বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সীমান্ত এলাকায় ‘অপস এলার্ট’ নামে অভিযান চালাচ্ছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষা বাহিনী-বিএসএফ। এই অভিযানে তারা বাংলাদেশের দর্শনার ওপারে পশ্চিমবঙ্গের গেদে সীমান্তের কাছে মাটির নিচে তিনিটি ট্যাঙ্ক খুঁজে পেয়েছে। আর এই তিন ট্যাঙ্ক বা বাংকারের ভেতরে মাটিচাপা দেওয়া ছিল ৬২ হাজার বোতল ফেনসিডিল।

বিএসএফ শনিবার (২৫ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্ত লাগোয়া পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কিষাণগঞ্জ থানার অন্তর্গত মাঝদিয়া শহরের নঘাটা এলাকায় অভিযান চালায় বিএসএফের দক্ষিণবঙ্গ ৩২ ব্যাটালিয়ন। তারা সেখানে ভূগর্ভস্থ তিনটি ট্যাঙ্ক থেকে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ কফসিরাপ ফেনসিডিল উদ্ধার। 
দক্ষিণবঙ্গ বিএসএফের ডিআইজি নিলোৎপাল কুমার পান্ডে সংবাদমাধ্যম এএনআইকে বলেছেন, মাটির নিচে বাংকার তৈরি করে তাতে থরে থরে সাজানো ফেনসিডিল! যার মূল্য প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ রুপি। এই ৬২ হাজার বোতল ফেনসিডিল বাংলাদেশে পাচারের অপেক্ষায় ছিল। এগুলো উদ্ধার করে বাজেয়াপ্ত করার হয়েছে।

ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সীমান্তে অপস এলার্ট অভিযান চালাচ্ছে বিএসএফ। ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই অভিযান চলবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। বিএসএফের ভাষায়- সীমান্তে চোরাকারবারি ও অবৈধ অনুপ্রবেশ রুখতে এই অভিযান দারুণ ফল দেবে।

ঢাকা/রাসেল

.

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর ব এসএফ

এছাড়াও পড়ুন:

কুড়িগ্রাম সীমান্তে বিএসএফের রাবার বুলেটে ভারতীয় চোরাকারবারী নিহত

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফের রাবার বুলেটে এক ভারতীয় চোরাকারবারী নিহত হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটলিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মেহেদী ইমাম। 

এইদিন সকালে উপজেলার গোরকমন্ডল সীমান্তের ৯২৯ নম্বর আন্তর্জাতিক সীমানা পিলারের ৩ নম্বর সাব পিলারের পাশে শূন্য লাইন থেকে প্রায় ২শ গজ ভারতের অভ্যন্তরে ভারতীয় মরাকুটি (ভোরাম পয়োস্তি) এলাকায় এ গুলির ঘটনা ঘটে। 

খবর পেয়ে লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটলিয়নের অধীন গোরকমন্ডল বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা সীমান্তে টহল জোরদার করে বিএসএফকে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানায়।

পরে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত ওই সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পতাকা বৈঠকে বিজিবির পক্ষে গোরকমন্ডল ক্যাম্পের কমান্ডার নায়েক সুবেদার ফিরোজ এবং বিএসএফের  পক্ষে ভারতীয় ৩ বিএসএফ ব্যাটলিয়নের অধীন ভারবান্দা গিদালদহ ক্যাম্পের কমান্ডার গিরিশ চন্দ্র নেতৃত্ব দেন। পতাকা বৈঠকের পর সকাল ১০টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে গুলিতে নিহত ওই ভারতীয় চোরাকারবারীর লাশ নিয়ে যায় বিএসএফ। 

বিজিবি জানায়, নিহত ব্যক্তির নাম জাহানুর আলম (২৪)। তিনি ভারতের কোচবিহার জেলার দিনহাটা থানার গিদালদহ এলাকার ভোরাম পয়োস্তি গ্রামের কবিদুল ইসলামের ছেলে। 

সীমান্তবাসী সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে একদল ভারতীয় চোরাকারবারী ওই সীমান্ত দিয়ে চোরাই মালের পোটলা নিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আসার চেষ্টা করে। এ সময় ভারতীয় ভারবান্দা ক্যাম্পের টহলরত বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এতে ভারতীয় চোরাকারবারী জাহানুর রাবার বুলেটের স্প্রিন্ট বিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলের এক জলাশয়ে পরে নিহত হয়। বাকিরা পালিয়ে যায়। এসময় গোলাগুলির শব্দে গোটা সীমান্ত এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে। 

এদিকে বেলা ১১ টার দিকে লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মেহেদী ইমাম ওই সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। 

লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটলিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মেহেদী ইমাম জানান, বিএসএফের কাছে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, ভোরের দিকে একদল ভারতীয় নাগরিক টহলরত বিএসএফ পোস্টে হামলা চালায়। তখন আত্মরক্ষার্থে বিএসএফ রাবার বুলেট নিক্ষেপ করলে এক ভারতীয় নাগরিক নিহত হয়। বিষয়টি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এর সাথে বাংলাদেশ বা বিজিবির কোন সম্পর্ক নাই। তারপরও সীমান্তে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

ঢাকা/বাদশাহ্/টিপু

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • বাংলাদেশি ভেবে বিএসএফের গুলি, ভারতীয় চোরাকারবারি নিহত
  • কুড়িগ্রাম সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ভারতীয় নাগরিক নিহত
  • কুড়িগ্রাম সীমান্তে বিএসএফের রাবার বুলেটে ভারতীয় চোরাকারবারী নিহত