Samakal:
2025-04-03@05:07:01 GMT

মনের অসুখ

Published: 25th, January 2025 GMT

মনের অসুখ

মন কি প্রাণিসত্তার অংশ নয়? সেটি তো সবচেয়ে বড় অংশ, যা আমাদের বাঁচিয়ে রাখে। দৃশ্যমান নয় বলে মনের কি অসুখ হতে পারে না? জ্বর, ঠান্ডা, ক্যান্সার, টিউমার, কভিড ইত্যাদি সমস্যার ব্যাপারে আমরা অবগত। আমরা মনের একটা রোগের নাম বলতে পারি না। বাংলাদেশে প্রায় ২৪ হাজার মানুষ প্রতিবছর আত্মহত্যা করে এবং পৃথিবীতে এর সংখ্যা প্রায় ৭ লাখের কাছাকাছি। তা সত্ত্বেও আমরা কি এ বিষয় নিয়ে জানার প্রায়োজন বোধ করি? 

মনের বিভিন্ন ধরনের রোগ হয়। যেমন– ওসিডি বা অবসেসিভ কমপালসিভ ডিসঅর্ডার। এই রোগে ভুক্তভোগীরা একই কাজ বার বার করে। কারণ, তারা কাজটি করে শান্তি পায় না। মনে হয় ভালো হলো না। ভুল হচ্ছে। তাই তারা একই কাজ বারবার করে; যাকে আমরা শুচিবাই বলে থাকি। অনেকেরই এটি থাকে।  ঝামেলা তখন বাধে যখন এটি মাত্রাতিরিক্ত হারে বেড়ে যায়। আশপাশের সবাই না বুঝে বকাঝকা করে নানান কথা বলে, কিন্তু এই ব্যাপারটা তার নিয়ন্ত্রণে থাকে না। সে বুঝতে পেরেও সেটি বন্ধ করতে পারে না। দীর্ঘদিন এ যন্ত্রণা ভোগ করতে না পেরে অনেকে মৃত্যুকে বেছে নেয়। চিকিৎসক দেখিয়ে কিছু ওষুধ খেলেই এটি সেরে যায়। দরকার শুধু একটু সচেতনতা আর পাশে থাকে এমন একজন মানুষ। 

মনের আরেকটি রোগের নাম বাইপোলার ডিসঅর্ডার। এটি মনের অন্যতম কঠিন একটি রোগ। যেখানে আপনার মন হঠাৎ পরিবর্তন হয়ে যাবে। এই খুশি, আবার এই কান্না। মাঝ রাতে উঠে মেকআপ করতে বসবেন। আবার করতে করতেই হঠাৎ এসে শুয়ে কাঁদতে থাকবেন। এটি একটানা অনেকদিন থাকতে পারে। যেমন আপনি তিন দিন ধরে খালি শুয়েই আছেন আর কাঁদছেন অথচ নিজেও জানেন না। 
ইনসুমনিয়া তথা নিদ্রাহীনতা মনের আরেকটি রোগের নাম। এক, দুই, চার দিন পর্যন্ত নির্ঘুম কেটে যেতে পারে।  দীর্ঘদিন এভাবে গেলে সমস্যাটি প্রকট আকারে রূপ নেয়। দীর্ঘদিন ঘুম না হওয়ার কারণে মস্তিষ্ক কাজ করা বন্ধ করে দেয়। ফলে হ্যালুসিনেশন, রাগ, সন্দেহ, আত্মঘাতীমূলত পদক্ষেপও দেখা দেবে। এমন হলে দরকার সঠিক চিকিৎসা এবং কিছু কাউন্সেলিং।
মনের রোগ হিসেবে হতাশা বা ডিপ্রেশনের কথা আমরা সবাই শুনে থাকি। খুবই সাধারণ ঘটনা। চাকরি না থাকা, দীর্ঘদিন এক রুটিন, সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া, কাঙ্ক্ষিত বা প্রিয় জিনিস না পাওয়া ইত্যাদি। প্রাথমিক পর্যায়ের হতাশা তেমন কোনো সমস্যা নয়। দু’দিন পর সেরে যাবে। বেশি ভয়াবহ হলে তখন সমস্যা দেখা দেয়। সবচেয়ে প্রিয় কাজটাও করতে ভালো লাগে না। কান্না আসে। মনে হয় কেউ নেই। একা লাগে। এমন সময় সবচেয়ে বেশি দরকার একজন মানুষ যে আপনাকে বোঝে। আপনার হাতটা শক্ত করে ধরে থাকবে। নিজের চেষ্টা আর সামান্য ওষুধে এটি ঠিক হয়ে যায়।

