মাদারীপুরের শিবচরে অনলাইনে জুয়ায় আসক্ত হয়ে টাকার জন্য ফজিলাতুন্নেসা নামের এক বৃদ্ধাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। হত্যা রহস্য উদঘাটনসহ অভিযুক্ত সোহাগ হাওলাদার (২৮) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ। 

শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) রাতে পুলিশ সুপার কার্যালয় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। 

এর আগে গত বুধবার (২২ জানুয়ারি) শিবচরের পাচ্চর ইউনিয়নের হোগলার মাঠ গ্রাম আকন বাড়ির পশ্চিম পাশে পরিত্যক্ত ভিটায় মেহগনি বাগানে নিহতের অর্ধ গলিত মরদেহ পাওয়া যায়। পরে নিহতের মেয়ে রেখা আক্তার অজ্ঞাত নামে মামলা দায়ের করলে পুলিশ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খুনের রহস্য উদঘাটনসহ আসামিকে গ্রেপ্তার করেন। 

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ জানুয়ারি দুপুরে নিজ বাড়ি থেকে ছেলেকে বিকাশে টাকা পাঠানোর জন্য পাশের ছোট কুতুবপুর বাজারে যায় ফজিলাতুন্নেছা। এরপর থেকে তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিলো না। ৮০ বছর বয়সী এই নারী নিখোঁজের ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। নিখোঁজের ১০ দিন পর ২২ জানুয়ারি (বুধবার) বিকেলে স্থানীয়রা বাড়ির পাশের হোগলার মাঠে পাতা আনতে গেলে একটি বস্তার মুখ রশি বাঁধা অবস্থায় দেখলে সন্দেহ হয়। স্থানীয়রা থানা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ এসে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে। 

পরে তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে সোহাগ হাওলাদার নামের যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সোহাগ বেশ কিছুদিন ধরে অনলাইনে জুয়া খেলায় আসক্ত ছিলেন। একপর্যায়ে জুয়ার টাকার জন্য ওই বৃদ্ধার গলায় থাকা স্বর্ণের চেন, কানের দুল, একটি মোবাইল চুরি করতে গিয়ে তাকে অজ্ঞান করার জন্য শ্বাসরোধ করেন। কিছুক্ষণ পর বৃদ্ধা মারা যায়। ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায় সোহাগ। 

গ্রেপ্তারকৃত সোহাগ শিবচর উপজেলার বৈকণ্ঠপুর গ্রামের মো.

মফিজ হাওলাদারের ছেলে। নিহত ফজিলাতুন্নেছা একই এলাকার মৃত আবদুর রহমান আকনের স্ত্রী। 

নিহতের মেয়ে রেখা আক্তার বলেন, “সামান্য গলার চেনের জন্য আমার মায়ের জীবন কেড়ে নিয়েছে। আমার মাকে যে খুন করেছে সেই দোষী সোহাগের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।” 

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “সোহাগ আদালতে ১৬৪ ধারা মোতাবেক হত্যাকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন।” 

তিনি আরো বলেন, “সোহাগ দীর্ঘদিন ধরে অনলাইনে জুয়ায় আসক্ত ছিলেন। জুয়ার টাকার জন্য বৃদ্ধাকে খুন স্বর্ণালঙ্কার ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। পরে এইগুলো বিক্রি করে অনলাইনে জুয়া খেলে। নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বিক্রি করেছিল। সেই মোবাইল ফোনের সূত্র ধরেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মাত্র ৫শ টাকায় মোবাইলটি বিক্রি করে। আর স্বর্ণালঙ্কার বিক্রি করে ৪০ হাজার টাকায়।”

ঢাকা/রিজভী/ইমন

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর গ র প ত র কর র জন য

এছাড়াও পড়ুন:

চলন্ত গাড়ি থামিয়ে নারী শিক্ষককে গ্রেপ্তার করল পুলিশ, অভিযোগ শুনে কান্নায় ভেঙে পড়লেন

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা একজন নারী শিক্ষককে চলন্ত গাড়ি থামিয়ে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ওই নারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি দুই বছর আগে তাঁর একজন কিশোর ছাত্রকে যৌন নিপীড়ন করেছেন।

গত ১৬ মার্চ ক্রিস্টিনা ফরমেলাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সম্প্রতি ইউটিউবে একটি চ্যানেলে তাঁকে গ্রেপ্তারের সময় অভিযোগ শুনে তিনি তাৎক্ষণিক কী প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন, তার ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে।

রাজ্যের ডাউনার্স গ্রোভ সাউথ হাইস্কুলের বিশেষ শিক্ষার (স্পেশাল এডুকেশন) একজন শিক্ষক ফরমেলা। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, দুই বছর আগে ১৫ বছরের এক কিশোরকে লেখাপড়া করানো এবং তার ফুটবল কোচ হিসেবে কাজ করার সময় ওই ছাত্রকে যৌন নিপীড়ন করেছেন তিনি।

