পর্যটক স্পটে নানা সুযোগের অভাবে হতাশ পর্যটকরা: ট্যুরিস্ট পুলিশ প্রধান
Published: 27th, January 2025 GMT
টুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি মাইনুল হাসান বলেছেন, দেশের বিভিন্ন পর্যটক স্পটে নানা সুযোগের অভাবসহ বিভিন্ন কারণে হতাশ হচ্ছেন পর্যটকরা। বলার মতো কাউকে না পেয়ে আস্থার জায়গা থেকে ট্যুরিস্ট পুলিশের কাছে পর্যটকরা তাদের হতাশার কথাগুলো বলেন।
সোমবার এভিয়েশন ও পর্যটন খাতের সাংবাদিকদের সংগঠন এভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশের (এটিজেএফবি) নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
মাইনুল হাসান বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে যখন ট্যুরিস্ট পুলিশ যাত্রা শুরু করে তখন এর জনবল ছিল মাত্র ৬০০ জন। বর্তমানে এই সংখ্যা প্রায় ১৪০০ জন। সরকারি হিসেবে বর্তমানে দেশে ট্যুরিস্ট স্পটের সংখ্যা ১৬০০ এর মতো। তবে ট্যুরিস্ট পুলিশ ৩২টি জেলার মোট ১৩০টি স্পটে নিরবচ্ছিন্ন নিরাপত্তা দিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি কোনো বিদেশি পর্যটক বা পর্যটকদের গ্রুপ যদি বাংলাদেশে ঘুরাঘুরির জন্য এসে নিরাপত্তা চায় সেক্ষেত্রে তাদেরকেও সাপোর্ট দেওয়া হয়। আমরা চাই ট্যুরিস্ট পুলিশের মাধ্যমে দেশের পর্যটন ব্যবস্থাপনা আরও নিরাপদ হোক।
ট্যুরিস্ট পুলিশের কাজ করার চ্যালেঞ্জগুলোর বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ট্যুরিস্ট স্পট কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত। অথচ এই সমুদ্রের পাশে পর্যাপ্ত টয়লেট নেই, গোসলের পর জামাকাপড় পরিবর্তনের জায়গা নেই, মোবাইল বা ব্যাগ রাখার নিরাপদ কোনো জায়গা নেই। তারপরও বিপুল সংখ্যক পর্যটক নিয়মিত কক্সবাজার যাচ্ছে। তবে এসব বিষয়ে প্রায়ই পর্যটকরা ট্যুরিস্ট পুলিশের কাছে নিজেদের হতাশার কথা ব্যক্ত করেন।
এসময় ট্যুরিস্ট পুলিশের কার্যক্রম নিয়ে একটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন প্রদান করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) নাদিয়া ফারজানা। তিনি জানান, নিরাপত্তা প্রদানের পাশাপাশি ট্যুরিস্ট পুলিশ পর্যটক অধ্যুষিত এলাকায় প্যাট্রোলিং, মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় সহযোগিতা, হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট মালিকদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি ও প্রশিক্ষণ প্রদান, গুরুত্বপূর্ণ ট্যুরিস্ট স্পটে হাই-রেজুলেশনের ক্যামেরা স্থাপন করে রিয়েল টাইম মনিটরিং করে। পর্যটকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও নির্বিঘ্ন করতে পাহাড়ি রাস্তায় চলাচলের উপযোগী গাড়ি ও সারভিলেন্স বা রেসকিউ ড্রোন কেনা প্রয়োজন।
তিনি আরও জানান, হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালে ট্যুরিস্ট পুলিশের একটি বুথ করা হবে। সেই বুথ থেকে দেশে নেমেই বিদেশি পর্যটকরা বাংলাদেশের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র সম্পর্কে ধারণা পাবে। পাশাপাশি দেশে ঘুরাঘুরির সময় তাদের পুলিশি নিরাপত্তার প্রয়োজন হতে পারে। সেসব বিষয়েও পর্যটককে এই বুথ থেকে সহযোগিতা করা হবে।
সৌজন্য সাক্ষাত অনুষ্ঠানে ট্যুরিস্ট পুলিশের ঢাকা-সিলেট-ময়মনসিংহ বিভাগের অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসাইন, খুলনা-বরিশাল বিভাগের অতিরিক্ত ডিআইজি মো.
