লাল পতাকা দেখে থেমে গেল ট্রেন, দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা
Published: 26th, January 2025 GMT
গাজীপুরের মহানগর এলাকার ধীরাশ্রমে রেললাইন বাঁকা হয়ে গেলে সেখানে লাল পতাকা দেখে দ্রুতগামী ট্রেনটি থামান চালক। এতে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেনটি দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পায়। আর এভাবে অল্পের জন্য বেঁচে যায় ট্রেনের সহস্রাধিক যাত্রী।
রবিবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে বিষিয়টি নিশ্চিত করেছেন জয়দেবপুর রেলওয়ে জংশন স্টেশনের মাস্টার হানিফ আলী। এর আগে দুপুর আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
হানিফ আলী বলেন, ধীরাশ্রম এলাকায় রেললাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ কারণে ঢাকা থেকে চাঁপাইগামী বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেনটি সেখানে আটকে আছে। লাইন মেরামত করার পর ট্রেনটি গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা করবে। এ ঘটনার কারণে ঢাকা-জয়দেবপুর ডুয়েল গেজ ডাবল লাইনের আপলাইনটি বন্ধ রয়েছে। অপর লাইন দিয়ে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
আরো পড়ুন:
রাজবাড়ীতে ট্রেনে কাটাপড়ে যুবকের মৃত্যু
মাইলেজ না দিলে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির হুমকি রেল কর্মচারীদের
স্থানীয়রা জানায়, ট্রেনটি থামার মাত্র আধা ঘণ্টা আগে আরেকটি ট্রেন এই লাইন অতিক্রম করে গেছে। পরে রেলের কর্মীরা এখানে এসে দেখতে পান ঢাকা-গাজীপুর ডুয়েল গেজ আপলাইনের একটি রেললাইন প্রায় ২০ মিটার বাঁকা হয়ে স্লিপার লক ভেঙে সরে গেছে। এ সময় রেলের নিরাপত্তাকর্মীরা বিষয়টি দেখতে পান। তারা বেঁকে যাওয়া রেললাইনের পাশে লাল পতাকা টানিয়ে দেন। তারা উভয় পাশের স্টেশনকে বিষয়টি জানান।
ঢাকা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেনটি এই বার্তা পায়নি। দ্রুতগামী ট্রেন সহস্রাধিক যাত্রী নিয়ে মহানগরীর ধীরাশ্রম রেলস্টেশন অতিক্রম করে কিছু দূর এগিয়ে রেললাইনের ওপর লাল পতাকা দেখতে পায়। বিপদ চিহ্ন দেখে ট্রেনের লোকোমাস্টার সেখানে ট্রেনটি থামিয়ে দেন। ট্রেনটি বেঁকে যাওয়া রেললাইন থেকে মাত্র ৪০ মিটার দূরে এসে থেমে যায়।
ঢাকা-চাঁপাইগামী বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেনের পরিচালক মোখলেছুর রহমান জানান, ধীরাশ্রম এলাকায় এসে রেললাইনের ওপর লাল পতাকা দেখতে পান। তাৎক্ষণিকভাবে নির্দেশ দিলে ট্রেনটি এখানে থামানো হয়। পরে নেমে এসে নিরাপত্তাকর্মীদের কাছ থেকে ঘটনা জানা যায়।
তিনি আরো জানান, কীভাবে রেললাইনের স্লিপারের লকগুলো খুলে গেল এবং রেললাইন বাঁকা হয়ে গেল, তা বোঝা যাচ্ছে না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। টেকনিক্যাল লোকজন এলে বিষয়টি জানা যাবে।
ঢাকা/রফিক/বকুল
.উৎস: Risingbd
এছাড়াও পড়ুন:
চুয়াডাঙ্গায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুইজনের মুত্যু
চুয়াডাঙ্গায় পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ইয়াসিন আলী (২৪) ও মাহির তাজয়ার তাজ (১৫) নামে দুইজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে।
বুধবার (২ এপ্রিল) চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ সড়কের নবিননগরে একটি ও গত ২৭ মার্চ চুয়াডাঙ্গা শহরের টাউন ফুটবল মাঠের সামনে অপর দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত মাহির তাজওয়ার তাজ আলমডাঙ্গা উপজেলার গড়চাপড়া গ্রামের ইউসুফ আলী মাস্টারের ছেলে ও ইয়াসিন আলী চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার তালতলা গ্রামের দিদার আলীর ছেলে।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খালিদুর রহমান, জানান, অসাবধানতা ও বেপরোয়া মোটরসাইকেল ড্রাইভ করতে যেয়ে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এই দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার বিকালে চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ সড়কের নবিননগরে দুটি মোটর সাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে মাহির তাজওয়ার তাজ গুরুতর আহত হয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। রাতে তার শারিরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে। পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে রাজশাহী নিয়ে যাওয়ার পথে রাত ৮ টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সে মাহির মারা যায়।
অন্যদিকে গত ২৭ মার্চ চুয়াডাঙ্গা শহরের টাউন ফুটবল মাঠের সামনে ইয়াসিন আলী মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দ্রুতগামী ট্রাকের নিচে পড়ে যায়। এসময় তার দুই পা ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে গুঁড়িয়ে যায়। তাকে প্রথমে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত ৬ দিনের মাথায় বুধবার (২ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে ইয়াসিন মারা যায়।
দুটি দুর্ঘটনায় কোনো পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের না করায় সুরতহাল রিপোর্ট শেষে স্ব স্ব পরিবারের কাছে তাদের মৃতদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।
ঢাকা/মামুন/টিপু