সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসময় উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আব্দুল আজিজসহ উভয় পক্ষেরর চারজন আহত হন। সোমবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার তারালী মোড়ে ঘটনাটি ঘটে। 

এদিকে, অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট অনুজা মন্ডল আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপজেলা সদরে ১৪৪ ধারা জারি করেছেন।

বিএনপি নেতারা জানান, পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি পালনে বিএনপির দুই পক্ষ মিছিল ও সমাবেশ শুরু করে সোমবার বিকেল ৪টা থেকে। উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ এবাদুল ইসলাম ও সদস্য সচিব ডা.

শফিকুল ইসলাম বাবুর নেতৃত্বে একটি পক্ষ কাকশিয়ালী ব্রিজের পশ্চিমপাশে জড়ো হয়ে মিছিল নিয়ে তারালী মোড়ে এসে সমাবেশ শুরু করে। এসময় থানা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ নুরুজ্জামান, সদস্য সচিব চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম, নুরুজ্জামান পাড় ও এসএম বাবুর পক্ষের নেতাকর্মীরা তারালী মোড়ে অবস্থিত উপজেলা বিএনপি অফিস থেকে মিছিল নিয়ে বাস টার্মিনালের দিকে যাচ্ছিলেন। এসময় এক পক্ষ অপর পক্ষকে লক্ষ্য করে ইট নিক্ষেপ করে। পরে দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা এসময় কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। এতে উভয় পক্ষের চারজন আহত হন। আহতদের মধ্যে পজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আব্দুল আজিজ রয়েছেন।  

আরো পড়ুন:

১৪৪ ধারা জারি করায় অন্যস্থানে বিএনপির সমাবেশ

পাবনার সুজানগর
বিএনপির দুই পক্ষের সমাবেশ: ১৪৪ ধারা জারি

এদিকে, অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঘটনাস্থলে যান কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনুজা মন্ডল, সহকারী কমিশনার অমিত কুমার বিশ্বাস, কালীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) হারুন অর রশিদ মৃধা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। পরে ইউএনও সন্ধ্যা ৬টা থেকে উপজেলা সদরে ১৪৪ ধারা জারি করেন। 

ইউএনও অনুজা মন্ডল বলেন, “পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত ১৪৪ ধারা বলবৎ থাকবে। উপজেলা সদরে মাইকিং করা হয়েছে। বিষয়টি কালিগঞ্জ থানার ওসিকে মোবাইলে ও পরে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে।” 

কালিগঞ্জ থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমান বলেন, “১৪৪ ধারা জারি হয়েছে বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে দুই পক্ষ এখন শান্ত রয়েছে।”

গত ৭ জানুয়ারি কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ এবাদুল ইসলাম ও সদস্য সচিব ডা. শফিকুল ইসলাম বাবু স্বাক্ষরিত চিঠিতে তারালী ও চাম্পাফুল ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা দেওয়া হয়। এরপর থেকে ওই কমিটি বিলুপ্তির দাবিতে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল করতে থাকে তারালী ও চাম্পাফুল ইউনিয়ন বিএনপির ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। আওয়ামী লীগের দোসরকে নিয়ে কমিটি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করতে থাকেন তারা। 

ঢাকা/শাহীন/মাসুদ

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর ১৪৪ ধ র স ঘর ষ ব এনপ আহত ন ত কর ম ল ইসল ম উপজ ল

এছাড়াও পড়ুন:

‘পাহাড়ে কাউকে চাঁদাবাজি-অস্ত্রবাজি করতে দেওয়া হবে না’

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.) বলেছেন, “পাহাড়ে কাউকে চাঁদাবাজি বা অস্ত্রবাজি করতে দেয়া হবে না, এ ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সাথে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কেউ যেন হাতে তুলে না নেয় সেই বিষয়ে সকলের সহযোহিতা চাই।”

বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে রাঙামাটি বিজিবি সদর সেক্টরে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, “৫ আগস্টের পরে বিভিন্ন থানা লুট হওয়া সব অস্ত্র উদ্ধার হলে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নতি হবে।” 

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “ভারতের মিডিয়া মিথ্যা সংবাদ প্রচার ও গুজব রটিয়ে যাচ্ছে। তারা বাংলাদেশ নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে। দেশের মিডিয়াকে এই অপ্রচারকে প্রতিহত করতে হবে।”

এর আগে রাঙামাটির সাজেক পরিদর্শন করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.) ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা। সকাল ১১টার দিকে বিজিবির হেলিকপ্টারযোগে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও পার্বত্য উপদেষ্টা রাঙামাটির বাঘাইহাট এলাকায় ৫৪ বিজিবির বাঘাইহাট ব্যাটালিয়ান এবং সেনাবাহিনীর বাঘাইহাট জোন পরিদর্শন করেন। এসময় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সেনাবাহিনীতে চাকরিরত থাকা অবস্থায় পূর্ব পরিচিত স্থানীয় প্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় করেন। এরপর বাঘাইহাট থেকে দুপুর ১টার দিকে ২৭ বিজিবির সাজেক বিওপিতে পৌঁছান তিনি।

সেখানে বিজিবির ক্যান্টিন সীমান্ত শৈলিতে স্থানীয় হেডম্যান (মৌজা প্রধান), কার্বারির (পাড়া প্রধান) সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এবং তাদের হাতে শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেন।

সাজেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আগুন নির্বাপণের গুরুত্ব বিবেচনায় সেখানে অস্থায়ীভাবে ফায়ার সার্ভিসের একটি গাড়ি নিয়োজিত রাখার জন্য সংস্থাটির মহাপরিচালককে নির্দেশ দেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন ও প্রশিক্ষণ শাখা) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সোহরাব হোসেন ভূঁইয়া, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল; 

বিজিবির অতিরিক্ত মহাপরিচালক (ব্যুরো চিফ), পিলখানা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. ইয়াছির জাহান হোসেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের যুগ্ম সচিব কাজী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, উপ মহাপরিচালক (পূর্ত) কর্নেল সোহেল আহমেদ, পরিচালক (সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আতিফ সিদ্দিকী; 

পিএস টু ডিজি বিজিবি লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুলাহ আল মাশরুকী, এনএসআইয়ের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ আবু নোমান সরকার, এডিসি টু ডিজি বিজিবি ক্যাপ্টেন সাকিব হাসান, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার একান্ত সচিব (সিনিয়র সহকারী সচিব) কাজী হাফিজ আমিন ও ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের সিনিয়র স্টাফ নার্স শামস আরমান।

ঢাকা/শংকর/এস

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের পরিকল্পনা স্বাস্থ্য বিভাগের: ডিজি
  • সড়কে প্রাণ গেল বাবা-মেয়ের, বাসে আগুন দিল বিক্ষুব্ধ জনতা
  • ‘পাহাড়ে কাউকে চাঁদাবাজি-অস্ত্রবাজি করতে দেওয়া হবে না’
  • ছবি তুলতে গিয়ে ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে নিহত ২