ফরিদপুরের সালথায় কাসেম বেপারী (৩০) নামে এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যার মামলায় তিন আসামিকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। 

সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফরিদপুরের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের ৩ নম্বর আমলী আদালতের বিচারক মো. সরোয়ার তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

জজ কোর্টের আইনজীবী মো. ইব্রাহিম হোসেন তাদের কারাগারে পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

কারাগারে পাঠানো তিন ব্যক্তি হলেন- মো.

বাহাদুর মোল্যা (৩০), তৈয়ব মোল্যা (২৫) ও মো. সোহেল মোল্যা (২৩)। তারা সবাই জয়ঝাপ গ্রামের বাসিন্দা ও গ্রামের মোসা মোল্যার ছেলে। 

আদালত সূত্রে জানা যায়, তিন আসামি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের ৩ নম্বর আমলী আদালতে জামিন প্রার্থনা করেন। আদালত শুনানি শেষে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। 

গত বছরের ১৪ অক্টোবর ফরিদপুরের সালথার গট্টি ইউনিয়নের জয়ঝাপের ইমামবাড়ী এলাকায় এক তরুণীকে উত্ত্যক্তের জের ধরে বখাটেদের চাকুর আঘাতে খুন হন কাসেম বেপারী (৩০) নামে এক যুবক। পরে মামলা করা হলে সে মামলাতেই গ্রেপ্তার করা হয় আসামিদের।

উৎস: Samakal

এছাড়াও পড়ুন:

বাংলাদেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ৩৭ শতাংশ শুল্ক নিয়ে যা বললেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব

বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এ তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশের নামও। বুধবার ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় বিকেলে হোয়াইট হাউসের রোজ গার্ডেনে সংবাদ সম্মেলন করে নতুন করে শুল্কারোপের ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ট্রাম্পের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩৭ শতাংশ করা হয়েছে। বিশ্বব্যাপী আরোপ করা এ শুল্ককে ‘বাণিজ্য যুদ্ধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করছে অনেক দেশ। এ নিয়ে কথা বলেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনুসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শফিকুল আলম তার ফেসবুক আইডিতে একটি স্ট্যাটাস দেন। তাতে তিনি লিখেন, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর শুল্ক পুনর্বিবেচনা করছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড দ্রুত শুল্ক যুক্তিসঙ্গত করার বিকল্পগুলি চিহ্নিত করছে, যা বিষয়টি সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয়।

পোস্টে শফিকুল আলম আরও লেখেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং আমাদের বৃহত্তম রপ্তানি গন্তব্য। ট্রাম্প প্রশাসন দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য আমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করে আসছি। মার্কিন সরকারের সঙ্গে আমাদের চলমান কাজ শুল্ক সমস্যা সমাধানে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি বাজার যুক্তরাষ্ট্র, যেখানে বছরে প্রায় ৮.৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়, যার বড় অংশই তৈরি পোশাক শিল্পে। নতুন শুল্ক বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশি পোশাক রপ্তানি ব্যাহত হতে পারে, যা অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। তবে শুধু বাংলাদেশের ওপরই নয়, বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপরও শুল্ক বৃদ্ধি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

ভারতীয় পণ্যের ওপর ২৬%, পাকিস্তানের ওপর ২৯%, চীনের ওপর ৩৪% এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওপর ২০% শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এতদিন বাংলাদেশি পণ্যের ওপর মার্কিনিদের গড়ে ১৫ শতাংশ করে শুল্ক ছিল। গতকাল বুধবার বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ৩৭ শতাংশ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র জানায়, মার্কিন পণ্যে বাংলাদেশের আরোপিত শুল্ক ছিল ৭৪ শতাংশ।

সম্পর্কিত নিবন্ধ