টিকটক কিনতে আগ্রহী মাইক্রোসফট: ট্রাম্প
Published: 28th, January 2025 GMT
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি জানিয়েছেন টেক জায়ান্ট মাইক্রোসফট জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাপ টিকটক কেনার বিষয়ে আলোচনা করছে। তিনি আরও জানান, আমি চাই এই সামাজিক জনপ্রিয় অ্যাপটি কেনার জন্য একটি "বিডিং যুদ্ধ" বা প্রতিযোগিতা হোক।
এই মুহূর্তে টিকটক কিনতে কেউ আগ্রহী আছে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প জানান, 'আমি বলব হ্যাঁ, টিকটক কেনার বিষয়ে বেশ কয়েকটি কোম্পানির আগ্রহ রয়েছে।'
ট্রাম্প এর আগে বলেছিলেন তিনি টিকটক কেনার বিষয়ে বেশ কয়েকটি কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা করছেন এবং অ্যাপটির ভবিষ্যৎ নিয়ে ৩০ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আশা করছেন।
এবার ফ্লোরিডায় রিপাবলিকানদের এক সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, 'আমরা দেখব কী ঘটে। এটি কিনতে অনেকেই আগ্রহ দেখাচ্ছে।' তিনি আরও যোগ করেন, 'যদি আমরা ব্যবহারকারীদের এই প্ল্যাটফর্মটির কর্মসংস্থান রক্ষা করতে পারি এবং চীনের প্রভাবমুক্ত রাখতে পারি, তবে সেটি হবে সেরা ফলাফল।'
বাইডেন সরকারের সময় থেকেই জাতীয় নিরাপত্তার বিবেচনায় চীনা মালিকানাধীন কোম্পানি বাইটড্যান্সকে টিকটকের মার্কিন কার্যক্রম বিক্রির জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রথমবারের মতো ২০২০ সালে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু করেন। তারই ধারাবাহিকতায়, বাইটড্যান্স মাইক্রোসফটের সঙ্গে বিক্রির বিষয়ে আলোচনা করে।
যদিও মাইক্রোসফটের একজন মুখপাত্র বিবিসিকে জানান, 'এই মুহূর্তে আমাদের জানানোর মতো কিছু নেই। অন্যদিকে বিবিসি টিকটকের সঙ্গেও যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও টিকটকের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
আলোচিত ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকেই টিকটক কেনার জন্য আগ্রহী। ইচ্ছুক ক্রেতাদের মধ্যে রয়েছেন মার্কিন ব্যবসায়ী ফ্রাঙ্ক ম্যাককোর্ট এবং কানাডিয়ান বিনিয়োগকারী কেভিন ও'লিয়ারি। এছাড়া, ইউটিউবের অন্যতম শীর্ষ তারকা জিমি ডোনাল্ডসন (মিস্টার বিস্ট) জানিয়েছিলেন, ক্রেতার দৌড়ে তিনিও রয়েছেন।
সম্প্রতি মার্কিন আদালত টিকটকের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। কিন্তু ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে এই নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অ্যাপটির ১৭ কোটি ব্যবহারকারীর জন্য অ্যাপটি চালু রাখার সুযোগ করে দেয়। এমন পরিস্থিতিতে টিকটকের ভবিষ্যৎ এবং এর মার্কিন কার্যক্রমের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে যাবে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু।
.উৎস: Samakal
কীওয়ার্ড: ট কটক ট কটক ক ন র ট কটক র র জন য
এছাড়াও পড়ুন:
সরস্বতি পূজা উপলক্ষে গোপালগঞ্জে জমজমাট প্রতিমার হাট
আগামী ২ ও ৩ ফেব্রুয়ারি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিদ্যার দেবী সরস্বতী পূজা। এ উপলক্ষে গোপালগঞ্জ জেলার বিভিন্নস্থানে বসেছে প্রতিমার হাট। এখন চলছে প্রতিমার বেচাকেনা। এবার প্রতিমার দাম নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রীয়া থাকলেও কারিগররা বলছেন, জিনিস পত্রের দাম বাড়ায় প্রতিমার দামও কিছুটা বাড়তি।
