মার্কিন সহায়তা সাময়িক বন্ধ, উদ্বিগ্নের কিছু নেই: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
Published: 26th, January 2025 GMT
‘‘বিশ্বব্যাপী আমেরিকার সাময়িক বন্ধ করা হয়েছে। এতে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। এটা শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়। আমেরিকার নতুন সরকার আসার পর এমন সিদ্ধান্ত প্রত্যাশিতই ছিল।’’
চীন সফর শেষ দেশে ফিরে রবিবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পর সম্প্রতি মিশর ও ইসরায়েল বাদে বিশ্বের সব দেশের জন্য সহায়তা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই নির্দেশনার জেরে আমেরিকার আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএইড বাংলাদেশেও তাদের সহায়তা প্রদান স্থগিত করেছে। রবিবার এক চিঠিতে সংস্থাটির পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
সহায়তা প্রদান বন্ধ সংক্রান্ত একটি গোপন নথিতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, বিদ্যমান বা নতুন সহায়তার বিষয়গুলো পর্যালোচনা এবং অনুমোদিত না হওয়া পর্যন্ত নতুন করে অর্থ ছাড় দেওয়া হবে না। আগামী ৮৫ দিনের মধ্যে বিদেশি সহায়তার বিষয়গুলো রিভিউ করা হবে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘আমেরিকাই প্রথম’ নীতির অংশ এই উদ্যোগ।
ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘‘ভারতের ভিসা না পাওয়ায় বাংলাদেশিদের চিকিৎসার জন্য চীনের কুনমিংকে বিকল্প হিসেবে ভাবছে সরকার। চীনের ভিসা সহজ করা এবং ভিসা ফি কমানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।’’
তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘‘বাংলাদেশে একটি বড় হাসপাতাল করে দিতে রাজি হয়েছে চীন। এখন স্থান নির্বাচন নিয়ে কথাবার্তা চলছে। আমরা বলেছি, পূর্বাচলে সুন্দর জায়গা রয়েছে। সেখানে আমরা জায়গা দেওয়ার কথা তাদের বলেছি।’’
তিনি আরো বলেন, ‘‘চীনের সঙ্গে আলোচনায় ঋণের সুদ হার কমানো এবং পরিশোধের সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখা গেছে। তারা আশ্বাস দিয়েছে বিষয়টি দেখবে।’’
তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘‘জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ সম্পর্কিত তথ্য পেতে চীনের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্বাক্ষর হয়েছে। এতে প্রয়োজনীয় গবেষণা সংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত সরবরাহের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। ব্রহ্মপুত্র নদে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ হলে পানি প্রবাহ কমবে না।’’
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আরো বলেন, ‘‘ব্রহ্মপুত্র নদীতে বাঁধ নির্মাণের বিষয়ে চীনকে উদ্বেগ জানিয়েছে বাংলাদেশ। তবে তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।’’
ঢাকা/হাসান/এনএইচ
.উৎস: Risingbd
কীওয়ার্ড: চ কর চ কর পরর ষ ট র
এছাড়াও পড়ুন:
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক ইস্যু সমাধানের আশা
যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে চলমান আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক ইস্যু সমাধানে ইতিবাচক অগ্রগতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
প্রেস সচিব জানান, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্ক পর্যালোচনা করছে বাংলাদেশ।
বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) দ্রুত শুল্কহার যৌক্তিক করার বিভিন্ন বিকল্প খুঁজে বের করবে, যা এই বিষয়টি সমাধানে অত্যন্ত জরুরি।
তিনি আরো লেখেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং আমাদের সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য। ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে আমরা দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য একযোগে কাজ করে আসছি। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক ইস্যু সমাধানে ইতিবাচক অগ্রগতি হবে বলে আশা করছি।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশি পণ্যে শুল্ক বাড়িয়ে ৩৭ শতাংশ ধার্য করেন। আগে দেশটিতে বাংলাদেশি পণ্যে শুল্কের হার ছিলো গড়ে ১৫ শতাংশ। অতিরিক্ত শুল্কের কারণে দেশের রপ্তানি বাজারে বিশেষ করে পোশাক খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের পণ্যের ওপর ২৬ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। পাকিস্তানের পণ্যের ওপর আরোপ করা হয়েছে ২৯ শতাংশ শুল্ক। চীনা পণ্যের ওপর আরোপ করা হয়েছে ৩৪ শতাংশ শুল্ক।
এছাড়া, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ, ভিয়েতনামের পণ্যের ওপর ৪৬ শতাংশ, শ্রীলঙ্কার পণ্যে ৪৪ শতাংশ, তাইওয়ানের পণ্যে ৩২ শতাংশ, জাপানের পণ্যে ২৪ শতাংশ, দক্ষিণ কোরিয়ার পণ্যে ২৫ শতাংশ, থাইল্যান্ডের পণ্যে ৩৬ শতাংশ, সুইজারল্যান্ডের পণ্যে ৩১ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ার পণ্যে ৩২ শতাংশ, মালয়েশিয়ার পণ্যে ২৪ শতাংশ, কম্বোডিয়ার পণ্যে ৪৯ শতাংশ, যুক্তরাজ্যের পণ্যে ১০ শতাংশ, দক্ষিণ আফ্রিকার পণ্যে ৩০ শতাংশ, ব্রাজিলের পণ্যে ১০ শতাংশ, সিঙ্গাপুরের পণ্যে ১০ শতাংশ, ইসরায়েলের পণ্যে ১৭ শতাংশ, ফিলিপাইনের পণ্যে ১৭ শতাংশ, চিলির পণ্যে ১০ শতাংশ, অস্ট্রেলিয়ার পণ্যে ১০ শতাংশ, তুরস্কের পণ্যে ১০ শতাংশ, কলম্বিয়ার পণ্যে ১০ শতাংশ আরোপ করা হয়েছে।
ঢাকা/ইভা