Samakal:
2025-04-03@15:54:58 GMT

চ্যাম্পিয়ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

Published: 26th, January 2025 GMT

চ্যাম্পিয়ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তরুণদের নিয়ে সাপ্লাই চেইন কেস প্রতিযোগিতার আয়োজন করে ইন্টারন্যাশনাল সাপ্লাই চেইন এডুকেশন অ্যালায়েন্স (আইএসসিইএ)। এটি সাপ্লাই চেইন শিক্ষার আন্তর্জাতিক সংগঠন। এতে বিভিন্ন ব্যবসায়ের সাপ্লাই চেইন-সম্পর্কিত সমস্যার সমাধান করতে হয়। সম্প্রতি এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘টিম ডিইউওবি ০১০১’। এই দলের সদস্যরা হলেন– ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের রাওজা হোসেন, মার্কেটিং বিভাগের ফেরদৌস রহমান, ফাতিন ইশতিয়াক ও নাইমা জিয়া। গ্লোবাল সাপ্লাই চেইন কেস কম্পিটিশন অনলাইনভিত্তিক প্রতিযোগিতা। জাতীয়, আঞ্চলিক, আন্তর্জাতিক এ তিন পর্যায়ে হয়ে থাকে। গত মাসে শেষ হলো মূল পর্ব। বিশ্বের প্রায় ১৫ দেশের ৩০টি দল এতে অংশ নেয়। এ সবকটি দলকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হন বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা। বিজয়ী হিসেবে শতভাগ বৃত্তিতে ১ হাজার ১০০ ডলার মূল্যের একটি কোর্স (সার্টিফায়েড সাপ্লাই চেইন অ্যানালিস্ট বা সিএসসিএ) করার সুযোগ ও ১ হাজার ডলার অর্থ পুরস্কার পান তারা। বিজয়ী দলের সদস্য নাইমা জিয়া বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে ও জাতীয় পর্যায়ে অনেকবারই আমরা কেস কম্পিটিশনে অংশগ্রহণ করেছি। আন্তর্জাতিক পর্যায়ের কেস কম্পিটিশনে অংশগ্রহণ এবারই প্রথম। গ্লোবাল রাউন্ডে পৌঁছানোর পর আমাদের আত্মবিশ্বাস অনেক বেড়ে গিয়েছিল। সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করেছিলাম যেন বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশের জন্য বিজয় ছিনিয়ে আনতে পারি। সে জায়গা থেকে আমরা অনেক খুশি।’ সাপ্লাই চেইন নিয়ে আরও পড়াশোনা করতে চান এ শিক্ষার্থীরা। এ সেক্টরে ক্যারিয়ার গড়ার ইচ্ছার কথা জানালেন তারা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ সাফল্য শুধু দলের অধ্যবসায় এবং দক্ষতার ফল নয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসা ও ব্যবস্থাপনা শিক্ষার ক্ষেত্রেও একটি বড় অর্জন। তাদের এ জয় বৈশ্বিক মঞ্চে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। বিজয়ী দল DUOB-0101-কে প্রাইজমানি হিসেবে ১ হাজার মার্কিন ডলার এবং সম্মানজনক সনদ প্রদান করা হয়েছে। v
 

.

উৎস: Samakal

এছাড়াও পড়ুন:

‘আর কোনো দিন বাবার সঙ্গে কথা বলতে পারব না’

‘‘যাওয়ার সময় বাবা বলেছিল, তুই যাবি নে? আমি বলেছিলাম, না বাবা আমার শরীর খারাপ। বমি হচ্ছে, আমি যাব না। বাবা বলেছিল, আর কোনো জায়গায় তোকে নিয়ে যাব না। ওই দিন বাবার সঙ্গে শেষ কথা হয়েছিল। আর কোনো দিন কথা বলতে পারব না বাবার সঙ্গে। বাবা আমারে কয়ে থুয়ে গেছিল, তুই থাকিস আমি আসবনে।’’ 

বাবার মরদেহের পাশে বসে কাঁদতে কাঁদতে কথাগুলো বলছিল চট্টগ্রামের জাঙ্গালিয়া এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত কুষ্টিয়ার আশীষ মন্ডলের ৯ বছরের মেয়ে আনুশকা মন্ডল পরী।

এর আগে বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে আশীষের মরদেহ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স কুষ্টিয়া শহরের কুমারগাড়া ঘোষপাড়ায় বাড়িতে পৌঁছালে তার স্বজনেরা আহাজারি করতে থাকেন। তাকে শেষবারের মতো এক নজর দেখার জন্য ভিড় করে এলাকাবাসী। বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বার বার মূর্ছা যাচ্ছিলেন আশীষের স্ত্রী। স্বজনেরা তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছিলেন। সে সময় পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন আশীষের শ্বশুর মিহির বিশ্বাস। 

আরো পড়ুন:

চট্টগ্রামে সড়কের সেই অংশে লাল পতাকা স্থাপন

মোটরসাইকেলে এক পরিবার, যশোরে বাসের ধাক্কায় শেষ তিনজন

কথা হলে চোখ মুছে তিনি বলেন, ‘‘গত রবিবার (৩০ মার্চ) কুষ্টিয়া থেকে আশীষ তার ভাইয়ের ছেলে দুর্জয়কে নিয়ে পিকনিকে যাওয়ার জন্য ঢাকায় বোনের বাড়িতে যায়। সেখানে থেকে বোন সাধনা রানী মন্ডল, ভগ্নিপতি দিলীপ কুমার বিশ্বাস, ভাগনি আরাধ্য বিশ্বাসসহ কয়েকজন মাইক্রোবাসে কক্সবাজার যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় পড়ে। এতে আশীষ, তার বোন ও ভগ্নিপতির মৃত্যু হয়।’’ ওই সড়ক দুর্ঘটনায় মোট ১০ জন মারা যায়। 

তিনি বলেন, ‘‘আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে আশীষের নিথর দেহ বাড়িতে পৌঁছেছে। এখন কীভাবে চলবে এই পরিবার এই ভেবে আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ছে।’’

স্বজন ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আশীষ মন্ডল স্থানীয় বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করতেন। কর্মস্থলের কাছাকাছি কুষ্টিয়া শহরের নিজ বাড়িতে স্ত্রী ও এক মেয়েকে নিয়ে থাকতেন। খুব ছোটবেলায় মামা তাকে গ্রাম থেকে নিয়ে এসেছিলেন। সেই সূত্রে মামা বাড়ির পাশেই জমি কিনে স্থায়ী বসবাস করছেন। নিহত আশীষ মন্ডল কুমারখালী উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামের মৃত যতীন্দ্রনাথ মন্ডলের ছেলে। 

এদিকে, ভাগনেকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ মামা গোপাল চন্দ্র বিশ্বাস। কথা হলে তিনি বলেন, ‘‘আশীষের যখন দেড় বছর বয়স, তখন আমি তাকে আমার কাছে নিয়ে এসেছি। সন্তানের মতো কোলে-পিঠে করে তাকে বড় করেছি।’’

কুষ্টিয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে পড়াশোনা করে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করছিল আশীষ। বিবাহিত জীবনে তার ৯ বছরের একটি মেয়ে আছে। 

ঢাকা/কাঞ্চন/বকুল

সম্পর্কিত নিবন্ধ