মনের আরেকটি রোগের নাম ফোবিয়া। এ রোগে ভুক্তভোগীরা খুব বেশি ভয় পায়। তেলাপোকাকে অনেকে ভয় পেতে পারে। এ ভয় পাওয়াটা তেমন কিছু না। ফোবিয়ার বিষয়টি বেশ মাত্রাতিরিক্ত। এ ধরনের মানুষগুলোকে মজার ছলে হলেও ভয় দেখানো যাবে না। এতে তার হৃদযন্ত্রের কাজ বন্ধ হয়ে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। এটিও একধরনের মানসিক সমস্যা। 
মনের রোগ কখন কার হবে কেউ জানে না। ঠিক তেমন যেমন আমার কবে জ্বর হবে বলতে পারি না। পারিবারিক কলহ, কোনো ট্রমা, দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের কারও 
রোগ বা এমন যেকোনো কারণে এটি হতে পারে।

সিদরাতুল মুনতাহা ঐশ্বর্য: ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী 
 

.

উৎস: Samakal

কীওয়ার্ড: সমস য

এছাড়াও পড়ুন:

সম্প্রীতির উৎসবে সংঘাত কেন?

মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করিয়া সমগ্র দেশে যখন সম্প্রীতির সুর বাজিয়াছে তখন হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফরিদপুরসহ কতিপয় এলাকায় সশস্ত্র সংঘাতের ঘটনাবলি যথেষ্ট উদ্বেগজনক। আমরা জানি, রমজানের রোজার শেষে ‘খুশির ঈদ’ উৎসব উপলক্ষে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম তাঁহার বহুল শ্রুত সংগীতে ‘দোস্ত’ ও ‘দুশমন’ ভুলিয়া গিয়া সকলের সহিত করমর্দনের তাগিদ দিয়াছেন। কিন্তু তৎপরিবর্তে একের হস্ত অপরের উপর সক্রোধে ক্ষুব্ধ ক্রিয়া করিতেছে কেন? যেই সকল তুচ্ছ ঘটনায় এই সকল সংঘাত ঘটিয়াছে, উহাও কম উদ্বেগজনক নহে।

সমকাল অনলাইনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার কতিপয় ব্যক্তি বাণিজ্য উপলক্ষে ঢাকার মিরপুরে বসবাস করেন। কয়েক দিন পূর্বে তুচ্ছ বিষয় লইয়া তথায় তাঁহাদের মধ্যে হস্তযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। ঈদের ছুটিতে সকলে এলাকায় প্রত্যাবর্তন করিলে মঙ্গলবার উক্ত অঘটন লইয়া সালিশ বৈঠক চলাকালে উভয় পক্ষ লাঠিসোটা ও ধারালো অস্ত্র সহযোগে পরস্পরের উপর সমর্পিত হয়। ফলে দুই পক্ষের অন্তত ৪০ জন আহত হন। একই দিবসে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের মনসুরাবাদ গ্রাম ও তুজারপুর ইউনিয়নের সরইবাড়ি গ্রামে ‘আধিপত্য বিস্তার’কে কেন্দ্র করিয়া পৃথক দুই সংঘর্ষে আহত ন্যূনপক্ষে অর্ধশতাধিক মানুষ। অন্যদিকে মঙ্গলবারই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ফুটবল খেলায় বাধা প্রদানকে কেন্দ্র করিয়া দুই পক্ষের মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যথায় প্রায় ২০ জন আঘাতপ্রাপ্ত হন। ৩০ মার্চ তথা চন্দ্ররজনীতে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে দোকানের সম্মুখে ব্যাটারিচালিত রিকশা রাখার ন্যায় তুচ্ছ বিষয় লইয়া দুই দলের মধ্যে যেই তুমুল সংঘর্ষ হইল, উহাও বিস্ময়কর।

