গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সুষ্ঠু নির্বাচন দরকার বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, ৩১ দফা জনগণের জন্য তৈরি। জনগণের পক্ষ থেকে আসা প্রশ্ন নিয়েই ৩১ দফা প্রস্তুত করা হয়েছে। যেহেতু জনগণের বাকস্বাধীনতার জন্য আমরা লড়াই করেছি, গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছি। সেই জন্য আমাদের দায়িত্ব অনেক বেশি। দেশের সকল সংকটকালে বিএনপি পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। মানুষও বিএনপির প্রতি আস্থা রেখেছে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য দরকার একটি সুষ্ঠু নির্বাচন।

বুধবার সন্ধ্যায় যশোর জেলা বিএনপি আয়োজিত রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কারের ৩১ দফা শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সকাল সাড়ে ১০টায় শহরের একটি অভিজাত হোটেলে কর্মশালার উদ্বোধন করেন বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

তারেক রহমান বলেন, জনগণ যদি আপনার পিছনে না থাকে, তাহলে আপনি কিসের নেতা? মানুষ আমাদের ওপর আস্থা রাখতে চাইছে। এই আস্থা নষ্ট করার জন্য যদি কেউ কোনো কাজ করে, তাহলে তাকে তো আমি টানবো না। এখানে দলকে স্বার্থপর হতেই হবে।

তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি, কর্মী, নেতার কারণে যদি মানুষের আস্থা নষ্ট হয়, তাকে আমরা ওন (নিজের) করতে পারবো না। আমরা বহু ঝড়-ঝঞ্ঝার মধ্যদিয়ে আজ এখানে এসে দাঁড়িয়েছি। বহু অত্যাচার-নির্যাতনের মধ্যদিয়ে আজকে এখানে এসে দাঁড়িয়েছি। কেউ নিজের স্বার্থ নিয়ে দলের স্বার্থ নষ্ট করলে তাকে আমাদের পক্ষে টানা সম্ভব নয়।

তারেক রহমান আরও বলেন, কেউ কেউ বলে যারা অপরাধ করেছে, ভুল করেছে তাদের সঙ্গে আমাদের দলের সম্পর্ক ছিন্ন করেছি। এতে কী হবে। কী হবে সেটা পরের ব্যাপার। কিন্তু আমার অবস্থান পরিষ্কার করেছি। আমরা যতটুকু জানছি, সাথে সাথে ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। যখন যেটা জানবো ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। আমাদের অবস্থান পরিষ্কার করছি।

দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, কেউ যদি বলে, আমরা খারাপ মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে চায় না। অন্তত এ ব্যাপারে আমরা পরিষ্কার থাকবো। মুখে বলব একটা, কাজে করব আরেকটা, তা নয়। আমরা যা মুখে বলছি, তা আমরা কাজে প্রমাণ করার চেষ্টা করবো। তার প্রতিফলন থাকবে। একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে যাতে সর্বোচ্চ করতে পারি, আমরা সেটিই করছি। আমরা যদি সরকারে থাকতাম, তাহলে আমরা যেটা করতে পারতাম, দলের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার পাশাপাশি দেশের আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতাম। এই মুহূর্তে আমরা সেই অবস্থানে নেই। কাজেই সেই অবস্থানে যদি আমাদের যাওয়ার সুযোগ হয়, আজকে যেমন শুধু দলের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করছি। তেমন সরকারে থাকলে অন্যায়কারী যেই হোক না কেন, আমরা মুখে যেটা বলি, কাজেও সেটির প্রমাণ দেওয়ার চেষ্টা করব।

