গোপালগঞ্জে ৬০ শিক্ষার্থীকে মেধাবৃত্তি দেওয়া হয়েছে। শনিবার (২৫ জানুয়ারি) মুকসুদপুর উপজেলার বাটিকামারী উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় চত্ত্বরে বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন গোপালগঞ্জ জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক (ডিডি) মো. হারুন অর রশীদ। 

আব্দুল আলী ও হালিবন নেছা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের এই বৃত্তি দেওয়া হয়। 

ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা.

মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন বলেন, “শিক্ষার বিস্তার ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে জেলার ৩৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের আমাদের ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে মেধাবৃত্তি পরীক্ষা নেওয়া হয়। এ পরীক্ষায় ৬০ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হন।”

আরো পড়ুন:

সন্ত্রাসীদের গুলিতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নিহত

নৈতিক শিক্ষা দিলে শিক্ষার্থীরা দেশের সম্পদ হবে: আরএমপি কমিশনার

ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেনের সভাপাতিত্বে ও যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক খায়রুল বাকী শরীফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন মুকসুদপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন ও বাটিকামারী উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শিশির কুমার মণ্ডল। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সেলিম শেখ, সিনিয়র সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার শফিকুল ইসলাম ও প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক নিরঞ্জন পাল।

আলোচনা সভা শেষে মেধাবিৃত্তি পরীক্ষায় প্রথমস্থান অধিকারী ১২ জনের প্রত্যেকে ৮ হাজার টাকা, দ্বিতীয় স্থান অধিকারী ১২ জনের প্রত্যেককে ৬ হাজার টাকা এবং তৃতীয় স্থান অধিকারী ১২ জনের প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে তুলে দেন অতিথিরা। এছাড়া প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে মেধা স্মারক, ফুল ও উপহার সামগ্রী দিয়ে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

ঢাকা/বাদল/মাসুদ

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর

এছাড়াও পড়ুন:

পাঁচ আওয়ামী লীগ নেতার বাসায় হামলায় বিএনপি জড়িত 

সিলেটে আওয়ামী লীগের পাঁচ নেতাকর্মীর বাসায় হামলা ভাঙচুরে বিএনপি ও ছাত্রদল জড়িত বলে দাবি করেছেন সাবেক সিটি মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। তিনি লন্ডনে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেন। তবে আওয়ামী লীগের তরফ থেকে এ ঘটনায় কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

হামলা ভাঙচুরের জন্য বিএনপি ও ছাত্রদলকে দায়ী করা হলেও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দলটির শীর্ষ নেতারা। তারা বলছেন, এ ঘটনার সঙ্গে বিএনপি ও ছাত্রদলের সম্পৃক্ততা নেই। 

এদিকে হামলার ঘটনায় কেউ থানায় মামলা বা অভিযোগ করেনি বলে জানিয়েছেন সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। তিনি জানান, বুধবার ছাত্রলীগের মিছিল বের করার ঘটনায় আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন– ছাত্রলীগ নেতা শাফায়াত খান, জহিরুল ইসলাম, সোহেল আহমদ সানী, রবিন কর, ফাহিম আহমদ, রাজন আহমদ রমজান, বশির খান লাল ও সোয়েব আহমেদ।

বুধবার সকালে নগরীর ধোপাদিঘির পূর্ব পাড় এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ব্যানারে ঝটিকা মিছিলের পর সন্ধ্যায় সিরিজ এ হামলার ঘটনা ঘটে। মিছিলের পর ছাত্রদল নেতারা রাস্তায় নামেন। এক ঘণ্টার ব্যবধানে নগরীর পাঠানটুলা, হাউজিং এস্টেট, সুবিদবাজার, মেজর টিলা ও শামীমাবাদ এলাকায় পাঁচ নেতাকর্মীর বাসায় হামলা ভাঙচুরের ঘটনায় সিলেটে তোলপাড় চলছে। পক্ষে বিপক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে চলছে দোষারোপ। 

বৃহস্পতিবার দুপুরে সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর পাঠানটুলার মোহনা ব্লক-এ ৫৬/৯ নম্বর বাসায় গিয়ে দেখা যায়, ভেতর ও বাইরের কাচ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে। ভেতরের সাতটি কক্ষের আসবাব ভাঙচুর করা হয়েছে। 

আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী গতকাল লন্ডন থেকে সমকালকে জানান, বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের কর্মীরা হামলা করেছে। তারা নিজেদের পরিচয় দিয়ে হামলা করে। তিনি দাবি করেন, হামলার পেছনে নগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান লোদীর অনুসারীরা রয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে গতকাল লোদী তাঁর ফেসবুকে লেখেন, আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর অভিযোগ ভিত্তিহীন ও কাণ্ডজ্ঞানহীন। 

সাবেক মেয়রের বাসায় হামলার এক ঘণ্টার মাথায় নগরীর হাউজিং এস্টেট শুভেচ্ছা আবাসিক এলাকার আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক এমপি শফিউল আলম চৌধুরী নাদেলের অ্যাপার্টমেন্টে হামলা হয়। গতকাল সেখানে গিয়ে দেখা গেছে, ভবনের সামনের নিরাপত্তাকর্মী বসার বক্স, দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার সামনের জানালার বেশ কয়েকটি কাচ ভাঙা। নাদেল এখন ভারতে আছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভবনের ব্যবস্থাপক জানান, তিনি ঘটনার সময় বাইরে ছিলেন। সন্ধ্যায় মোটরসাইকেলে আসা ৩০ থেকে ৩৫ জন হামলা করে চলে যায়।

ওই দিন সন্ধ্যায় ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আফতাব হোসেন খানের সুবিদবাজারের বাসায়, মেজরটিলা এলাকায় ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর, ছাত্রলীগ নেতা রুহেল আহমদ ও আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজের ছোট ভাই শফিকুল হক শফির 

শামীমাবাদের বাসায় হামলা হয়। শফির বাসায় হামলার সময় ছাত্রদলের নামে স্লোগান দিতে শোনা যায়। 
অভিযোগের বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক দিলোয়ার হোসেন দিনার বলেন, ‘আমরা মব জাস্টিসের বিপক্ষে। কে বা কারা হামলা করেছে আমাদের জানা নেই।’ 

সম্পর্কিত নিবন্ধ