‘‘বিশ্বব্যাপী আমেরিকার সাময়িক বন্ধ করা হয়েছে। এতে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। এটা শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়। আমেরিকার নতুন সরকার আসার পর এমন সিদ্ধান্ত প্রত্যাশিতই ছিল।’’

চীন সফর শেষ দেশে ফিরে রবিবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পর সম্প্রতি মিশর ও ইসরায়েল বাদে বিশ্বের সব দেশের জন্য সহায়তা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই নির্দেশনার জেরে আমেরিকার আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএইড বাংলাদেশেও তাদের সহায়তা প্রদান স্থগিত করেছে। রবিবার এক চিঠিতে সংস্থাটির পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

সহায়তা প্রদান বন্ধ সংক্রান্ত একটি গোপন নথিতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, বিদ্যমান বা নতুন সহায়তার বিষয়গুলো পর্যালোচনা এবং অনুমোদিত না হওয়া পর্যন্ত নতুন করে অর্থ ছাড় দেওয়া হবে না। আগামী ৮৫ দিনের মধ্যে বিদেশি সহায়তার বিষয়গুলো রিভিউ করা হবে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘আমেরিকাই প্রথম’ নীতির অংশ এই উদ্যোগ।

ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘‘ভারতের ভিসা না পাওয়ায় বাংলাদেশিদের চিকিৎসার জন্য চীনের কুনমিংকে বিকল্প হিসেবে ভাবছে সরকার। চীনের ভিসা সহজ করা এবং ভিসা ফি কমানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।’’

তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘‘বাংলাদেশে একটি বড় হাসপাতাল করে দিতে রাজি হয়েছে চীন। এখন স্থান নির্বাচন নিয়ে কথাবার্তা চলছে। আমরা বলেছি, পূর্বাচলে সুন্দর জায়গা রয়েছে। সেখানে আমরা জায়গা দেওয়ার কথা তাদের বলেছি।’’

তিনি আরো বলেন, ‘‘চীনের সঙ্গে আলোচনায় ঋণের সুদ হার কমানো এবং পরিশোধের সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখা গেছে। তারা আশ্বাস দিয়েছে বিষয়টি দেখবে।’’

তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘‘জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ সম্পর্কিত তথ্য পেতে চীনের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্বাক্ষর হয়েছে। এতে প্রয়োজনীয় গবেষণা সংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত সরবরাহের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। ব্রহ্মপুত্র নদে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ হলে পানি প্রবাহ কমবে না।’’

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আরো বলেন, ‘‘ব্রহ্মপুত্র নদীতে বাঁধ নির্মাণের বিষয়ে চীনকে উদ্বেগ জানিয়েছে বাংলাদেশ। তবে তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।’’

ঢাকা/হাসান/এনএইচ

.

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর পরর ষ ট র

এছাড়াও পড়ুন:

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে চাকরিচ্যুতদের পুনর্বহালের দাবি

হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার এবং চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানকে স্মারকলিপি দিয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা–কর্মচারী। 

বৃহস্পতিবার ২৮ হাজার ৩০৭ কর্মীর সই করা এক হাজার ৪২৮ পৃষ্ঠার এই স্মারকলিপি উপদেষ্টার দপ্তরে জমা দেওয়া হয়। 

এতে বলা হয়, সংস্কার দাবির কারণে মাঠপর্যায়ে কোনো কর্মসূচি না থাকা সত্ত্বেও গত ১৬ অক্টোবর পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) ১০ জন কর্মকর্তাকে বিনা নোটিশে চাকরিচ্যুত করে। একই দিন তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। পরদিন সকাল থেকে শুরু হয় কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার এবং আরও ১৪ জনকে চাকরিচ্যুত করা হয়। এই ঘটনায় সমিতির কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশার জন্ম দেয়, যার ফলে কিছু এলাকায় সাময়িক বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটে।

স্মারকলিপি আরও বলা হয়, আরইবি এখনও মামলা, চাকরিচ্যুতি, বদলি, সাসপেন্ড বিভিন্ন হয়রানিমূলক পদক্ষেপ অব্যাহত রেখেছে। শুধু স্মারকলিপিতে সই দেওয়ার কারণেও সম্প্রতি মাদারীপুর ও রাজশাহীর কর্মকর্তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। প্রায় অর্ধশতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সংযুক্ত করে তদন্তের নামে হয়রানি ও শাস্তি দেওয়ার চেষ্টা চলছে। চাকরি হারিয়ে, মামলা ও জেল-জুলুমের শিকার হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো খুবই মানবেতর জীবনযাপন করছে। এমনকি ক্ষতিগ্রস্তদের ছেলেমেয়ের পড়াশোনাও চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। এর আগে গত ২৫ জানুয়ারি সমিতির ৩০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর সই করা স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। 

স্মারকলিপিতে মামলা প্রত্যাহার ও চাকরিচ্যুতদের পুনর্বহালের দাবি জানানো হয়েছে। 

সম্পর্কিত নিবন্ধ