‘লোকে না জেনে না বুঝে আমাদের নিয়ে রিউমার ছড়াচ্ছে’
Published: 29th, January 2025 GMT
শেখ সাদী। সংগীতশিল্পী। গান নিয়ে চর্চায় থাকলে সাম্প্রতিক সময়ে পরীমণির সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে চর্চায় তিনি। বেশ ক’দিন ধরে পরীমণির সঙ্গে তাঁকে দেখা যাচ্ছে। সর্বশেষ পরীমণির জামিনে তিনি জামিনদারও হয়েছেন। সাম্প্রতিক এই ইস্যু ও কাজের ব্যস্ততার নানা প্রসঙ্গ নিয়ে কথা হয় তাঁর সঙ্গে।
নতুন গানের খবর কী?
নতুন গান বলতে, গেল মাসে ডিজে রাহাত ভাইয়ের সঙ্গে পুরোনো একটি গান রিমেক করেছি। আগামী মাসে সেটা প্রকাশ পাবে। এ ছাড়াও গত মাসে আমার একটি নতুন গান মুক্তি পেয়েছে। গানটিতে বেশ সাড়াও পেয়েছি। আজ ‘কুফা’ শিরোনামে আমার নতুন একটি গান মুক্তি পাবে। ফাঙ্কি-পপ মিক্সড ধরনের গান এটি। আমার বিশ্বাস, এ গানটিও শ্রোতাদের ভালো লাগবে।
ঈদে নতুন গান নিয়ে পরিকল্পনা কী?
ঈদের জন্য তো অবশ্যই পরিকল্পনা আছে। বড় পরিসরে ঈদে গান আসার কথা আছে। সেটা নিয়েই অলরেডি কাজ শুরু করেছি। তবে এখনই সেটা সম্পর্কে বলতে পারছি না। কিছুদিন পর সেটা জানাব।
আপনি গানের মানুষ, সিনেমার নায়িকা পরীমণির সঙ্গে আপনার সম্পর্ক নিয়ে চর্চা হচ্ছে। সম্পর্কটা কীভাবে ঘটল.
..
একই অঙ্গনে দীর্ঘদিন কাজ করার কারণে পরীমণির সঙ্গে বেশ আগেই পরিচয় হয়েছিল। আমরা একই সেক্টরে কাজ করি, সুতরাং পরিচয় তো হয়েই যায়। পেশাগত বিষয় নিয়ে তাঁর সঙ্গে আমার পরিচয়। নিয়মিত কথাবার্তাও হয়। এটা নিয়ে কিছু বলার তো কিছু দেখি না।
তাঁর সঙ্গে আদালতে গেলেন, জামিনদারও হলেন। ফলে পেশাগত সম্পর্কের বাইরেও নতুন সম্পর্ক নিয়ে চর্চা হচ্ছে...
যেহেতু তাঁর সঙ্গে আমার অনেক দিনের পরিচয়। জানাশোনাও আছে। নিজের দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে আদালতে গেছি। এখানে ভিন্ন কিছু ভাবার কারণ নেই। আরও একটু ব্যাখ্যা করে বলতে পারি, পরীমণি আমার সহকর্মী। তাঁর গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির খবর শুনে বেশ দুশ্চিন্তায় পড়ে যাই। তখন পরীমণির সঙ্গে কথা হয়। তিনি আমাকে জানিয়েছিলেন, আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন। জামিন হওয়ার পর তাঁর আইনজীবী একজন জামিনদার হন। আমিও আরেকজন জামিনদার হয়েছি। সেখানে উপস্থিত থাকার কারণেই এই জামিনদার হওয়া।
তবে অনেকেই তো বলছেন, পরীমণির সঙ্গে আপনার প্রেমের সম্পর্ক। এটা কি সত্যি নয়? সত্য?
