Samakal:
2025-04-03@03:25:00 GMT

গাজার হারানো শিশুরা

Published: 27th, January 2025 GMT

গাজার হারানো শিশুরা

গত এক সপ্তাহ ধরে গাজাবাসী তাদের বাড়িতে ফিরছেন, যদিও বেশির ভাগ এখন ধ্বংসস্তূপ। এখনও বহু লাশ ধ্বংসস্তূপের নিচে। এখনই আমরা এ যুদ্ধের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পুরো চিত্র পেতে শুরু করব। এখনই শুরু হতে পারে আসল শোক, যা প্রকাশেও ফিলিস্তিনিদের গত ১৫ মাস শারীরিক ও মানসিকভাবে বাধা দেওয়া হয়েছে। একবার চূড়ান্তভাবে পরিসংখ্যান স্পষ্ট হয়ে গেলে হয়তো শিশুর প্রকৃত মৃত্যুসংখ্যা বের হয়ে আসবে। 

ইতোমধ্যে বিভিন্নভাবে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, ক্ষয়ক্ষতির শিকার বেশির ভাগই শিশু। জাতিসংঘের বিশ্লেষণে গত পাঁচ মাসের মৃত্যুসংখ্যা উঠে এসেছে, যাদের মধ্যে ৪৪ শতাংশ শিশু। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সেসব শিশুর বয়স ছিল ৫ থেকে ৯ বছর, যাদের ৪০ শতাংশকে নিজ বাড়িতে হত্যা করা হয়। 

বিভীষিকা শুধু এ কারণে নয় যে, তারা মারা গেছে, বরং কীভাবে তারা মারা গেল, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। সর্বোচ্চ মাত্রায় আতঙ্কগ্রস্ত করে তাদের হত্যা করা হয়েছে। এ হত্যাযজ্ঞ চলেছে অনেকের নিজ বাড়িতে, স্থল আক্রমণে কিংবা বোমার আওয়াজের মধ্যে চিৎকার করতে করতে তারা নিহত হয়েছে। এভাবে পুরোপুরি ধ্বংস করে তাদের মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া কিংবা ধ্বংসস্তূপে পুঁতে ফেলা হয়েছে, যাতে ধূসর রঙের ধূলিকণার সঙ্গে তাদেরও প্লাস্টিক ব্যাগে ভর্তি করা যায়। কেউ কেউ চেতনানাশক ও চিকিৎসার অভাবে সর্বোচ্চ ব্যথায় ভুগতে ভুগতে মারা যান। অনেকে ব্যথানাশক ওষুধের এক ডোজ ছাড়াই অঙ্গহানির পরে হারিয়ে যান।  

আতঙ্ক ও যন্ত্রণার হাজারো মুহূর্ত তাদের মৃত্যুর দিকে ধাবিত করে, যা প্রায় নিশ্চিত ছিল। এই চূড়ান্ত মুহূর্তগুলোর বেশির ভাগেরই কোনো সাক্ষী নেই, যারা গল্পগুলো বলা কিংবা পত্রপত্রিকায় তুলে ধরার সময় পেয়েছিলেন। কিন্তু ৫ বছর বয়সী হিন্দ রজবের মতো কয়েকজনের কাছ থেকে ভয়াবহ পরিস্থিতির আভাস পাওয়া যায়। তাকে উদ্ধার করার জন্য জরুরি সেবায় ফোন করা হয়েছিল, কিন্তু গুলির শব্দে সে লাইন কেটে গিয়েছিল। আত্মীয়দের হত্যা করার সঙ্গে সঙ্গে তাকেও খুন করা হয়েছিল। 

আমরা এসব ঘটনার হাতেগোনা কয়েকটির গল্প শুনেছি। নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে পচনশীল শিশুদের দেখা গেছে, অনেকে হিমায়িত হয়ে মারা গেছে, স্টিলের ট্রেতে মৃত অবস্থায় পড়ে আছে। মৃতদেহে কালো কালিতে তাদের নাম লেখা রয়েছে, যাতে বাবা-মা সন্তানদের চিহ্নিত করতে পারেন। এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিটি একেক ট্র্যাজেডি। 
গাজার শিশুদের প্রতি যা করা হয়েছে তার মধ্যেই সবচেয়ে ভয়ংকর অমানবিকতা লুকিয়ে আছে, যে কারণে ফিলিস্তিনি সবাই ভুগছেন। শিশুর চেয়ে নিষ্পাপ আর কেউ নয়। তাদের মৃত্যু এই যুদ্ধের অন্যায়ের সবচেয়ে অকাট্য প্রমাণ; কীভাবে এমন কাণ্ড ঘটানো হলো এবং অনুমোদন ও সমর্থন দেওয়া হলো। একটি শিশুর চেয়ে বেশি আর কেউ সবার সঙ্গে সম্পর্ক যুক্ত নয়। এ সম্পর্কে থাকে না কোনো রাজনীতি, দায়িত্ব; তাদের কাছে বিশ্ব কেবলই এক খেলার মাঠ। 