পুলিশ বলেছে, ফরমেলা ও ওই কিশোর পরস্পরের মধ্যে গড়ে ওঠা সম্পর্ক নিয়ে বার্তা আদান–প্রদান করেছেন। সে মেসেজে যৌনতা নিয়েও নানা কথা আছে।

বেশ কিছুদিন আগে ওই কিশোরের মা নতুন একটি ফোন কিনে সেটি ছেলের জন্য ঠিকঠাক (সেটিংস) করে দিতে গিয়ে ওই মেসেজগুলো খুঁজে পান। এরপর তিনি ছেলের কাছে কী ঘটেছে, তা জানতে চান। ছেলে মায়ের কাছে ওই শিক্ষকের সঙ্গে তার সম্পর্কের কথা খুলে বলে এবং জানায়, সে পরে ওই সম্পর্কের ইতি টেনেছে।

মায়ের উৎসাহে ছেলেটি পুলিশের কাছে এ নিয়ে অভিযোগ করে, যার ভিত্তিতে শিকাগো থেকে পুলিশ ফরমেলাকে গ্রেপ্তার করে। সে সময় স্বামীর সঙ্গে গাড়িতে যাচ্ছিলেন এই শিক্ষক। পুলিশ যখন তাঁকে গাড়ি থেকে নেমে আসতে বলে, তখন ফরমেলাকে দ্বিধান্বিত দেখাচ্ছিল।

পুলিশের বডি ক্যামেরায় পুরো ঘটনা রেকর্ড হয়েছে।

পুলিশ ফরমেলার পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাঁকে জরুরি জিনিসপত্র সঙ্গে নিয়ে তাদের সঙ্গে যেতে বলে।

ফরমেলার স্বামীকে তখন গাড়িতে বসেই পুলিশকে প্রশ্ন করতে দেখা যায়, ‘সে কি কোথাও যাচ্ছে?’ উত্তরে পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘হ্যাঁ, আমরা আপনাকে সবকিছুর ব্যাখ্যা দিতে চলেছি।’ ফরমেলাকে পুলিশ জানায়, তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে এবং তাঁকে হাতকড়া পরিয়ে পুলিশ স্টেশনে নেওয়া হবে।

ফরমেলা তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ শুনে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। দেখে মনে হচ্ছিল, তিনি বমি করে দেবেন।

পুলিশের গাড়িতে বসে ওই শিক্ষক বলেন, ‘আমার খুবই ভয় লাগছে। আমার স্বামী কি সঙ্গে আসবেন? আমি কি বিপদে আছি? আমার খুবই হতাশ লাগছে।’

পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে এই নারী বলেন, অভিযোগকারী তাঁকে ‘ব্ল্যাকমেল’ করছেন। তিনি দেখতে সুন্দর বলেই তাঁকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলেও জোর দাবি করেন তিনি।

পুলিশ ফরমেলাকে আদালতে হাজির করেছে। আদালতের নথি অনুযায়ী ঘটনার বর্ণনায় ফরমেলা বলেছেন, ‘একদিন ওই কিশোর তাঁর ফোন হাতে পেয়ে যায়, পাসকোড দিয়ে সেটি খুলে ফেলে এবং তাঁর ফোন থেকে নিজের ফোনে একটি বার্তা পাঠায়। এরপর তাঁর ফোন থেকে ওই বার্তা মুছে দেয়। কিন্তু তাঁকে ব্ল্যাকমেল করার জন্য নিজের ফোনে ওই বার্তা রেখে দেয়।’

ওই শিক্ষক দাবি করেন, তিনি দেখতে সুন্দর। তাই সবাই তাঁর পেছনে লাগে।

ওই নারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুটি গুরুতর অপরাধমূলক যৌন নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে তাঁকে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, ফরমেলা স্কুল প্রাঙ্গণে যেতে পারবেন না এবং ১৮ বছরের কম বয়সী কারও সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ রাখতে পারবেন না। তাঁকে চাকরি থেকে সবেতনে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • ১ নম্বরে ‘চাঁদ মামা’, ‘কন্যা’ কত নম্বরে
  • অ্যাটলেটিকোকে হারিয়ে ফাইনালে রিয়ালের মুখোমুখি বার্সেলোনা
  • মাইক্রোবাসে গান বাজাতে বাজাতে প্রকৌশলীকে হত্যা 
  • মাইক্রোবাসে গান শুনতে শুনতে প্রকৌশলীকে হত্যা 
  • বন্দরে পঞ্চায়েত কমিটির দ্বন্দ্বে ঈদগায় হলনা ঈদ জামাত  
  • চলন্ত গাড়ি থামিয়ে নারী শিক্ষককে গ্রেপ্তার করল পুলিশ, অভিযোগ শুনে কান্নায় ভেঙে পড়লেন
  • শুধু মা-বাবার নামটুকু বলতে পারছে আহত শিশু আরাধ্য
  • ঈদের রাতে নৈশ প্রহরীকে গুলি করে হত্যা
  • অভিষিক্ত অশ্বিনীর বলে, রায়ানের ব্যাটে মুম্বাইর প্রথম জয়
  • ঘোরাঘুরি শেষে বাসায় ফিরে ত্বকের যত্নে করণীয়