৫ আগস্ট থেকে দলের নেতাকর্মীদের শিক্ষা নিয়ে জনগণের সঙ্গে থাকার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, রাজনৈতিক কর্মী, নেতারা যদি জনবিচ্ছিন্ন হয়, জনগণের বিরুদ্ধে, দেশের বিরুদ্ধে কাজ করলে কী পরিণতি হয়, আমরা ৫ আগস্ট দেখেছি। ৫ আগস্ট থেকে আমাদের অনেক কিছুই শেখার আছে। রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কারে ৩১ দফার প্রশিক্ষণ আমরা করছি। ৩১ দফা জনগণের কাছে নিয়ে যাবো। ৩১ দফা আমাদের অনুধাবন করতে হবে, বাস্তবায়ন করতে হবে। জনগণের পাশে থাকতে হবে। জনগণকে সঙ্গে রাখতে হবে। জনগণ থেকে যদি দূরে সরে যায় আমরা। তাহলে ওই ৫ আগস্টের পরিণতি আমাদের হবে। ৫ আগস্টের পরিণতি থেকে দূরে থাকতে হলে, জনগণের সঙ্গেই থাকতে হবে। আমরা সবাই কষ্ট করছি। আগামী দিনে যাতে দল সুফল পায়, আপনি আমি সুফল পায়, সেইজন্য আমাদের কাজ করতে হবে।

যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক নার্গিস বেগমের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ইসমাইল জাবিউল্লাহ, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশারফ হোসেন, সহপ্রশিক্ষণ সম্পাদক রেহানা আক্তার রানু, কেন্দ্রীয় মিডিয়া সেলের সদস্য মাহমুদা হাবীবা, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ফজলুর রহমান খোকন, ইকবাল হোসেন শ্যামল ও পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির সদস্য ইসরাফিল খসরু চৌধুরী, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু প্রমুখ। 

এ কর্মশালার দ্বিতীয়ার্ধে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। কর্মশালায় যশোর জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।

.

উৎস: Samakal

কীওয়ার্ড: ত র ক রহম ন ত র ক রহম ন গণতন ত র অবস থ ন ৫ আগস ট ব এনপ র র সদস য জনগণ র দল র স র জন য

এছাড়াও পড়ুন:

কোন কোন উপদেষ্টাকে সরাতে বলেছেন মির্জা ফখরুল

শুরু থেকেই অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে বিএনপির টক্কর লেগে আছে। আবার সরকারও যে বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থানে সন্তুষ্ট নয়, সে কথা হাবেভাবে উপদেষ্টারা জানিয়ে দিচ্ছেন। বিএনপি যখনই দ্রুত নির্বাচনের দাবি সামনে আনে; ছাত্রনেতাদের পক্ষ থেকে বলা হয়,  সংস্কারের আগে কোনো নির্বাচন নয়।

সংস্কার ও নির্বাচন পরস্পরের প্রতিপক্ষ নয়। তারপরও কেউ কেউ এটাকে প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করাচ্ছেন। কয়েক মাস ধরে নির্বাচনের দিনক্ষণ নিয়ে যে বিএনপির সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের একটা টানপোড়েন চলছে, এটা স্পষ্ট। সংস্কার নিয়ে সরকারের সঙ্গে  রাজনৈতিক দলগুলোর বৈঠকেও কোনো আশার বাণী শোনা যাচ্ছে না।  যে যার অবস্থানে অনড় আছেন।

ছাত্রনেতৃত্ব থেকে গড়ে ওঠা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নতুন বন্দোবস্তের কথা বললেও তাদের কৌশল ও আচরণে পুরোনো রাজনীতির ধারাই বহমান। এনসিপি বলেছে, বিচার ও সংস্কার শেষ হোক, তারপর নির্বাচন। বিএনপির  দাবি, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে যেটুকু সংস্কার দরকার, সেটুকু করা হোক। এর বেশি তারা মানবে না।
বিএনপির প্রবল চাপ সত্ত্বেও প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করেননি। অনেকে বলবেন, নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করার দায়িত্ব কমিশনের। কিন্তু তারা যখন ডিসেম্বের কথা মাথায় রেখে প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা সেই পুরোনো কথাই শোনালেন। চলতি বছরের ডিসেম্বর থেকে আগামী বছরের জুনের মধ্যে নির্বাচন হবে।

এর আগে বলা হয়েছিল, রাজনৈতিক দলগুলো কম সংস্কার চাইলে চলতি বছরের শেষে এবং বেশি সংস্কার চাইলে আগামী বছরের জুনের মধ্যে নির্বাচন হবে। আবার সরকারের পক্ষ থেকে কেউ কেউ ডিসেম্বর বা মার্চের কথাও বলেছেন। ডিসেম্বর, মার্চ ও জুনের গোলক ধাঁধা থেকে সরকার কবে বেরিয়ে আসবে?

