Samakal:
2025-04-03@01:46:03 GMT

পাউবোর বাঁধে বোরোর সর্বনাশ

Published: 25th, January 2025 GMT

পাউবোর বাঁধে বোরোর সর্বনাশ

কয়েকদিন ধরে আইলা ছাগাইয়া হাওরের নালা দিয়ে নামছে পাগনার হাওরের পানি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কাইল্লানির বাঁধের কারণে জলাবদ্ধতার মুখে পড়েছে জামালগঞ্জ উপজেলার হঠামারা মৌজার হঠামারা গ্রামের বোরো জমি। তলিয়ে যাচ্ছে বিশাল এলাকা।
এলাকাবাসী বৃহস্পতিবার এমন বিপদ থেকে রক্ষা পেতে পাগনার হাওরের পানি নিষ্কাশনে গজারিয়া স্লুইসগেটের নালা খননের জন্য আবেদন করেছেন। দ্রুত এ পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য এরই মধ্যে আবেদন করা হয়েছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর।
আবেদন সূত্রে জানা যায়, জামালগঞ্জ উপজেলার ফেনারবাক ইউনিয়নের হঠামারা গ্রামের ৭ থেকে ৮ হাজার একর বোরো জমি রয়েছে প্রান্তিক কৃষকদের। এর মধ্যে অধিকাংশ জমিতে বোরো ধানের চারা রোপণ করা হয়েছে মাত্র সপ্তাহখানেক আগে। বাকি জমিতে এখনও চারা রোপণের কাজ চলছে। 
এমন পরিস্থিতিতে হঠাৎ লক্ষ্মীপুর মৌজার পাগনার হাওরের পানি আইলা ছাগাইয়া হাওরের নালা দিয়ে নিষ্কাশন শুরু হওয়ায় সেখানকার বেশির ভাগ জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ধানের চারা পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে। এ নিয়ে কৃষক শঙ্কিত। এতে আরও উল্লেখ করা হয়, কাইল্লানির বাঁধ দেওয়ায় তারা এ ধরনের সমস্যায় পড়েছেন। গজারিয়া স্লুইসগেটের খাল খনন করে পানি নিষ্কাশন করলে হাওরের কোনো ক্ষতি হতো না। সে জন্য গজারিয়া খাল খনন করে স্লুইসগেট দিয়ে পাগনার হাওরের পানি নিষ্কাশনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
কৃষক আমিন উদ্দিন জানান, হঠামারা গ্রামের হাওরে ধানের চারা রোপণ করা হয়েছে। বুধবার রাতে লক্ষ্মীপুর ও ফেনারবাক মৌজার পানি হাওরে ঢুকে বোরো জমি ডুবে গেছে।
একই গ্রামের আব্দুল হেকিম জানান, কাইল্লানির বাঁধ বন্ধের কারণে পানি ফুলে হঠামারা মৌজার বোরো জমি তলিয়ে যাচ্ছে। এক ফসলি বোরো জমি তলিয়ে গেলে পরিবার নিয়ে কৃষকদের বিপর্যয়ে পড়তে হবে। এখনই ব্যবস্থা না নিলে কয়েক কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি হয়ে যাবে।
স্থানীয় কৃষক সংগঠক লক্ষ্মীপুর গ্রামের সিরাজুল হক অলি জানান, গজারিয়া খাল খনন করে স্লুইসগেট খুলে দিতে হবে। একই সঙ্গে ডালিয়া স্লুইসগেটের খাল আরও অন্তত ১০ দিন খোলা রাখতে হবে। এদিক দিয়ে পানি যাতে সুরমা নদীতে সহজে নেমে যেতে পারে সেই ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। চলমান পরিস্থিতির কারণে কাইল্লানি বাঁধের কাজ শেষ করতে হবে আরও দশ দিন পরে। তা না হলে যে ফসল রক্ষার জন্য বাঁধ নির্মাণের আয়োজন, সেই ফসলেরই অস্তিত্ব থাকবে না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুশফিকীন নূর জানান, কৃষকদের আবেদন পেয়েছেন। পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলীকে দ্রুত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

.

উৎস: Samakal

কীওয়ার্ড: ব যবস থ উপজ ল

এছাড়াও পড়ুন:

ঈদের শাড়ি পরে রান্নার সময় আগুন লেগে গৃহবধূর মৃত্যু

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ঈদের দিন নতুন শাড়ি পরে রান্না করার সময় আগুন লেগে ঊর্মি আক্তার নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। গত সোমবার সকালে আগুনে দগ্ধ হন ঊর্মি। ওইদিন রাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

ঊর্মি (২৫) উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নের খাসখামা গ্রামের দেয়াঙ আলী চৌধুরীবাড়ির নঈম উদ্দিন ওরফে বাঁচা মিয়ার স্ত্রী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদের দিন নতুন শাড়ি পরা অবস্থায় ঊর্মি রান্না করছিলেন। তখন অসাবধানতাবশত চুলা থেকে শাড়িতে আগুন ধরে যায়। এক পর্যায়ে তিনি রান্নাঘর থেকে বের হয়ে চিৎকার করেন। পরে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১১টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম জানান, শাড়িতে আগুন লেগে গৃহবধূ ঊর্মির শরীরের প্রায় ৮০ শতাংশ পুড়ে যায়।

আনোয়ারা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. তৈয়্যবুর রহমান জানান, ওই গৃহবধূর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ মর্গে রাখা হয়েছে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