ভোলায় পরিবহন শ্রমিকদের সংঘর্ষে আহত অর্ধশতাধিক, যানবাহনে আগুন
Published: 29th, January 2025 GMT
ভোলায় বাস শ্রমিকদের সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এতে সাংবাদিকসহ উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। এ সময় পাঁচটি অটোরিকশা ও দুটি বাসে আগুন দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ভোলার বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল বাস টার্মিনালে এ সংঘর্ষ হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, পুলিশ, কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সংঘর্ষের ঘটনায় বাস শ্রমিক ও অটোরিকশাচালকরা একে অপরকে দায়ী করে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছেন।
বাস মালিক সমিতির যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির সেলিম বলেন, পৌর সভার নির্দেশ অনুযায়ী অটোরিকশা মালিকদের আমরা বাসস্ট্যান্ড থেকে অটোরিকশা সরিয়ে নিতে বলেছি। এ কারণে তারা উত্তেজিত হয়ে আমাদের ওপর হামলা চালিয়ে বাসে আগুন দেয়। এর সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচার না করা পর্যন্ত জেলা অভ্যন্তরীণ রুটে সব বাস চলাচল বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন তিনি।
অটোরিকশা ও হালকা যান শ্রমিক সমিতির সভাপতি মাকসুদুর রহমান বলেন, উচ্ছেদের কোনো নোটিশ না দিয়ে বাস শ্রমিকরা আমাদের ওপর হামলা করেছে। অটোরিকশায় আগুন দিয়েছে। তাদের হামলায় ১৫ অটোরিকশাচালক আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ৬ জন ভোলা সদর হাসপাতাল ও একজন বরিশাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ভোলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রিপন কুমার সরকার বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। কতজন আহত হয়েছেন আমরা এখনও নিরূপণ করতে পারিনি। তালিকা হচ্ছে।
.উৎস: Samakal
কীওয়ার্ড: স ঘর ষ
এছাড়াও পড়ুন:
ভোলায় ছিনতাই–চাঁদাবাজির অভিযোগে তরুণকে পিটুনির পর চোখে আঘাত
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে মো. হাসান (২৩) নামের এক তরুণকে পিটুনি দিয়ে হাত–পা ভেঙে দেওয়ার পর দুই চোখ খুঁচিয়ে দিয়েছেন স্থানীয় জনতা। পরে মারা গেছে ভেবে তাঁকে ফেলে যান। গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার দেউলা ইউনিয়নের ঝিটকা বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে গ্রাম পুলিশের সহায়তায় হাসানকে উদ্ধারের পর বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে পুলিশ। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে ভোলার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই তাঁকে বরিশালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি বরিশালের শের–ই–বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হাসান উপজেলার দেউলা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের রতন মাঝির ছেলে।
বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নিরুপম সরকার প্রথম আলোকে বলেন, হাসানের চোখ তুলে নেওয়ার খবর সত্য নয়। ছুরি দিয়ে চোখ খুঁচিয়ে দিয়েছেন, তুলে ফেলেননি। হাত–পায়ের অবস্থা গুরুতর ছিল। এ জন্য উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই জেলা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
পুলিশ, চৌকিদার ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পিটুনির শিকার হাসান নিজের কাছে সব সময় ধারালো অস্ত্র রাখতেন। গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে তিনি এলাকায় ব্যাপক চাঁদাবাজি শুরু করেন। প্রায়ই পথে অটোরিকশা থামিয়ে চাঁদাবাজি ও ছিনতাই করতেন। গতকাল ঝিটকা বাজারের এক দোকানির কাছে চাঁদা আদায়ের সময় প্রতিবাদ করায় আরেক তরুণকে ছুরিকাঘাত করেন হাসান। এসব কারণে এলাকাবাসী তাঁর ওপর অতিষ্ঠ ছিলেন। ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী গতকাল রাতে হাসানকে ধরে পিটুনি দেন। পাশাপাশি দুই চোখ খুঁচিয়ে দেওয়া হয়। পিটুনির এক পর্যায়ে মারা গেছে ভেবে সড়কের পাশে ফেলে যান। খবর পেয়ে গ্রাম পুলিশকে নিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতাল নিয়ে যায় পুলিশ।
হাসানের বাবা রতন মাঝি বলেন, দুই দিন আগে এলাকার রুবেলের সঙ্গে হাসানের মারামারি হয়। ওই ঘটনার জেরে গতকাল রাতে হাসানকে ঝিটকা বাজারে ডেকে নিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে ছুরি দিয়ে চোখ খুঁচিয়ে দেন। আহত হাসানের দাবি, তিনি নিরপরাধ। পূর্বশত্রুতার জেরে তাঁর বিরুদ্ধে ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের অভিযোগ করা হচ্ছে। তাঁর ওপর হামলা ও নির্যাতনের ঘটনার বিচার চেয়েছেন তিনি।
বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সিদ্দিকুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, হাসান এলাকায় চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। তাঁর বিরুদ্ধে থানায় দুটি মামলা আছে। এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে তাঁকে পিটুনি দেন। খবর পেয়ে গ্রাম পুলিশের সহায়তায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ। তিনি বলেন, এ ঘটনায় থানায় কেউ কোনো অভিযোগ করেননি।