তাদের প্রতি সহানুভূতির অভাব হলে তা হবে বিপজ্জনক, বেঁচে থাকা শিশুদের জন্য এটি ঝুঁকিপূর্ণ। প্রায় ৪০ হাজার এতিম, হাজার হাজার অঙ্গহানি; যে লাখ লাখ শিশু বাস্তুচ্যুত এবং যাদের স্কুল ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে, সেসব শিশু ‘মানসিকভাবে পুরোপুরি বিধ্বস্ত’। এমনকি যুদ্ধবিরতির মধ্য দিয়ে যদি যুদ্ধ বন্ধও হয়, তবুও গাজার তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ হবে অন্ধকার, যদি তারা বিশ্ববাসীর কাছ থেকে সহানুভূতি না পায় এবং গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা ও সমর্থনের জন্য বিপুল প্রস্তুতি নিয়ে এগিয়ে না আসে। 

যাদের হত্যা করা হয়েছে তাদের সে প্রাপ্তিটুকুও দেওয়া হয়নি। অনেককে সুষ্ঠুভাবে দাফন করতেও দেওয়া হয়নি। ২০ হাজার শিশু এখনও নিখোঁজ। তারা এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে কিংবা গণকবরে পড়ে আছে। দেহগুলো স্তূপ করে বেনামে গণনার জন্য রাখা হয়েছে। তাদের জন্য বেশির ভাগই মৃত্যু-পরবর্তী কোনো আচার, প্রার্থনা পালিত হয়নি। নীরবতা পালনের কোনো মুহূর্ত ছিল না। জীবনের ছিল না কোনো উদযাপন। 

নাসরিন মালিক: গার্ডিয়ানের কলাম লেখক; দ্য গার্ডিয়ান থেকে ভাষান্তর ইফতেখারুল ইসলাম 
 

.

উৎস: Samakal

কীওয়ার্ড: র জন য

এছাড়াও পড়ুন:

মিয়ানমারে ভূমিকম্পে নিহত ২ হাজার ছাড়াল

ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে মিয়ানমারে উদ্ধারকাজ এখনও চলছে। সেই সঙ্গেই বৃদ্ধি পাচ্ছে ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা। ভূমিকম্পে দেশটিতে এখন পর্যন্ত ২ হাজারের বেশি মানুষের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। 

মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার পর্যন্ত ২ হাজার ৫৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৩০০ জন। আহত হয়েছেন ৩ হাজার ৯০০ জন। 

এক সপ্তাহ ধরে জাতীয় শোক পালনের কথা বিবৃতি দিয়ে ঘোষণা করে জান্তা সরকার। ভূমিকম্পে ভেঙে গেছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শের প্রায় ৬০টি মসজিদ। সোমবার কয়েকটি ভাঙা মসজিদের সামনেই ঈদের নামাজ আদায় করেন লোকজন। 

ভূমিকম্পের কারণে ঘরছাড়া হাজার হাজার মানুষ। রাজধানীতে এখনও বহু মানুষ ত্রাণ শিবিরে রাত কাটাচ্ছেন। অনেকে আবার কোলের সন্তানকে নিয়ে রাস্তায় চাদর পেতে দিন পার করছেন। 

শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে মিয়ানমারে। এর কেন্দ্রস্থল ছিল দেশটির উত্তর-পশ্চিমের শহর সাগাইং থেকে ১৬ কিলোমিটার দূরে। এলাকাটি রাজধানী নেপিদো থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার উত্তরে। 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ এর স্বয়ংক্রিয় মূল্যায়নে বলা হয়েছে, মধ্য মিয়ানমারের সাগাইং শহরের উত্তর-পশ্চিমে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার অগভীর ভূমিকম্পটি কম্পনজনিত প্রাণহানি এবং অর্থনৈতিক ক্ষতির জন্য লাল সতর্কতা রয়েছে।

ইউএসজিএস এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দেশটিতে সম্ভাব্য মৃত্যুর সম্ভাবনা ৩৫ শতাংশ, যা ১০ হাজার থেকে এক লাখ মানুষের মধ্যে হতে পারে।

ইউএসজিএস আরো জানিয়েছে, আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ হাজার হাজার মিলিয়ন ডলার হতে পারে। ক্ষতির পরিমাণ মিয়ানমারের জিডিপি ছাড়িয়ে যেতে পারে।

ঢাকা/ইভা 

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • পানির দাবিতে সুবর্ণচরে সাড়ে ৩ কিলোমিটার পদযাত্রা
  • মা-বাবা বেঁচে নেই এখনও জানে না আরাধ্যা 
  • সুখী মানুষের ফেসবুক আইডি
  • শহীদ রাসেলের ছোট্ট মেয়ে এখনও বাবা ফিরে আসার অপেক্ষায়
  • স্কুলের ধ্বংসস্তূপে সন্তানদের নাম ধরে ডাকছেন বাবা-মায়েরা
  • শহীদ রাসেলের ছোট্ট মেয়ে এখনও বাবার ফিরে আসার অপেক্ষায়
  • মিয়ানমারে ভূমিকম্পে নিহত ২ হাজার ছাড়াল
  • ভূমিকম্পে ভয়াবহ বিপর্যয় মিয়ানমারে, সাতদিনের শোক ঘোষণা
  • স্কুলের ধ্বংসস্তূপে সন্তানদের নাম ধরে ডাকছেন অসহায় বাবা-মায়েরা
  • বিধ্বস্ত স্কুলে সন্তানদের নাম ধরে ডাকছেন অসহায় বাবা-মায়েরা