বিএনপির নেতারা সরকারের সদিচ্ছা নিয়েও সন্দেহ করেছেন। এর কারণ নতুন করে কেউ কেউ জাতীয় সরকার গঠনের কথা বলছেন। এনসিপির একজন নেতা পাঁচ বছর মুহাম্মদ ইউনূসকে ‘প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে দেখতে চাওয়ার কথা বলেছেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাইলে তাঁকে তো নির্বাচিত হতে হবে।

৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর যখন বৈষম্যবিরোধী ছাত্রআন্দোলনের নেতারা  রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে জাতীয় সরকার  গঠনের প্রস্তাব দেন, তখন বিএনপি রাজি হয়নি। ফলে অন্যান্য দলকেও পিছিয়ে আসতে হয়েছে এবং মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অরাজনৈতিক চরিত্রের একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। সেটাই সঠিক ছিল। কিন্তু এরপরই আন্দোলনকারী ছাত্রপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে তিনজনকে উপদেষ্টা করা হলে অরাজনৈতিক সরকারের রাজনৈতিক চরিত্র পায়।

বিএনপির সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের বিরোধের এটাও  অন্যতম কারণ। দ্বিতীয়ত যেই ছাত্রনেতৃত্ব জুলাই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিল, তারাও কয়েক ভাগে বিভক্ত। কেউ দল করেছেন, কেউ আগের অবস্থানে অনড় আছেন, কেউ সাংস্কৃতিক মঞ্চ করেছেন। এদের বাইরে আরেকটি গ্রুপ এনসিপির বাইরে আরেকটি নতুন দল করার ঘোষণা দিয়েছেন।

নির্বাচন নিয়ে উপদেষ্টা পরিষদের মধ্যে মতভেদ আছে বলেও বিভিন্ন সময়ে সংবাদমাধ্যমে এসেছে। একপক্ষ মনে করে, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করে দিয়ে যৌক্তিক সময়ে বিদায় নেওয়াই তাদের কর্তব্য। কিন্তু অপর পক্ষের ধারণা, সংস্কার ছাড়া নির্বাচন হলে ফের স্বৈরাচারের পুনরাগমন ঘটবে। কেবল একটি নির্বাচন করার জন্য এত বড় গণঅভ্যুত্থান হয়নি। তাদের বক্তব্যে এনসিপির নেতাদের প্রতিধ্বনি আছে বলে মনে করেন বিএনপি নেতৃত্ব।

এ পটভূমিতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঈদের আগের দিন রোববার সংবাদ সম্মেলন করে অন্তর্বর্তী সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন, এমন উপদেষ্টাদের অপসারণ চেয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের উচিত, সেই সব উপদেষ্টার অপসারণ করা, যাঁরা তাঁর সরকারের নিরপেক্ষতা নষ্ট করছেন এবং সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন।’

মির্জা ফখরুল কোনো উপদেষ্টার নাম বলেননি। তবে এই বলে সতর্ক করে দিয়েছেন যে, ‘আসন্ন নির্বাচনের আগে সরকার নিরপেক্ষতা হারালে বিএনপি তা কোনোভাবেই মেনে নেবে না। আমরা সরকারের পূর্ণ নিরপেক্ষতা প্রত্যাশা করি, বিশেষ করে অধ্যাপক ইউনূসের কাছ থেকে। যদি তিনি অনুভব করেন যে তাঁর মন্ত্রিসভার( উপদেষ্টা পরিষদের) কেউ নিরপেক্ষতা নষ্ট করছেন, তবে তাঁদের অপসারণ করা উচিত। তাঁকে (ড. ইউনূস) সম্পূর্ণ স্বচ্ছ থাকতে হবে। যদি প্রধান উপদেষ্টা এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেন, তাহলে জনগণের মধ্যে এমন ধারণা তৈরি হবে যে এ সরকার নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে।’

