মাটিখেকোদের দৌরাত্ম্য থামছে না কিছুতেই
Published: 26th, January 2025 GMT
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, জেল-জরিমানাসহ নানামুখী পদক্ষেপেও মাটিখেকোদের দৌরাত্ম্য থামছে না। সারা বছর চলছে পুকুর ও ফসলি জমির ঊর্বর মাটি লুট। এসব কর্মকাণ্ডে যুক্ত প্রভাবশালী চক্র। তারা কৌশলে কৃষকদের জিম্মি করে পুকুর ও জমির ঊর্বর মাটি লুট করছে। পৌর শহরসহ বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে চলছে চক্রের এমন দৌরাত্ম্য।
জানা গেছে, রাত-দিন তারা পুকুর ও ফসলি জমির মাটি কেটে জয়পুরহাট-বগুড়া মহাসড়ক ও বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়ক হয়ে ট্রাক্টর করে নিয়ে যাচ্ছে। মাটিবাহী ট্রাক্টর চলাচলের কারণে এলাকার সড়কগুলো হুমকির মুখে পড়েছে।
সরেজমিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ড্রেজার, ভেকু দিয়ে জমি ও পুকুর গভীর করে মাটি কাটা চলছে। এসব মাটি যাচ্ছে ইটভাটাসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নিচু জমি ভরাটের জন্য। অসহায় কৃষকরা না বুঝেই অল্প পরিমাণ টাকার লোভে তাদের জমি ও পুকুরের মাটি কাটতে দিচ্ছেন। চুক্তিমতে ১-২ ফুট গভীর করে খনন করার কথা থাকলেও তারা ১০-১২ ফুট গভীর করে মাটি কাটছে। না বুঝে মাটি কাটতে দিয়ে এখন হতাশায় কৃষক। এসব মাটি নিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ফসলি জমি ভরাটের কারণে উপজেলায় গত দুই বছরে প্রায় ৬৩ হেক্টর ফসলি জমিতে আবাদ হয়নি। ইতোমধ্যে ফসলি জমি ও পুকুরের মাটি কাটা বন্ধের দাবিতে বিভিন্ন মহলে লিখিত করেছেন ভুক্তভোগীরা। তবুও মাটি কাটা বন্ধ হয়নি।
একাধিক সূত্র জানিয়েছে, কালাই পৌর এলাকায় কাজীপাড়া মহল্লায় পুকুর সংস্কারের নামে উপজেলা নির্বাহী অফিস থেকে অনুমতি নিয়ে আড়াই মাস ধরে মাটি কেটে বিক্রি করছেন তালুকদারপাড়া মহল্লার রুহুল আমিন তালুকদার। উদয়পুর ইউনিয়নের তালোড়া বাইগুনী গ্রামের বাবু মনিশ চৌধুরীর পুকুরের মাটি বিক্রি করছেন আওড়া গ্রামের আবদুল হাকিম, উদয়পুর ইউনিয়নের বহুতি গ্রামের মাটি কেটে বিক্রি করছেন সুজাউল ইসলাম, জিন্দারপুর ইউনিয়নের বেলগড়িয়া গ্রামের ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে বিক্রি করছেন রফিকুল ইসলাম, মাত্রাই ইউনিয়নের শালগুন গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেন, পুনট ইউনিয়নের দেওগ্রামের বিপ্লব হোসেন চৌধুরী, নান্দাইল গ্রামের মাটি কাটছেন বুলেট হোসেনসহ অনেকে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার পুকুর ও ফসলি জমির মাটি কেটে নিয়ে উচ্চমূল্যে বিক্রি করছেন তারা।
পুনটের বাসিন্দা ছাইদুর রহমান জানান, মাটিখেকোদের অধিকাংশই স্থানীয় প্রভাবশালী। তারা পুকুর ও জমির মালিকদের অল্প পরিমাণে টাকা দিয়ে ওপরের ২-১ ফুট মাটি কিনে নেয়। তার পর ধীরে ধীরে পুকুর ও জমির মাটি সমানতালে খনন না করে কোথাও গভীর আবার কোথাও উঁচু রেখে কাটতে থাকে। কৃষকরা তাদের ভয়ে কথা বলতে পারেন না।
মোলামগাড়ীহাট এলাকার কৃষক বকুল মিয়া বলেন, দিন-রাত কৃষকের পুকুর ও জমির মাটি কাটে চক্র। নিষেধাজ্ঞা থাকায় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে তারা রাতে মাটি কেটে নিয়ে যায়। প্রশাসন যখন অভিযান চালায়, তখন ২-৪ ঘণ্টা মাটি কাটা বন্ধ রাখে। আবার ওই সময় পুষিয়ে নিতে শুক্র ও শনিবার মাটি কাটা জোরদার করে তারা। কারণ এ দু’দিন অফিস বন্ধ থাকে।
কালাই পৌর বিএনপির আহ্বায়ক সাজ্জাদুর রহমান তালুকদার বলেন, মাটি লুটের জন্য উপজেলায় বেশ কয়েকটি গ্রুপের শক্তিশালী চক্র গড়ে উঠেছে। প্রশাসন চেষ্টা করেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছে না। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষক।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইফতেখার রহমান বলেন, বেশ কয়েকবার অভিযান চালানো হয়েছে। ড্রেজার, ভেকু, ট্রাক্টর জব্দ ও জরিমানা করেও মাটি কাটা বন্ধ করা যাচ্ছে না। সামনে আরও কঠোর অভিযান চালানো হবে।
উৎস: Samakal
এছাড়াও পড়ুন:
ঈদের শাড়ি পরে রান্নার সময় আগুন লেগে গৃহবধূর মৃত্যু
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ঈদের দিন নতুন শাড়ি পরে রান্না করার সময় আগুন লেগে ঊর্মি আক্তার নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। গত সোমবার সকালে আগুনে দগ্ধ হন ঊর্মি। ওইদিন রাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
ঊর্মি (২৫) উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নের খাসখামা গ্রামের দেয়াঙ আলী চৌধুরীবাড়ির নঈম উদ্দিন ওরফে বাঁচা মিয়ার স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদের দিন নতুন শাড়ি পরা অবস্থায় ঊর্মি রান্না করছিলেন। তখন অসাবধানতাবশত চুলা থেকে শাড়িতে আগুন ধরে যায়। এক পর্যায়ে তিনি রান্নাঘর থেকে বের হয়ে চিৎকার করেন। পরে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১১টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম জানান, শাড়িতে আগুন লেগে গৃহবধূ ঊর্মির শরীরের প্রায় ৮০ শতাংশ পুড়ে যায়।
আনোয়ারা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. তৈয়্যবুর রহমান জানান, ওই গৃহবধূর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ মর্গে রাখা হয়েছে।