Samakal:
2025-04-03@01:27:56 GMT

অভাবে মেডিকেলে পড়া নিয়ে শঙ্কা

Published: 25th, January 2025 GMT

অভাবে মেডিকেলে পড়া নিয়ে শঙ্কা

অভাবের সংসার। অসুস্থ বাবার আয়-রোজগার না থাকায় স্বল্প আয়ের বড় ভাইদের ওপর নির্ভর পুরো পরিবার। যে কারণে বেতন-পরীক্ষা ফিসহ বিভিন্ন খরচ চালানো অসম্ভব হওয়ায় স্কুল-কলেজের শিক্ষকরা বাড়িয়ে দিয়েছেন সহযোগিতার হাত। সবার সহযোগিতায় গত বছর কোচিং করেও ভর্তির সুযোগ মেলেনি। তবুও থেমে যাননি দরিদ্র পরিবারের সন্তান মেধাবী শিমা আক্তার। জেদ ধরেন মেডিকেলে পড়ার। তাই টাকার অভাবে পুনরায় কোচিং করতে না পারলেও এবার আর চেষ্টা বিফলে যায়নি তার। বাড়িতে বসে পড়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজে। ১৯ জানুয়ারি প্রকাশিত ফলাফলে এ কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন তিনি। শিমার কৃতিত্বে খুশি শিক্ষক ও স্বজনরা।
শিমার মা আয়েশা বেগম জানান, ছোটবেলা থেকেই লেখাপড়ার প্রতি খুব আগ্রহ ছিল শিমার। অনেক কষ্টের পরও মেয়ের এমন কৃতিত্বে তারা আনন্দিত। তবে এর মধ্যে রয়েছে দুশ্চিন্তাও। কারণ, তার দুই ছেলে যে আয় করে তা দিয়ে সংসারের খরচ ও মেয়ের মেডিকেলের পড়াশোনার খরচ মেটানো অনেকটাই অসম্ভব।
পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ছোটবেলা থেকে পড়ালেখার প্রতি শিমার প্রচণ্ড আগ্রহ ছিল। পিএসসি, জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসিতে ভালো ফলাফল করেন তিনি। স্থানীয় চরপাগলা পাটওয়ারীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পাস করে ভর্তি হন চরকালকিনি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে। সেখান থেকে ৪.

৮৯ জিপিএ নিয়ে ২০২১ সালে এসএসসি পাস করে ভর্তি হন লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে। কিন্তু বাড়ি থেকে জেলা শহরের এ কলেজটিতে যাতায়াতের খরচ বহন করা সম্ভব না হওয়ায় নিয়মিত যাওয়া হতো না তার। তবুও সেখান থেকে ৪.৮৩ জিপিএ নিয়ে ২০২৩ সালে এইচএসসি পাস করেন শিমা। ওই বছর চেষ্টা করেও মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পাননি। তবে উচ্চশিক্ষার অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে ভর্তি না হয়ে এবার পুনরায় মেডিকেল পরীক্ষায় অংশ নেন। এবার সাফল্য ধরা দেয়।
পরিবারের ছয় সন্তানের মধ্যে শিমা পঞ্চম। কমলনগর উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের চরজাঙ্গালীয়া এলাকার দরিদ্র বাবা আলী আহাম্মদ দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকায় আয়-রোজগার নেই। বড় দুই ভাই মো. রিপন ও জাহাঙ্গীর আলমের স্বল্প আয়ে কোনো রকম চলছে তাদের সংসার। চরকালকিনি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার পর টাকার অভাবে শিমার লেখাপড়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। তখন শিক্ষকরা তাকে সম্পূর্ণ বিনা খরচে পড়ালেখা করার সুযোগ দেন। এভাবেই দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা চলে তার। সেখান থেকে এসএসসি পাসের পর একই ধরনের সহযোগিতা পান লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি হয়ে। সেখান থেকে এইচএসসি পাসের পর কোচিং ছাড়াই বাড়িতে বসে মেডিকেলে ভর্তির প্রস্তুতি নেন।
শিমা আক্তার জানান, দারিদ্র্য জয় করা বিভিন্ন গুণীজনের জীবনী পড়ে তিনি অনুপ্রাণিত হয়েছেন। এটাকে ধারণ করেই মেডিকেলে পড়ার স্বপ্ন দেখেন। প্রথমবার যখন সেই স্বপ্ন অধরা হয়ে পড়ে তখন মনে জেদ চাপে। ওই জেদই তাকে স্বপ্ন পূরণের কাছাকাছি নিয়ে যায়। এ সাফল্যের জন্য মা, ভাই ও শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে স্বপ্ন পূরণে সবার সহযোগিতা চান তিনি।  
শিমার এমন সাফল্যে খুশি তার প্রতিবেশী স্কুলশিক্ষক মিজানুর রহমান মানিক । তিনি জানান, ছোটবেলা থেকে শিমা অত্যন্ত মেধাবী ছাত্রী ছিল। শিমার পড়ালেখার জন্য তার পরিবারের সদস্যরা অনেক কষ্ট করেছেন। আজ তাদের কষ্ট সার্থক হলেও তাদের বড় চিন্তা পারিবারিক অভাব-অনটন।
চরকালকিনি আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক মাহমুদুর রহমান বেলায়েত বলেন, ‘এই বিদ্যালয়ে টাকার অভাবে পড়ালেখা শিমার বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। তখন মেধার কথা চিন্তা করে তার পড়ালেখার সব খরচ মওকুফ করা হয়েছিল।’
কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুচিত্র রঞ্জন দাস বলেন, ‘পারিবারিক অভাব-অনটনে থাকা একটি পরিবারের সদস্য হয়েও শিমা যে কৃতিত্ব দেখিয়েছেন তা সত্যিই প্রশংসনীয়। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিমাকে যথাসাধ্য সহযোগিতা করা হবে।’

উৎস: Samakal

কীওয়ার্ড: পর ব র র সহয গ ত

এছাড়াও পড়ুন:

আনন্দমোহন কলেজের এইচএসসি ৯৫ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের খাবার বিতরণ

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ময়মনসিংহ শহরে রিকশা ও অটোরিকশাচালকদের মাঝে খাবার বিতরণ করেছেন আনন্দমোহন কলেজের এইচএসসি ৯৫ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। গতকাল সোমবার ময়মনসিংহ শহরের কাচিঝুলি মোড়ে প্রায় তিন শতাধিক রিকশাচালকদের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হয়। 

জানা গেছে, ঈদের দিন হোটেল রেস্তোরাঁ বন্ধ থাকায় শহরে চলাচলর রিকশাচালকরা সারাদিন অভুক্ত থেকে রিকশা চালান। তাই তারা যাতে না খেয়ে রিকশা চালান সেজন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। 

খাবার বিতরণ কর্মসূচিতে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম ও ময়মনসিংহ জেলা ক্রীড়া সংস্থার এ্যাডহক কমিটির সদস্য মোহাম্মদ আলী। এইচএসসি ৯৫ ব্যাচের শিক্ষার্থী হাসনাত জামান সাগরের সঞ্চালনায় এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- ডাক্তার মুস্তাফিজুর রহমান মিন্টু, মোহাম্মদ অলিউর রহমান স্বপন, প্রফেসর আহাম্মদ হাসান জিন্নাহ, ডাক্তার হরিমোহন পণ্ডিত, শামসুল্লা সাগর, অধ্যাপক মনির মোস্তফা, নূরে আলম শিশির, ফরিদ আহমদ হুমায়রা তাসরিন শাম্মী প্রমুখ।

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • আনন্দমোহন কলেজের এইচএসসি ৯৫ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের খাবার বিতরণ