Samakal:
2025-04-03@00:28:26 GMT

সুহৃদ উৎসবের প্রস্তুতি

Published: 27th, January 2025 GMT

সুহৃদ উৎসবের প্রস্তুতি

প্রতি বছরের মতো এবারও বর্ণাঢ্য আয়োজনে ‘সুহৃদ উৎসব’ আয়োজন করবে পাবনার ঈশ্বরদীর সুহৃদরা। আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি পাকশীর পদ্মা নদীর পারে নবনির্মিত রূপপুর রেলওয়ে স্টেশনসংলগ্ন এলাকার মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে এবার সুহৃদ উৎসবের আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আয়োজন সফল করতে ইতোমধ্যে সুহৃদ উপদেষ্টা মনিরুল ইসলাম বাবুকে আহ্বায়ক ও সুহৃদ সভাপতি আর.

কে. বাবুকে সদস্য সচিব করে একটি প্রস্তুতি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
সম্প্রতি স্থানীয় সাপ্তাহিক ঈশ্বরদী কার্যালয়ে অনুষ্ঠান উদযাপন কমিটির প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম বাবু। সভায় সুহৃদ সমাবেশের কার্যক্রমকে আরও বেগবান করতে বিনোদনমূলক আয়োজনের পাশাপাশি শিক্ষামূলক আয়োজনের বিষয়ে অনেকে গুরুত্বারোপ করেন। বছরের শুরুতে সারা বছরের কাজের পরিকল্পনা এবং সে অনুযায়ী একটি তালিকা তৈরি করার কথা উঠে আসে। এ বিষয়ে সবাই একমত পোষণ করেন। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় সুহৃদ সমাবেশের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয় হওয়া বিষয়টি আলোচনা হয়। সভার সভাপতি বিষয়গুলো বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করেন এবং ধারাবাহিকভাবে আলোচ্য বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করার সিদ্ধান্ত হয়। প্রস্তুতি সভায় প্রধান আলোচনার বিষয় ছিল সুহৃদ উৎসব। উৎসব সফল করতে সবার প্রতি আহ্বান জানানোর মধ্য দিয়ে শেষ হয় সভা।
উপস্থিত ছিলেন সমকালের ঈশ্বরদী প্রতিনিধি সেলিম সরদার, সুহৃদ সমাবেশ ঈশ্বরদী ইউনিটের সভাপতি আর.কে. বাবু, কার্যকরী সভাপতি আব্দুল আলীম বিশ্বাস মিঠু, সাধারণ সম্পাদক মাসুদুল ইসলাম মাসুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক দুর্জয় ইসলাম লিমন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাসান চৌধুরী, সাহিত্য ও পাঠচক্র সম্পাদক ফিরোজ আহমেদ, প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক আশরাফ হোসেন, সমাজকল্যাণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রূপম, নির্বাহী সদস্য নাজমুল হক রঞ্জন, আল-আমিন হোসেন রাজীব প্রমুখ। v   
সমন্বয়ক সুহৃদ সমাবেশ, ঈশ্বরদী

উৎস: Samakal

কীওয়ার্ড: স হ দ উৎসব ল ইসল ম

এছাড়াও পড়ুন:

ঈদের দিনটা কেটে যায় কাজে, নিজের জন্য আর কিছুই থাকে না

জীবনের পড়ন্তবেলায় এসে ঈদের উৎসবকে যখন রোমন্থন করি, তখন স্মৃতির গভীরে হারিয়ে যাই। ছোটবেলায় ঈদ ছিল এক অন্য রকম আনন্দের উৎসব। নতুন জামা বানাতে দরজির দোকানে মাপ দিতে যাওয়া, তারপর নতুন জামা হাতে পাওয়ার পর সেটি লুকিয়ে রাখা, যেন কেউ আগে দেখে না ফেলে! ঈদের দিন সইদের সঙ্গে গ্রামে ঘুরে বেড়ানো, ভাই–বোনদের সঙ্গে স্টুডিওতে ছবি তুলতে যাওয়া—এসব আনন্দের মুহূর্ত আজও হৃদয়ে জাগরূক। মনে হয়, সময় যেন আটকে গেছে, আমি এখনো সেই শৈশব–কৈশোরের রঙিন দিনগুলোর মধ্যেই আছি। কিন্তু যখন বাস্তবতায় ফিরি, তখন সবকিছু বিমূর্ত হয়ে যায়, ধূসর ও বিবর্ণ মনে হয়। মনের অজান্তেই চোখের কোণে জল এসে জমে।

