Samakal:
2025-04-03@04:49:44 GMT

মনের কথা যন্ত্রের ভাষায়

Published: 26th, January 2025 GMT

মনের কথা যন্ত্রের ভাষায়

মানুষের মনের গহিনের খবর দিব্যি বলে দেবে যন্ত্র। শুনতে বিস্ময় মনে হলেও ঘটনা কিন্তু সত্যি। বিশেষ ঘরানার হেলমেট এমন বাস্তব করেছে। 
বিশেষ অবয়বের ‘মাইন্ড রিডিং’ হেলমেট মানুষের মনে চলতে থাকা গভীর সব চিন্তা বুঝতে,
লিখতে ও পড়তে পারে।

বিশ্বের প্রথম হেলমেট
বিশ্বের এটিই প্রথম হেলমেট, যা মন ও মস্তিষ্ক দুটোই পড়তে পারে। এমন উদ্ভাবনার মধ্যে বেশ কিছু অভূত উপকার সামনে আসছে।
সিডনি ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির গ্রাফেনেক্স ইউটিএস হিউম্যান সেন্ট্রিক আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স সেন্টারের গবেষকরা বিশেষ আদলের পোর্টেবল হেলমেট ডিজাইন করেছেন।
সহজে বললে, নিউরোসায়েন্স বিজ্ঞানীরা রীতিমতো বিপ্লব ঘটিয়েছেন।
সুদীর্ঘ পরীক্ষা-নিরীক্ষা আর গবেষণার কঠিন সমীকরণ অতিক্রম করে অবশেষে মানুষের মনে চলতে থাকা চিন্তার ভাষাতত্ত্ব বিশ্লেষণে পারদর্শী হয়ে উঠছে যন্ত্র। কাজটি বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে বিশেষ অবয়বে ডিজাইন করা হয় হেলমেট।
প্রশ্ন আসা স্বাভাবিক, মাইন্ড রিডিং হেলমেট আদৌ কীভাবে কাজ করবে। মাইন্ড রিডিং হেলমেট তৈরির প্রধান উদ্দেশ্য হলো এমন সব মানুষকে সহায়তা করা, যারা ভেতর থেকে অসুস্থ, কিন্তু কারও সঙ্গে কথা বলার সামর্থ্য নেই। উদাহরণে বলা যায়, প্যারালাইসিস বা স্ট্রোক রোগী, যারা অন্যের সঙ্গে কথা বলতে অক্ষম। গবেষকরা বলছেন, যান্ত্রিক সমীকরণটি 
মানুষ ও মেশিনের মধ্যে আন্তঃযোগাযোগে সেতুবন্ধ প্রতিষ্ঠা করবে। উদ্ভাবিত প্রযুক্তি ভবিষ্যতে রোবট, বায়োনিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করবে বলে নির্মাতার জানান।
ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অদম্য চিন্তাশক্তির সমীকরণ মানবিক চিন্তাশক্তিকে কতটুকু ধরাশায়ী করবে, তা সময়ের ওপর ছেড়ে দেওয়াই শ্রেয় বলে অভিমত দিয়েছেন এআই গবেষকরা। কিন্তু মানবিক চিন্তার সঙ্গে যান্ত্রিক চিন্তার যে নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ ঘটছে, তা প্রায় নিশ্চিত করেই বলেছেন বিজ্ঞানীরা। 

.