কথায় বলে বুদ্ধিমানের জন্য ইশারাই যথেষ্ট। বিএনপির মহাসচিব কাদের ইংগিত করেছেন, তাঁরা নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন। তাঁর ভাষায়, ‘সরকারের কিছু উপদেষ্টা একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের স্বার্থে সরকারি সম্পদ অপব্যবহার করে থাকেন, সেটা নিশ্চয়ই সরকারের নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন করে’।  রাজনৈতিক সরকারের সময়ে নির্বাচনী বৈতরণী পর হতে দলীয় নেতাদের নামে বরাদ্দ দেওয়া হতো বা প্রকল্প নেওয়া হতো। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের তো কোনো রাজনৈতিক অভিলাষ থাকার কথা নয়। তারপরও বিশেষ বিবেচনায় কোথাও কোথাও বরাদ্দ হচ্ছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আপত্তি সেখানেই।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র সফরে থাকা স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন না হলে দেশে অস্থিতিশীলতা এবং ‘জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ’ দেখা দেবে। তাঁর মতে, ডিসেম্বর হচ্ছে সর্বসম্মত সময়সূচি। নির্বাচন এর পরে গেলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠবে। বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দেবে।’

রয়টার্স বলছে, শেখ হাসিনা ও তাঁর দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা পলাতক থাকায় আওয়ামী লীগ কার্যত ভেঙে পড়েছে। এ ক্ষেত্রে আগামী নির্বাচনে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারে নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বাধীন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ছাত্রনেতারা বাংলাদেশের প্রাচীন দল দুটির বাইরে এসে নতুন করে পরিবর্তনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ঈদের কুশল বিনিময়ের সময় আরেক ধাপ এগিয়ে বলেছেন,  একটি শক্তি ক্ষমতায় থাকার জন্য নতুন নতুন পন্থা বের করছে; কিন্তু ফ্যাসিস্টরা দাঁড়াতে পারেনি। এই শক্তিও যাতে দাঁড়াতে না পারে, সে জন্য বাংলাদেশের মানুষ প্রস্তুত রয়েছে।

তিন জ্যেষ্ঠ নেতার বক্তব্য থেকে এটাই ধারণা করা যায় যে তারা ডিসেম্বরে নির্বাচনের প্রশ্নে বিএনপি ছাড় দিতে নারাজ। এর আগে দলের একাধিক নেতা গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারে আন্দোলনে যাওয়ারও ইংগিত দিয়েছেন।

নির্বাচন নিয়ে উপদেষ্টা পরিষদের মধ্যে মতভেদ আছে বলেও বিভিন্ন সময়ে সংবাদমাধ্যমে এসেছে। একপক্ষ মনে করে, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করে দিয়ে যৌক্তিক সময়ে বিদায় নেওয়াই তাদের কর্তব্য। কিন্তু অপর পক্ষের ধারণা, সংস্কার ছাড়া নির্বাচন হলে ফের স্বৈরাচারের পুনরাগমন ঘটবে। কেবল একটি নির্বাচন করার জন্য এত বড় গণঅভ্যুত্থান হয়নি। তাদের বক্তব্যে এনসিপির নেতাদের প্রতিধ্বনি আছে বলে মনে করেন বিএনপি নেতৃত্ব।

তাহলে কি আমরা আরেকটি অচলাবস্থার দিকে যাচ্ছি?

সোহরাব হাসান, কবি ও প্রথম আলোর যুহ্ম সম্পাদক

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • সংস্কার-নির্বাচন নিয়ে বিএনপিকে টার্গেট করে প্রচারণা চালানো হচ্ছে: মির্জা ফখরুল
  • ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত মিয়ানমারকে ৩০ লাখ ডলার অনুদান দেবে এডিবি
  • কখনো বলিনি, আগে নির্বাচন, পরে সংস্কার: মির্জা ফখরুল 
  • বিএনপি কখনো বলেনি আগে নির্বাচন পরে সংস্কার, ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে: মির্জা ফখরুল
  • কোন কোন উপদেষ্টাকে সরাতে বলেছেন মির্জা ফখরুল
  • গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান খালেদা জিয়ার
  • গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে: খালেদা জিয়া
  • ফ্যাসিস্টমুক্ত এই বাংলাদেশ যাতে কেউ পরিবর্তন করতে না পারে: আমীর খসরু
  • একটি শক্তি ক্ষমতায় থাকার জন্য নতুন নতুন পন্থা বের করছে: আমীর খসরু
  • আশা করি অন্তবর্তী সরকার জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পালন করবে: মির্জা ফখরুল