আমাদের ছোটবেলার ঈদ আজকের মতো জৌলুশময় ছিল না। মধ্যবিত্ত যৌথ পরিবারে ছিল আর্থিক টানাপোড়েন, ছিল পরিমিত জীবনের শিক্ষা। দাদা–দাদার ভাইদের বিশাল পরিবারের সদস্যদের জন্য রান্না হতো বড় বড় পাতিলে। ঈদের এক সপ্তাহ আগেই শুরু হতো প্রস্তুতি। পুরোনো শাড়ির পাড় জোড়া লাগিয়ে দরজা–জানালার পর্দা বানানো হতো, সোডা দিয়ে কাপড় ধোয়ার আয়োজন চলত। মুড়ি, চিড়া ও খই সংগ্রহ করে রাখা হতো ঈদের সকালে মলিদা তৈরির জন্য। ময়দার সঙ্গে রং মিশিয়ে কাঁঠালপাতায় গোলা লেপে শুকিয়ে বানানো হতো পিঠা। এত কাজ, এত পরিশ্রমের মধ্যেও ক্লান্তি ছিল না; বরং ঈদের প্রস্তুতিই ছিল এক অন্য রকম আনন্দ।

ঈদের দিন ভোরে সাবান দিয়ে গোসল করে নতুন ছাপা থান কাপড়ের ফ্রক পরার আনন্দ আজও মনে পড়ে। তারপর পরিবারের মুরব্বিদের সালাম করে বয়সভেদে চার আনা থেকে এক টাকা পর্যন্ত ঈদের সালামি পাওয়া ছিল আমাদের কাছে বিরাট প্রাপ্তি! ঈদের সকালের শুরু হতো মলিদা দিয়ে, এরপর গুড়ের পায়েস কিংবা গুড়ের সেমাই। দুপুরের খাবারে থাকত মুরগির মাংস আর আলুর ঝোল, যার স্বাদ আজও স্মৃতির পাতায় অমলিন।

তারুণ্যে পা রাখার পর ঈদের উৎসব বদলে গেল। বরিশালে পড়াশোনার সময় ঈদ পায় নতুন রূপ—সেমাই, ফিরনি, জর্দা, পোলাও–কোরমার ভিড়ে ঈদ যেন ভোজন উৎসবে পরিণত হলো। এরপর কর্মজীবন, বিয়ে ও সংসারের দায়িত্ব এসে ঈদের রং পাল্টে দিল। নারীদের জন্য ঈদ মানে তখন শুধুই স্বামী–সন্তান ও সংসারের তাগিদ।

আজকের ঈদ আর আমাদের শৈশবের ঈদের মধ্যে বিস্তর ব্যবধান। একসময় ঈদ মানে ছিল সীমিত সম্পদের মধ্যেও অপরিসীম আনন্দ। এখন ঈদের বাহারি আয়োজন, নতুন কাপড়–গয়না, খাবারের জৌলুশ বেড়েছে; কিন্তু সেই আনন্দ কোথায় যেন হারিয়ে গেছে! আগে একটা সাধারণ ফ্রকেই যে আনন্দ লুকিয়ে ছিল, এখন অসংখ্য পোশাকের মধ্যেও তা খুঁজে পাওয়া যায় না। কারণ, নারীদের ঈদ শুরু হয় গভীর রাতে—ফিরনি, সেমাই, হালিম, জর্দা, চটপটিসহ বাহারি রান্নার আয়োজন করে। সকালে রান্নার কাজ শেষ হতেই দুপুরের ও রাতের খাবারের প্রস্তুতি নিতে হয়। ফলে ঈদের দিনটাই কেটে যায় কাজে, নিজের জন্য কিছুই আর থাকে না।

অধ্যাপক শাহ্ সাজেদা

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • রান্না-খাওয়া পর্ব ভিন্ন আঙ্গিকে চিন্তা করলে নারীরাও আনন্দ করতে পারবেন
  • উৎসবে হজমের সমস্যা এড়াতে যা করবেন
  • ছোটবেলার ঈদ ঝামেলাবিহীন, সহজ-সরল ছিল: নুসরাত ফারিয়া
  • দল বেঁধে বেড়ানোর যে উৎসব ছিল, তা আর নেই, কী কঠিন বড় হওয়াটা
  • উৎসবে পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও হতাশা কাটাতে করণীয়
  • আগামী বছর থেকে আরও বড় পরিসরে ঈদ আয়োজন করা হবে: আসিফ মাহমুদ
  • একটা জিনিস বুঝেছি, বাবা-মা ছাড়া ঈদ করা কঠিন: ন্যান্সি
  • সেই সুযোগ এখন আর হয় নেই: ন্যান্সি
  • ঈদে সেই সুযোগ এখন আর হয় নেই: ন্যান্সি
  • ঈদের দিনটা কেটে যায় কাজে, নিজের জন্য আর কিছুই থাকে না