উৎস: Samakal

এছাড়াও পড়ুন:

ট্রাম্প কেন ইউরোপের মৃত্যু দেখতে চান

ইউরোপীয়রা আগে যা জানতেন ‘সিগন্যাল অ্যাপ’ কেলেঙ্কারি সেটাই নিশ্চিত করেছে। ইউরোপের প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের অবজ্ঞা গভীর এবং আটলান্টিকের এপার-ওপারের দেশগুলোর মধ্যে ফাটল এখন কাঠামোবদ্ধ রূপ পাচ্ছে। যদিও আশা এখনো জিইয়ে আছে যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক চূড়ান্ত ধরনের বাজে অবস্থায় যাওয়া ঠেকাতে পারবে ইউরোপ। গ্রিনল্যান্ডে আগ্রাসন, ইউরোপের ন্যাটো সদস্যভুক্ত রাষ্ট্রগুলো থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহার অথবা সর্বাত্মক বাণিজ্যযুদ্ধ—সবকিছুই ঠেকানোর আশা করছেন ইউরোপের কোনো কোনো নেতা।

এ মুহূর্তে ইউরোপের নেতাদের সবচেয়ে জরুরি মনোযোগের বিষয় হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র যদি ইউক্রেনকে ধাক্কা দিয়ে বাসের নিচে ফেলে চলেও যায়, তাহলে ইউরোপ যেকোনোভাবেই হোক সম্মিলিতভাবে মুক্ত, স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক ইউক্রেনকে সুরক্ষা দিতে সফল হবে। এখানে কোনো বিভ্রমের অবকাশ নেই যে ইউরোপীয় নেতারা সেটা করতে চান যুক্তরাষ্ট্রকে সঙ্গে নিয়েই অথবা ট্রাম্প প্রশাসনের কৌশলগত অনুমোদন নিয়েই। 

সিগন্যাল অ্যাপ কেলেঙ্কারির ঘটনাটি একই সঙ্গে প্রত্যাশিত ও বেদনাদায়ক। এটা প্রত্যাশিত এ কারণে যে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে যে ভাষায় কথা বলছেন, তার সঙ্গে সিগন্যাল অ্যাপে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা দলের সদস্যরা তাদের গোপন চ্যাট গ্রুপে যে ভাষায় কথা বলেছেন, দুইয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

ফেব্রুয়ারি মাসে মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে জেডি ভ্যান্সের বক্তব্য, টাকার কার্লসনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সাক্ষাৎকার অথবা ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরতিহীন ঘোষণা ও তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টগুলো দেখুন। গোপন ও প্রকাশ্য—দুই জায়গাতেই স্মরণ করার মতো ধারাবাহিকতা রয়েছে। ওয়াশিংটন ইউরোপকে বাতিল, অহংকারী ও পরজীবী বলে মনে করে।

বেদনাদায়ক বিষয় হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপকে ক্ষয়িষ্ণু মিত্র হিসেবেও দেখে না, ট্রাম্পের কর্মকর্তারা ইউরোপের মৃত্যুতে অবদান রাখতে চান। লোহিত সাগরে হুতির হুমকি সম্পর্কে যে যা-ই ভাবুক না কেন, যুক্তরাষ্ট্রের নীতি হলো তারা নিজেদের জাতীয় স্বার্থেই ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীর ওপর হামলা চালায়। কিন্তু ভ্যান্স ও পিট হেগসেথ গ্রুপ চ্যাটে পরিষ্কার করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র মনে করে যে হুতির ওপর আক্রমণে ইউরোপীয়রাও লাভবান হবে। এটা যেকোনো আক্রমণকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য যথেষ্ট কারণ। 

অন্য কথায় ইউরোপীয়দের সাহায্য করার বিষয়টিকে এমন একটা নেতিবাচক বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে, সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র পুরোপুরি উল্টো দিকে ঘুরে যেতে পারে। ইউরোপের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের এই যে অবজ্ঞা, তার ওপর দাঁড়িয়ে ইউরোপকে এখন তিনটি বড় নীতিগত জায়গায় কাজ করতে হবে। প্রথমত, বাণিজ্য। এ সপ্তাহে ট্রাম্প বেশ কয়েকটি দেশের বিরুদ্ধে বাণিজ্যযুদ্ধ ঘোষণা করতে যাচ্ছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, এসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ধ্বংস করেছে। 

