বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টেই থাকবে এসকে সুরের মুদ্রা-সোনা
Published: 28th, January 2025 GMT
সাবেক ডেপুটি গভর্নর সিতাংশু কুমার সুর (এসকে সুর) চৌধুরীর লকার থেকে জব্দ করা বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালংকার বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আদালতের নির্দেশ ছাড়া কেউ সেই ভল্ট খুলতে পারবেন না বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. জাকির হোসেন গালিব দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, দুদকের উপ-পরিচালক নাজমুল হুসাইন জব্দ করা এমটিডিআর, মার্কিন ডলার, ইউরো এবং স্বর্ণালংকার ট্রেজারি/উপযুক্ত স্থানে রাখার আদেশ চেয়ে আবেদন করেন।
দুদকের প্রসিকিউটর মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর শুনানি করেন। শুনানি শেষে আদালত জব্দ করা বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণলংকার বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে রাখার নির্দেশ দেন।
এর আগে গত ২২ জানুয়ারি এ লকার জব্দের আদেশ চেয়ে আবেদন করা হয়। আদালত আবেদন মঞ্জুর করলে ২৬ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকে থাকা এসকে সুরের তিনটি লকার খুলতে সক্ষম হয় দুদকের সাত সদস্যের দল। সেখান থেকে ৫৫ হাজার ইউরো, ১ লাখ ৬৯ হাজার ৩০০ ডলার এবং ১ কেজি ৫ গ্রাম স্বর্ণ ও ৭০ লাখ টাকার এফডিআরের নথি পাওয়া গেছে।
গত ১৪ জানুয়ারি দুদকের একটি দল রাজধানীর সেগুনবাগিচা থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর এসকে সুরকে গ্রেপ্তার করে। ওই দিনেই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
ঢাকা/মামুন/রফিক
.উৎস: Risingbd
এছাড়াও পড়ুন:
বাংলাদেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ৩৭ শতাংশ শুল্ক নিয়ে যা বললেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব
বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এ তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশের নামও। বুধবার ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় বিকেলে হোয়াইট হাউসের রোজ গার্ডেনে সংবাদ সম্মেলন করে নতুন করে শুল্কারোপের ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ট্রাম্পের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩৭ শতাংশ করা হয়েছে। বিশ্বব্যাপী আরোপ করা এ শুল্ককে ‘বাণিজ্য যুদ্ধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করছে অনেক দেশ। এ নিয়ে কথা বলেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনুসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শফিকুল আলম তার ফেসবুক আইডিতে একটি স্ট্যাটাস দেন। তাতে তিনি লিখেন, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর শুল্ক পুনর্বিবেচনা করছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড দ্রুত শুল্ক যুক্তিসঙ্গত করার বিকল্পগুলি চিহ্নিত করছে, যা বিষয়টি সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয়।
পোস্টে শফিকুল আলম আরও লেখেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং আমাদের বৃহত্তম রপ্তানি গন্তব্য। ট্রাম্প প্রশাসন দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য আমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করে আসছি। মার্কিন সরকারের সঙ্গে আমাদের চলমান কাজ শুল্ক সমস্যা সমাধানে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি বাজার যুক্তরাষ্ট্র, যেখানে বছরে প্রায় ৮.৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়, যার বড় অংশই তৈরি পোশাক শিল্পে। নতুন শুল্ক বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশি পোশাক রপ্তানি ব্যাহত হতে পারে, যা অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। তবে শুধু বাংলাদেশের ওপরই নয়, বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপরও শুল্ক বৃদ্ধি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
ভারতীয় পণ্যের ওপর ২৬%, পাকিস্তানের ওপর ২৯%, চীনের ওপর ৩৪% এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওপর ২০% শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এতদিন বাংলাদেশি পণ্যের ওপর মার্কিনিদের গড়ে ১৫ শতাংশ করে শুল্ক ছিল। গতকাল বুধবার বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ৩৭ শতাংশ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র জানায়, মার্কিন পণ্যে বাংলাদেশের আরোপিত শুল্ক ছিল ৭৪ শতাংশ।