পল্লি অঞ্চলে প্রভাবশালী পরিবার কিংবা পক্ষসমূহের আধিপত্য বিস্তারের প্রবণতা বহুল আলোচিত। সেই আধিপত্য বিস্তারে সংঘর্ষে সংশ্লিষ্ট হইবার ঘটনাও বিরল নহে। কিন্তু রাষ্ট্র ও সামাজিক কাঠামোতে ইতোমধ্যে বহু পরিবর্তন সাধিত হইলেও সামন্ত যুগের সেই সংঘাত-সংঘর্ষ হইতে বিশেষত পল্লি অঞ্চলসমূহ অদ্যাবধি বাহির হইতে পারে নাই। বরং রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ অনেকাংশেই সেই প্রভাবশালীদের স্থান দখল করিয়াছেন। তাহাদের আশীর্বাদপুষ্ট গোষ্ঠীসমূহ তাই বিবিধ অজুহাতে প্রায়শ সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। উল্লিখিত ঘটনাবলি বিশ্লেষণ করিলেও হয়তো অধিকাংশ ক্ষেত্রে উহার প্রমাণ মিলিবে। কিন্তু ঈদুল ফিতরের ন্যায় সম্প্রীতির উৎসব উদযাপনকালেও যখন এহেন সংঘাত-সংঘর্ষের বিস্তার ঘটে, তখন আমাদের ললাট কুঞ্চিত না হইয়া পারে না। এহেন সংঘাত-সংঘর্ষে স্পষ্ট– ধর্মীয় বিধিবিধান তো দূরস্থান, উৎসবের মিলনাত্মক আমেজও উহাদের নিরস্ত করিতে পারিতেছে না।

আমরা জানি, ঈদ মানেই এমন এক উৎসব, যখন সকল প্রকার সামাজিক ব্যবধান-বৈষম্য অতিক্রম করিয়া মুসলমান সমাজ সমভিব্যাহারে আনন্দে মাতিয়া উঠে। এমনকি ধর্ম-বর্ণের ব্যবধানও এই সময়ে ঘুচিয়া যায়। অর্থাৎ ঈদুল ফিতর এমন এক উপলক্ষ লইয়া আসে যখন সমাজের সকল মানুষের একাট্টা হইবার অবকাশ সৃষ্টি হয়। সেই সময়ে যখন আলোচ্য সংঘর্ষের ন্যায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাবলি ঘটে তখন বুঝিতে হইবে, সমাজের মধ্যে কোনো না কোনো ব্যাধি দানা বাঁধিয়াছে। ইহার সুচিকিৎসা না হইলে এই সকল উৎপাত বৃদ্ধিই পাইবে। সুলুক সন্ধান জরুরি– কেন স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমক্ষে এহেন সংঘাত-সংঘর্ষ ঘটে। হবিগঞ্জের ঘটনায় জানা গিয়াছে, উভয় পক্ষ রীতিমতো ‘অগ্রিম ঘোষণা’ দিয়া সংঘর্ষে প্রবৃত্ত হইয়াছে। ইহার অর্থ, স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশকে এক প্রকার অবহিত করিয়াই তাহারা এহেন দুষ্কর্মে মনোনিবেশ করিয়াছে। এক্ষণে প্রশ্ন, প্রশাসন ও পুলিশ অগ্রিম ব্যবস্থা গ্রহণ করিল না কেন?

সম্পর্কিত নিবন্ধ