Samakal:
2025-03-30@23:45:51 GMT

লবণ বিষে নীল দক্ষিণের ২০ নদনদী

Published: 28th, January 2025 GMT

লবণ বিষে নীল দক্ষিণের ২০ নদনদী

বরিশাল বিভাগের নদনদীতে লবণাক্ততার পরিমাণ দ্রুতগতিতে বাড়ছে। মৃত্তিকাসম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের গবেষণার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিভাগের অন্তত ২০টি নদীর পানি প্রায় শতভাগ লবণাক্ত হয়ে পড়েছে। অথচ ১০ বছর আগেও এ সংখ্যা ছিল চারটি। এমন পরিস্থিতিতে লবণাক্ত পানির প্রভাবে এরই মধ্যে বিভাগে ৫২ ভাগ ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে ফসল উৎপাদন। আসছে দিনগুলোয় উৎপাদন আরও কমার আশঙ্কা রয়েছে। তাই এখনই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। 

বরিশাল মৃত্তিকাসম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, সেচের জন্য নদীর পানিতে ০ দশমিক ৭ ডিএস পার মিটার এবং মাটিতে ২ ডিএসের নিচে পার মিটার লবণাক্ততা থাকতে হয়। কিন্তু সম্প্রতি চালানো গবেষণায় দক্ষিণাঞ্চলের নদীর পানিতে সর্বোচ্চ ১৫ থেকে ২০ ডিএস পার মিটার ও মাটিতে সর্বোচ্চ ২৫ ডিএস পার মিটার লবণাক্ততা পাওয়া গেছে। আগে সাগর সংলগ্ন নদীতে শুষ্ক মৌসুমে লবণাক্ততা পাওয়া যেত। এ নদীগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ হলো– আন্ধারমানিক, আগুনমুখা ও বিষখালী। বর্তমানে এই তিনটিসহ বিভাগের অভ্যন্তরীণ যেমন বরিশাল নগরী সংলগ্ন কীর্তনখোলা, কারখানা, ভোলা সংলগ্ন মেঘনা, পিরোজপুরের বলেশ্বরের মতো মোট ২০টি নদীর পানি শুকনো মৌসুমে লবণাক্ত হয়ে পড়ছে। তবে বর্ষা মৌসুমে জোয়ার-ভাটার প্রবাহ বৃদ্ধি পেলে লবণাক্ত পানি সরে যায়। 
মৃত্তিকাসম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের বরিশাল দপ্তরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা একীম মামুন বলেন, ‘জোয়ারে লবণ পানি ঢুকে নদীর পানি লবণাক্ত হয়ে যায়। ১০ বছর আগে শুষ্ক মৌসুমে (নভেম্বর থেকে এপ্রিল) সাগরসংলগ্ন তিন থেকে চারটি নদীতে লবণ পানি পৌঁছাত। সেটি এখন প্রতিবছর বৃদ্ধি পেতে পেতে অভ্যন্তরীণ প্রায় ২০টি নদীতে পৌঁছায়। কীর্তনখোলার পানিতে লবণের অস্তিত্ব মেলে ২০২১ সালে। নদীর পানিতে লবণ বাড়লে এর প্রভাব মাটিতেও পড়ে। মাটির লবণাক্ততা ৮ ডিএস পার মিটার অতিক্রম করলে তা ফসল উৎপাদনে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়।’ 

পটুয়াখালী মৃত্তিকাসম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কাজী আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘নিয়মিত বৃষ্টিপাত ও গরম মৌসুমে তাপমাত্রা সহনীয় থাকলে লবণাক্ততার সমস্যা হয় না। কিন্তু প্রতিবছর মৌসুমের বিপরীত আবহাওয়া বিরাজ করে। বর্ষা মৌসুমে কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টিপাত হয় না। আবার গরমে তাপমাত্রা হয় অসহনীয়। নদীর পানিতে লবণাক্ততার পরিমাণ ১০ বা ১২ ডিএস পার মিটার অতিক্রম করলে সংলগ্ন জমি চাষাবাদযোগ্যতা হারায়। এ কারণে লবণাক্ততা দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ 

বরিশাল মৃত্তিকাসম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সুষমা রানী হালদার বলেন, ‘গত কয়েক বছর মাটি ও পানি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, শুকনো মৌসুম তথা নভেম্বর মাস থেকে এখানে নদীগুলোয় লবণাক্ততা বাড়তে থাকে। ফলে এখানে পানি ও মাটির গুণাগুণ হ্রাস পাচ্ছে। পরীক্ষার পর এ খবর কৃষকদের জানিয়ে দেওয়া হয়।’ 

বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের সর্বশেষ তথ্যে জানা গেছে, বিভাগে চাষযোগ্য ৮ লাখ ২ হাজার হেক্টর জমির মধ্যে ৪ লাখ ১৫ হাজার হেক্টর বা ৫২ শতাংশ লবণাক্ততায় আক্রান্ত। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত সাগরপারের জেলা পটুয়াখালী। সেখানে ১ লাখ ৫৫ হাজার ১৮০ হেক্টর বা ৩৯ শতাংশ জমি লবণাক্ততায় আক্রান্ত। এ ছাড়া সাগরপারের আরেক জেলা বরগুনায় ২৪ শতাংশ, ভোলায় ২৪ শতাংশ জমি লবণাক্ততার বিষের কবলে পড়েছে। লবণাক্ততায় আক্রান্ত জমি সবচেয়ে কম ঝালকাঠি জেলায় মাত্র ১ শতাংশ। এ ছাড়া বরিশালে ৩  ভাগ ও পিরোজপুরে ৯ ভাগ জমি লবণাক্ততার কবলে পড়েছে। 
বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মুরাদুল হাসান বলেন, ‘বৃষ্টিপাত বেশি হলে নদী ও মাটিতে লবণাক্ততার পরিমাণ কিছু কমে এবং বৃষ্টি কম হলে আবার বাড়ে। তবে পটুয়াখালীর কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালীর চরমন্তাজের জমি স্থায়ীভাবে লবণাক্ততার দিকে যাচ্ছে। এটা অব্যাহত থাকলে এসব এলাকায় লবণ সহনশীল ফসল চাষ করতে হবে।’

দক্ষিণাঞ্চলে নদীর পানি ও জমির লবণাক্ততা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) এবং উন্নয়ন সংগঠন হাঙ্গার প্রজেক্ট। বেলার বরিশাল সমন্বয়ক লিংকন বায়েন বলেন, পটুয়াখালীর নদনদীতে লবণাক্ততা তিন ভাগ থাকাকালে এর ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা সতর্ক করেছিলাম। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেওয়ায় এখন সেটা ৩৯ ভাগে পৌঁছেছে। ভবিষ্যতে লবণাক্ততা শত ভাগে উন্নীত হওয়া অসম্ভব কিছু না। 

হাঙ্গার প্রজেক্টের বরিশাল সমন্বয়ক নিগার আফরোজ মিতা বলেন, আগামী ১০ বছরে অবস্থাটা কী ভয়াবহ হবে, তা এখনই ভাবতে হবে। তখন ফসল উৎপাদন শূন্যের কোটায় নেমে আসতে পারে। তাই সময়ক্ষেপণ না করে এখনই উত্তরণের পথ ঠিক করতে হবে। 

 

.

উৎস: Samakal

কীওয়ার্ড: ড এস প র ম ট র

এছাড়াও পড়ুন:

কাঁদতে কাঁদতে গাজার বাসিন্দা বললেন, ‘আমরা তো সব হারিয়েছি, ঈদটা কষ্টের’

ফিলিস্তিনের গাজায় রোববার পালিত হয়েছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। তবে ইসরায়েলের নৃশংস হামলায় বিধ্বস্ত উপত্যকাটিতে এ দিন ছিল না উৎসবের আমেজ। ঈদের দিনও সেখানে নির্বিচারে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। মুসলিমদের কাছে খুশির এ দিনটিতেও গাজায় নিহত হয়েছেন অন্তত ৩৫ ফিলিস্তিনি।

দীর্ঘ ১৭ মাস ধরে চলা হামলায় গাজায় আর কোনো মসজিদ অবশিষ্ট নেই বললেই চলে। রোববার তাই উপত্যকাটির বাসিন্দাদের ঈদের নামাজ আদায় করতে হয়েছে ধ্বংস হয়ে যাওয়া মসজিদের বাইরে। আগের দিনে গাজার যেসব শিশু নতুন পোশাক পরে আনন্দ করত, তারা এখন ক্ষুধায়-আতঙ্কে কাতর। ঈদ উপলক্ষে নেই তেমন রান্নার আয়োজন।

ইসরায়েলের হামলা শুরুর আগে গাজার ফিলিস্তিনিরা ঈদের সকালে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে উদ্‌যাপন করতেন। তবে এখনকার চিত্র ভিন্ন। বহু গাজাবাসী তাঁদের পরিবারের সদস্যকে হারিয়েছেন। রোববার অনেককে দেখা যায় প্রিয়জনের কবরের পাশে। অনেকে হাজির হন হাসপাতালের মর্গে—শেষবারের মতো কাছের মানুষের মরদেহটি দেখতে।

ইসরায়েলের হামলায় গাজার বাসিন্দা আদেল আল-শায়ের তাঁর পরিবারের ২০ সদস্যকে হারিয়েছেন। মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকায় ঈদের নামাজ শেষে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। বলেন, ‘এই ঈদটা কষ্টের। আমরা আমাদের ভালোবাসার মানুষগুলোকে হারিয়েছি। আমাদের সন্তান, আমাদের জীবন, আমাদের ভবিষ্যৎ—সবকিছু... আমরা তো সব হারিয়েছি।’

ঈদের দিন স্বজনের কবরের পাশে গাজা নগরীর এক নারী

সম্পর্কিত নিবন্ধ