ঢাকা পর্বে বরিশালের পরিকল্পনা জানালেন নবি
Published: 26th, January 2025 GMT
ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ফরচুন বরিশালের এবারের বিপিএল যাত্রার মূল লক্ষ্য শিরোপা ধরে রাখা। তবে এ পথ মোটেও সহজ নয়। প্রতিটি ধাপে মনোযোগ দিয়ে এগোতে হবে। গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে প্লে-অফ এবং সেখান থেকে ফাইনাল-এই ধাপে ধাপে লক্ষ্য পূরণের পরিকল্পনায় এগোচ্ছে দলটি।
দলটির অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নবি মিরপুর একাডেমি মাঠে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে জানান বরিশালের বর্তমান লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা। তিনি বলেন, ‘আমাদের এখনও চারটি ম্যাচ বাকি রয়েছে। আমাদের মূল লক্ষ্য এই ম্যাচগুলো জিতে পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষ দুইয়ে জায়গা নিশ্চিত করা।’
তামিম ইকবালের নেতৃত্বে বরিশাল বর্তমানে পয়েন্ট তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। আট ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে তারা প্লে-অফের খুব কাছাকাছি। শীর্ষ দুইয়ে থাকার সুবিধা নিয়ে নবি বলেন, ‘প্লে-অফ ফরম্যাটের কারণে সেরা দুইয়ে থাকা খুব গুরুত্বপূর্ণ। শীর্ষ দুইয়ে থাকা মানে প্লে-অফে একটি ম্যাচ জিতেই সরাসরি ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করা। ঠাসা সূচিতে একটি ম্যাচ কম খেলার সুযোগ যে কোনো দলের জন্য বড় স্বস্তি।’
দলীয় কৌশলের অন্যতম প্রধান দিক হিসেবে সঠিক কম্বিনেশন খুঁজে বের করার ওপর জোর দেন নবি। তিনি বলেন, ‘প্রতিটি দলের নিজস্ব কম্বিনেশন থাকে। কেউ আসছে, কেউ যাচ্ছে। আমাদেরও লিগ পর্বের বাকি চার ম্যাচের জন্য সঠিক কম্বিনেশন খুঁজে বের করতে হবে এবং প্লে-অফের জন্য সেরা কম্বিনেশন গড়তে হবে। এটি দলের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রতিটি ম্যাচের জন্য সঠিক পরিকল্পনা করাটা আমাদের জন্য জরুরি।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘এই টুর্নামেন্টে প্রতিটি খেলোয়াড়ই তাদের দেশের প্রতিনিধিত্ব করছে এবং জয়টাই সবার লক্ষ্য। আমাদেরও সেই একই প্রক্রিয়া ধরে রাখতে হবে। প্রতিটি ম্যাচ আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, আর আমরা সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
.উৎস: Samakal
এছাড়াও পড়ুন:
আমরা সবাই খানিকটা লোভী: জয়া
সারা বছর ঢাকা-কলকাতা ছুটেই সময় কাটে জয়া আহসানের। ঈদ উৎসব উপলক্ষে খানিকটা নিশ্চিন্তে শ্বাস নেওয়ার সুযোগ পান। এখনো পরিবার নিয়ে ঈদ আনন্দ উপভোগ করছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এই অভিনেত্রী।
ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মুক্তি পেয়েছে জয়া আহসান অভিনীত ওয়েব সিরিজ ‘জিম্মি’। আশফাক নিপুণ নির্মিত এ সিরিজ ওটিটি প্ল্যাটফর্ম হইচইয়ে দেখা যাচ্ছে। মুক্তির পর বেশ সাড়াও ফেলেছি এটি।
‘জিম্মি’ সিরিজ দিয়ে ওটিটিতে অভিষেক হলো জয়া আহসানের। এতটা দেরিতে এই মাধ্যমে কাজ করার কারণ ব্যাখ্যা করে জয়া বলেন, “আমরা সবাই খানিকটা লোভী, বড় পর্দার কাজগুলোকে প্রাধান্য দিচ্ছিলাম। মাঝে মনে হয়েছিল ওটিটিতে কাজ করা উচিত, প্রস্তাবও আসছিল। কিন্তু ঠিক চরিত্রের অপেক্ষায় ছিলাম। হইচই প্ল্যাটফর্মের ‘জিম্মি’ সেই সুযোগটা করে দিয়েছে। পাশাপাশি (আশফাক) নিপুণ আমার খুব পছন্দের পরিচালক। তার সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাও দারুণ। সব মিলিয়ে এটা একেবারে নতুন অভিজ্ঞতা। সে জন্যই হয়েতো এক্সাইটমেন্ট অনেকটা বাচ্চাদের মতো।”
আরো পড়ুন:
‘কুইন অব দ্য ইয়ার’ জয়া
জয়া আহসান আমাদের প্রত্যাশা পূরণ করেছেন: আশফাক নিপুণ
‘জিম্মি’ সিরিজের চরিত্রে অভিনয়ের সম্মতি দেওয়ার বিষয়ে জয়া আহসান বলেন, “আসলে মহিলা চরিত্রদের যখনই কাস্ট করা হয়, সাধারণত ব্ল্যাক বা হোয়াইট শেডে ফেলে দেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। গ্রে এরিয়াটাকে একটু এড়িয়ে চলা হয়। মানুষের সাতটি রিপু, বিশেষ করে লোভ যেভাবে তুলে ধরা হয়েছে কাহিনিতে, সেটা আমাকে আকর্ষণ করেছিল। আর মানুষ কিন্তু এই চরিত্রটিকে ভালোবাসছেন।”
নারী প্রধান কাজের সুযোগ কী কম? এমন প্রশ্নের জবাবে জয়া আহসান বলেন, “হ্যাঁ। সেই সুযোগটা সত্যিই কম। কলকাতায় সুযোগ পেলেও বাংলাদেশে সেটা খুবই কম। যেমন অতনুদা (অতনু ঘোষ) ‘রবিবার’, ‘বিনিসুতোয়’-এ কাজের সুযোগ দিলেন, টনিদা (অনিরুদ্ধ রায়চৌধুরী) দিলেন ‘ডিয়ার মা’-এর মতো কাজ। এ রকম বেশ কিছু কাজ কলকাতায় করলেও বাংলাদেশে তেমনটা ঠিক পাই না। নারী কেন্দ্রিক চরিত্র দিয়ে সিনেমা হলে মানুষকে নিয়ে আসার চেষ্টার দিকে বাংলাদেশে এখনো খানিকটা খামতি রয়েছে। ‘ডুবসাঁতার’ পেয়েছি ঠিকই, তবে নিজের জন্মস্থানে আর একটু বেশি এই ধরনের কাজ পাওয়া উচিত। আমি একটু বেশি ডিজার্ভ করি।”
ঈদুল ফিতরে মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমার উদাহরণ টেনে জয়া আহসান বলেন, “এবারের ঈদে বাংলাদেশে পাঁচটা সিনেমা বড় পর্দায় মুক্তি পেয়েছে। তার বেশিরভাগই প্রচণ্ডভাবে পুরুষকেন্দ্রীক চরিত্রদের নিয়ে গল্প। সেগুলোও ভালো ফল করছে। তবে সিনেমা তো সমাজের আয়না। তাই শুধু মেল প্রোটাগনিস্টের সাহায্যে হল ভরানোর ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে নারীকেন্দ্রীক সিনেমাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া উচিত। দায়িত্ব নিয়ে সেই বদলটা আমাদের সবাইকেই আনতে হবে।”
ঢাকা/শান্ত