তারা বলেন, ট্যুরিস্ট পুলিশকে নিরবিঘ্নভাবে কাজ করতে দিতে হলে কিছু আইনগত প্রতিবন্ধকতা ও সীমাবদ্ধতা দূর করতে হবে, জনবল বৃদ্ধি করতে হবে। ইউনিটটি বর্তমানে তোপখানা রোড এর একটি ভবনে তিনটি ফ্লোর ভাড়া নিয়ে সদরদপ্তর পরিচালনা করছে। এখনই ইউনিটটির জন্য ভূমি ও অবকাঠামো নির্মাণ দরকার। এছাড়াও তারা ট্যুরিস্ট পুলিশের জন্য বিদেশে বিশেষায়িত আধুনিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা জানান।
এসময় এটিজেএফবির পক্ষ থেকে সংগঠনের সভাপতি তানজিম আনোয়ার, সাধারণ সম্পাদক বাতেন বিপ্লব, যুগ্ম মো. শফিউল্লাহ সুমন, সাংগঠনিক সম্পাদক জুলহাস কবীর ও আদনান রহমান, কার্যনির্বাহী সদস্য মাসুদ রুমি, খালিদ আহসান, গোলাম মর্তুজা অন্তু এবং সাধারণ সদস্য সরোয়ার আলম উপস্থিত ছিলেন।
উৎস: Samakal
এছাড়াও পড়ুন:
ঈদের ছুটিতে পর্যটকে মুখর রাঙামাটি
ঈদের ছুটি চলছে। রাঙামাটির বিনোদনকেন্দ্রগুলো এখন দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে ঈদের দিন থেকেই আসছেন হাজারো পর্যটক। বুধবার (২ এপ্রিল) রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতু, পলওয়েল পার্ক ও আরণ্যকে দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা গেছে। নিরাপত্তা নিয়েও সন্তুষ্ট পর্যটকরা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ঈদের দ্বিতীয় দিন থেকেই রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতুতে পর্যটকদের উপস্থিতি বাড়ছে। ঝুলন্ত সেতুর পাটাতনে হাঁটা-চলার পাশাপাশি অনেকেই কাপ্তাই হ্রদে নৌবিহার করছেন।
পর্যটকরা দলে দলে ভ্রমণ করছেন ঝুলন্ত সেতুতে। কেউ আসছেন পরিবার নিয়ে, কেউ প্রেমিক-প্রেমিকাকে আবার কেউ বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে এসেছেন এখানে। শুধু ঝুলন্ত সেতুতেই তাদের ভ্রমণ সীমাবদ্ধ নয়। নৌঘাট থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকা নিয়ে কাপ্তাই হ্রদে নৌবিহার করছেন পর্যটকরা। হ্রদ-পাহাড়ের সৌন্দর্য যান্ত্রিক জীবনের একঘেয়েমি দূর করছে।
পলওয়েল পার্কসহ অন্য পর্যটন স্পটগুলোতেও পর্যটকদের বিপুল উপস্থিতি রয়েছে। শিশুরা টয় ট্রেন ও দোলনাতে চড়ে আনন্দ উপভোগ করছে। পলওয়েল পার্কের মিনি ঝুলন্ত সেতুতে হেঁটে বেড়াচ্ছেন কেউ কেউ। হ্রদের শান্ত জল ও সবুজ প্রকৃতি দেখে বিমোহিত পর্যটকরা।
খুলনা থেকে রাঙামাটিতে ঘুরতে আসা রাসেল আহমেদ বলেন, ঈদের ছুটি কাজে লাগাতে বন্ধুরা মিলে রাঙামাটি ঘুরতে আসলাম। চমৎকার জায়গা। শান্ত প্রকৃতি। হ্রদের পানিও শান্ত ও স্বচ্ছ। এমন সৌন্দর্য বাংলাদেশের মধ্যে লুকিয়ে আছে, সেটা নিজের চোখে না দেখলে কেউ বিশ্বাস করবে না।
হাটহাজারি থেকে আসা পর্যটক দম্পতি বলেন, আমরা গতকাল পরিবার নিয়ে এসেছি। ইতোমধ্যে আরণ্যক ও পলওয়েল পার্ক ঘুরেছি। এবার কাপ্তাই হ্রদে এসেছি। হ্রদের সৌন্দর্য আমাদের সত্যিই বিমোহিত করেছে।
নৌযান ঘাটের ব্যবস্থাপক মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, ঈদের দ্বিতীয় দিন থেকে পর্যটকরা রাঙামাটি আসতে শুরু করেছে। আগামী শনিবার পর্যন্ত প্রতিদিনই রাঙামাটিতে প্রচুর পর্যটক হবে বলে আমরা আশা রাখছি।
রাঙামাটি শহরের অধিকাংশ হোটেল-মোটেলে বুকিং বেড়েছে। হোটেল হিল পার্কের স্বত্বাধিকারী স্বপন শীল বলেছেন, ঈদের ছুটিতে বেশ পর্যটক হবে, সেটি আমরা আগেই ধারণা করেছিলাম। ঈদের আগে আমাদের প্রায় ৭০ শতাংশ রুম বুকিং হয়েছিল। আগামী কয়েকদিনও ভালো পর্যটক হবে।
রাঙামাটি পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা বলেন, ঈদের পরদিন থেকে রাঙামাটিতে পর্যটকরা আসছেন। আমাদের যে টার্গেট ছিল ঈদকে ঘিরে, আশা করছি, সেটা পূরণ হবে। বর্তমানে আমাদের হোটেল-মোটেলগুলোতে ৬০ শতাংশ বুকিং রয়েছে। আাগামী ৩ তারিখ থেকে শতভাগ বুকিং রয়েছে। আশা করছি, এই মৌসুমে আমাদের বেশ ভালো ব্যবসা হবে।
ঢাকা/রফিক