পঞ্জিকা মতে মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের পঞ্চমী তিথিতে আশীর্বাদ লাভের আশায় বিদ্যার দেবী সরস্বতী পূজা করে থাকেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। শুধু বাড়িতেই নয় বিদ্যার দেবী সরস্বতী পূজার আয়োজন করা হবে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। দেবীর পায়ে অঞ্জলী দিয়ে অনেক শিশুর শিক্ষাজীবন শুরু হবে।
এ পূজার প্রধান অনুসঙ্গ হলো প্রতিমা। ফলে জেলা শহরের গোহাট সার্বজনীন কালীবাড়ী, সদর উপজেলার সাতপাড়, বৌলতলী, কোটালীপাড়া উপজেলার রাধাগঞ্জ, ভাঙ্গারহাট, ঘাঘর বাজারসহ অনেক স্থানে বসেছে প্রতিমার হাট। এসব হাটে আনা এক একটি প্রতিমা প্রকার ভেদে বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত দামে।
আরো পড়ুন:
লক্ষ্মীপুরে রাসপূর্ণিমা উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু
পুটিয়ার কৃষ্ণপুরে চলছে কাত্যায়নী পূজা
এ বছর ক্রেতাদের মধ্যে প্রতিমার দাম নিয়ে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। ক্রেতাদের অনেকেই বলছেন, দাম সাধ্যের মধ্যে আবার কেউবা বলছেন দাম আগের চেয়ে বেশি নিচ্ছেন বিক্রেতারা। তবে, এর মধ্যেও বিভিন্ন বয়সের মানুষ এসব হাট থেকে কিনে নিচ্ছেন পছন্দমতো প্রতিমা। হাটে শুধু প্রতিমাই নয় বিক্রি হচ্ছে ফুল, মালা, মিষ্টিসহ পূজার অন্যান্য উপকরণও।
রীতি অনুযায়ী বিদ্যার দেবী সরস্বতি পূজার পাশাপশি বসন্ত পঞ্চমীতে গণেশ, লক্ষ্মী, নবগ্রহ, বই, খাতা, কলম ও বাদ্যযন্ত্রের পূজা করার রীতি প্রচলিত রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে শীত ঋতুর অবসান হয়ে বসন্ত ঋতুর আগমন বার্তা ঘটবে।
প্রতিমা কিনতে আসা উত্তম সাহা বলেন, “শহরের গোহাট সার্বজনীন কালীবাড়ীতে সরস্বতী প্রতিমার হাট বসেছে। এবার বাড়িতে পূজা করাব। ছেলেকে নিয়ে হাটে প্রতিমা কিনতে এসেছি। ঘুরে ফিরে পছন্দমত প্রতিমা কিনেছি। আমি মনে করি, পূজা নির্বিঘ্নে অনুষ্ঠিত হবে।”
অপর ক্রেতা নারু গোপাল বলেন, “প্রতিবছর এখানে প্রতিমার হাট বসে। এবে এবার প্রতিমার আমদানি একটু কম। তারপরেও দেখে বুঝে দরদাম করে একটি প্রতিমা কিনেছি। এবার আমাদের বাড়িতে সরস্বতী পূজা হবে।”
অপর ক্রেতা পরিমল চন্দ্র ঢালী বলেন, “এক একটি প্রতিমা ২০০ তেকে ১০ হাজার টাকা পযর্ন্ত বিক্রি হচ্ছে। হাটে এসে প্রতিমা দেখছি। পছন্দ হলে কিনে নিয়ে যাব। গত বছরের তুলনায় এবার প্রতিমার দাম একটু বেশি।”
গোপালগঞ্জ শহরের গোহাট সার্বজনীন কালীবাড়ীর হাটে প্রতিমা বিক্রি করতে আসা উত্তম পাল বলেন, “এবার ২০টি প্রতিমা নিয়ে এসেছি। ইতোমধ্যে ১০টি বিক্রি করা হয়েছে। তবে এবার ক্রেতার সংখ্যা একটু কম। আশা করি, বাকি দুই দিনও বেচাকেনা হবে।”
কার্ত্তিক পাল বলেন, “কোটালীপাড়া উপজেলার হিরণ গ্রাম থেকে ৩০টি প্রতিমা নিয়ে এসেছি বিক্রির জন্য। চার থেকে পাঁচটি প্রতিমা বিক্রি করেছি। ক্রেতারা যে দাম বলছেন, তাতে প্রতিমা বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ প্রতিমা তৈরির অনুসঙ্গের যে দাম তাতে খরচও উঠছে না।”
স্বপন পাল নামে এক বিক্রেতা বলেন, “প্রতিমা তৈরিতে ব্যবহৃত ছোন, রংসহ বিভিন্ন সরঞ্জামের দাম প্রতিবছর বেড়েই চলছে। ক্রেতারা যে দাম বলছেন, সেই দামে বিক্রি করলে লোকসানের মুখে পড়তে হবে। তারপরেও বাব-দাদার পেশা আমরা ধরে রেখেছি।”
ঢাকা/বাদল/মাসুদ