না, না, একেবারেই না। পরীমণির সঙ্গে আমার তো প্রেমের সম্পর্কে কিছু হতেই পারে না। পারিবারিকভাবে আমাদের বোঝাপড়া ভালো। আমাদের পরিবারের সদস্যরা তাঁর বাসায় যায়। পরীমণিও আমাদের বাসায় আসেন। পারিবারিক সম্পর্কের বাইরে তাঁর সঙ্গে প্রেমের কোনো সম্পর্ক নেই। লোকে না জেনে না বুঝে আমাদের নিয়ে রিউমার ছড়াচ্ছে।
উৎস: Samakal
এছাড়াও পড়ুন:
উৎসবেও কেন আঁশসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া জরুরি
আঁশসমৃদ্ধ খাবারের সবচেয়ে বড় উপকারিতা হলো, এসব খাবার খেলে রক্তের খারাপ চর্বির মাত্রা কমে যায়। উৎসবের সময় এক দিকে থাকে ভারী খাবারদাবারের আয়োজন, আবার অনেকেই এ সময় শরীরচর্চা করেন না। লম্বা ছুটিতে এমন জীবনধারা বেছে নিলে কিন্তু রক্তে খারাপ চর্বির মাত্রা বাড়ার ঝুঁকি সৃষ্টি হয়। তাই এ সময় আঁশসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করা দারুণ অভ্যাস। সঙ্গে একআধটু শরীরচর্চা করতে পারলে তো খুবই ভালো হয়। তিনবেলা খাওয়ার পর ১০ মিনিট করেই নাহয় হাঁটুন। সুস্থ থাকবেন।
এ সময় আঁশের আরও উপকারিতা
আঁশসমৃদ্ধ খাবার পেটের জন্য ভালো। উৎসব-আয়োজনে জম্পেশ খাওয়াদাওয়ার পর পেটের পীড়ায় ভোগেন অনেকেই। এই সমস্যা প্রতিরোধে সহায়তা করতে পারে আঁশসমৃদ্ধ খাবার। আমাদের অন্ত্রে স্বাভাবিকভাবেই যেসব উপকারী জীবাণু থাকে, সেসবের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে খাবারের আঁশ। ফলে বাড়ে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা। তাতে পেটের পীড়ার ঝুঁকি কমে যায়। পর্যাপ্ত আঁশ গ্রহণ করলে কোষ্টকাঠিন্য এড়ানো সহজ হয়। আঁশসমৃদ্ধ খাবার খেলে বেশ লম্বা সময় ক্ষুধাও লাগে না। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়। ডায়াবেটিক রোগীদের ক্ষেত্রে রক্তের সুগার নিয়ন্ত্রণেও সহায়তা করে আঁশসমৃদ্ধ খাবার।
আরও পড়ুনআপনিও কি খাওয়ার পরে গ্যাসের ওষুধ খান? ১৫ আগস্ট ২০২৪কী খাবেন, কী এড়িয়ে চলবেন
নানান রকম ফলমূল এবং সবজি খাবেন। ফলের রসের চেয়ে গোটা বা টুকরা করা ফল ভালো। যেসব খোসা সমেত খেতে পারবেন, সেসবের খোসা ফেলবেন না। অন্তত একবেলা শাক খাওয়া ভালো। নানান ধরনের ডাল, বীজ, বাদাম প্রভৃতি খেতে পারেন। রিফাইনড বা পরিশোধিত শস্যের চেয়ে গোটা শস্যে বেশি আঁশ থাকে। লাল চাল বা লাল আটা বেছে নিতে পারেন। একবেলা হয়তো ওটস দিয়ে মজার কিছু তৈরি করে খেলেন। ইনস্ট্যান্ট নুডলস-জাতীয় প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খাওয়া উচিত। আঁশ যেমন খাবেন, পর্যাপ্ত পানিও খাবেন রোজ।
কতটা খাবেন আঁশ
রোজ একজনের গড়ে ২৮-৩৪ গ্রাম আঁশ প্রয়োজন। এতটা আঁশ কিন্তু রোজকার জীবনে অনেকেই গ্রহণ করেন না। তাই আঁশের মাত্রা বেশি হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি আদতে খুবই কম। ধরুন, আপনি ১০০ গ্রাম সবজি বা ফল খেলেন। এর ১০০ গ্রামই তো আর আঁশ নয়। সবজি বা ফলভেদে প্রতি ১০০ গ্রামের জন্য কিছু পরিমাণ আঁশ পাবেন আপনি। একেবারে গুগল থেকে আঁশের মাত্রা খুঁজে বের করে ক্যালকুলেটরে হিসাব করে খেতে হবে, তা কিন্তু নয়। খানিকটা কমবেশি হলে কোনো ক্ষতি নেই। চেষ্টা করুন আঁশ একটু বেশিই গ্রহণ করতে। তবে কেউ যদি একেবারে অতিরিক্ত আঁশ গ্রহণ করে ফেলেন, তাহলে অবশ্য তাঁর অ্যাসিডিটি, পেট ফাঁপা, পেটব্যথা বা পাতলা পায়খানার মতো কিছু সমস্যা হতে পারে।
আরও পড়ুনঅতিরিক্ত খেয়ে পেট ফাঁপলে উপায় কী?১৭ জুন ২০২৪উৎসবের পরও
উৎসবের পরও আঁশ খাওয়ার অভ্যাস বজায় রাখুন। উপকার মিলবে। রক্তের খারাপ চর্বি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, স্ট্রোকের ঝুঁকি কমবে। তাই আঁশসমৃদ্ধ খাবার খাবেন রোজ। তাতে প্রদাহের ঝুঁকিও কিন্তু কমে। ডায়াবেটিস এবং ক্যানসারের ঝুঁকিও কমে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। গবেষণা এমনটাও জানাচ্ছে, আঁশসমৃদ্ধ খাবার খেলে স্মৃতিভ্রমের ঝুঁকি কমে।
সূত্র: হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল
আরও পড়ুনকী খেলে আঁশ পাবেন২০ জানুয়ারি ২০১৭