কোনো ধরনের সহানুভূতি কিংবা ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাণিজ্যযুদ্ধের মাত্রাকে প্রশমন করতে পারবে না। বরং যুদ্ধের মাত্রাটা তীব্র হবে। যা-ই হোক, ২৭টি সরকারের জন্য একটি বাণিজ্যনীতি পরিচালনা করা ইইউর আইনি দায়িত্ব এবং জোটের একটি সম্মিলিত অর্থনৈতিক ওজন রয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্র উপেক্ষা করতে পারে না। এ ক্ষেত্রে যন্ত্রণা আসবেই। কিন্তু সংঘাতের ক্ষেত্রে ইটের বদলে পাটকেল থাকতে হবে। বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ইউরোপীয়রা যদি সবাই মিলে কঠোর অবস্থানে থাকে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের লুণ্ঠক আচরণ করতে পারবে না। 

দ্বিতীয়ত, গ্রিনল্যান্ড। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র থামবে না। ট্রাম্প বারবার করে বলছেন গ্রিনল্যান্ড তাঁর হবে। আর্কটিক দ্বীপে ভ্যান্সের উসকানিমূলক ভ্রমণ এবং কয়েক দশক ধরে গ্রিনল্যান্ডের দেখভালের ক্ষেত্রে ‘ভালো কিছু করছে না’ বলে ডেনমার্ককে তাঁর তিরস্কার—এই ইঙ্গিত দেয় যে ওয়াশিংটনের জবরদস্তি আরও তীব্র হবে। এখন ইউরোপের প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের অবজ্ঞাকে মাথায় রেখে ডেনমার্কের সমর্থনে ইউরোপীয় নেতাদের কথা বলতে হবে। ইউরোপের নেতারা যদি দুর্বল প্রতিক্রিয়া দেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে চরম বাজে ধরনের চাপ আসবে।

তৃতীয়ত এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ইউক্রেন। এমানুয়েল মাখোঁ ও কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বে ইউরোপের অন্য সক্ষম ও ইচ্ছুক নেতারা জেলেনস্কিকে সঙ্গে নিয়ে ইউক্রেনকে সমর্থন দেওয়ার একটি পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। কিন্তু এটা ক্রমাগতভাবে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে ইউরোপীয় নেতাদের সেটা করতে হবে শুধু যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াই নয়, সম্ভবত দেশটির বিরুদ্ধেও। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার ওপর নির্ভর করা যাবে না। 

ইউরোপের সবচেয়ে বড় শক্তিগুলো যেহেতু ইউক্রেনকে অর্থনৈতিক ও সামরিক সহায়তা বৃদ্ধির পরিকল্পনা নিয়েছে এবং একই সঙ্গে তারা ইউক্রেনীয় বাহিনীগুলোকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তার যে পরিকল্পনা নিয়েছে, সেটা তাদের এগিয়ে নিতে হবে, এই বাস্তবতা মেনে নিয়েই যে তাদের পেছনে আর যুক্তরাষ্ট্র নেই। 

গোয়েন্দা তথ্য ও লজিস্টিক সমর্থন আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে ইউরোপের নেতাদের যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে। কিন্তু ওয়াশিংটন যদি অনাগ্রহী হয়, তাহলে ইউরোপ ও ইউক্রেনকে অবশ্যই বের করতে হবে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ছাড়াই কীভাবে এগিয়ে যেতে হবে।

রাশিয়ার নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে ইউরোপকে সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কাজ করতে হবে। এখন পর্যন্ত ইউরোপীয় সরকারগুলো দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন কৃষ্ণসাগরে যুদ্ধবিরতির পূর্বশর্ত হিসেবে কৃষি-খাদ্য খাতে আর্থিক নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করার রাশিয়ার দাবি জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ মোকাবিলায় ইউরোপকে প্রস্তুত থাকতে হবে। 

নাথালি টর্চি দ্য গার্ডিয়ান–এর কলাম লেখক

দ্য গার্ডিয়ান থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে অনূদিত

সম্পর্কিত নিবন্ধ