছে। তারা নিরাপত্তার জন্য আছে, উদ্ধারের জন্য নয়। তারা প্রতিটি যানবাহন তল্লাশি করে।”
নিউইয়র্কভিত্তিক হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জান্তা সরকারকে মানবিক সাহায্যের জন্য অবাধ প্রবেশাধিকার দেওয়ার এবং সাহায্য সংস্থাগুলোকে বাধা প্রদানের বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
ঢাকা/শাহেদ