শিশু একাডেমি প্রাঙ্গণে তিনদিনের 'কিডস টাইম' মেলা শুরু
Published: 25th, January 2025 GMT
বাংলাদেশের শিশুদের ক্রিয়েটিভিটি উদযাপনের সবচেয়ে বড় আয়োজন কিডস টাইম মেলা শুরু হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৯টায় বর্ণিল বেলুন উড়িয়ে শিশুদের নিয়ে এ আনন্দ আয়োজনের উদ্বোধন করেন কিডস টাইমের ফাউন্ডার তাহমিনা রহমান।
তিন দিনের এ আয়োজনে রয়েছে গুফির পাপেট শো, ম্যাজিক শো, নিউট্রিশন ও নিরাপদ খাবার নিয়ে বিশেষ গেম ও আরও অনেক কিছু। এছাড়াও নাচ, গান, কবিতা আবৃত্তিসহ শিশুদের নিয়ে অংশগ্রহণে থাকছে আকর্ষণীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
কিডস টাইমের পঞ্চম বারের এ আয়োজনের নিউট্রিশন পার্টনার হিসেবে রয়েছে গ্রামীণ ডানোন শক্তি, প্যারেন্টিং পার্টনার টগুমগু, আইসক্রিম পার্টনার পোলার , হাইজিন পার্টনার ডেটল, স্নাক্স পার্টনার স্কয়ার, লজিস্টিক পার্টনার পেপারফ্ল্যাই এবং বিনোদন পার্টনার গুফি ওয়ার্ল্ড। মেলার প্রথম দিনেই বিভিন্ন বয়সী প্রায় ১০ হাজার শিশু ও তাদের অভিভাবকরা মেলা পরিদর্শন করেন। ঢাকার বিভিন্ন প্রান্তের বেশ কয়েকটি স্কুল এ মেলায় অংশ নেয়। এতে প্যারেন্টিং সেশন নেন টেন মিনিট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা আয়মান সাদিক, ইউটিইউবে শিশুদের ইংরেজি শেখানো উম্মে মাইসুন।
মেলায় বিশেষ আকর্ষণ ছিল 'কিডস টাইম ক্রিয়েটিভ জোন' এবং গ্রামীণ ডানোন শক্তির 'হেলদি জোন।' ক্রিয়েটিভ জোনে শিশুরা তাদের পছন্দমতো ক্রিয়েটিভ সব আর্ট ও ক্র্যাফটের কাজ করেছে। 'হেলদি জোনে' আছে শিশুদের জন্য মজাদার সব গেমিং এবং গিফট পাওয়ার সুযোগ। মেলায় শিশুদের জন্য আরো আছে ডুডল বোর্ড, ফটো বুথ এবং পছন্দের ডিজাইনে টি শার্ট বানানোর সুযোগ ।
কিডস টাইমের প্রতিষ্ঠাতা তাহমিনা রহমান বলেন, এই ইভেন্টের লক্ষ্য হল ৩ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সুস্থতা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন ব্র্যান্ড এবং উদ্যোগগুলিকে এক সাথে করা। এ ছাড়াও বাবা-মায়েদের ক্রিয়েটিভিটি, সেইফ ফুড ও নিউট্রিশন সম্পর্কে জানানোও মেলার অন্যতম লক্ষ্য বলে জানান তিনি।
অভিভাবকরা চাইলে সরাসরি অনলাইন থেকে মেলার রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন। পাশাপাশি শিশু একাডেমিতে মেলার যেকোনো দিন যেতে পারবেন। https://fair.
আগ্রহী স্কুল কিডস টাইম মেলায় তাদের শিক্ষার্থীদের নিয়ে আসতে পারেন। স্কুলের জন্য থাকছে সম্পুর্ণ ফ্রি এন্ট্রি। শনিবার মেলার দ্বিতীয় দিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘বাপকা বেটা’খ্যাত শুভাশীষ ভৌমিক প্যারেন্টিং সেশন নেবেন।
উৎস: Samakal
কীওয়ার্ড: প র টন র
এছাড়াও পড়ুন:
বাংলাদেশি ভেবে বিএসএফের গুলি, ভারতীয় চোরাকারবারি নিহত
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর গুলিতে এক ভারতীয় চোরাকারবারি নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার ভোরে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার গোরকমন্ডল সীমান্তের ৯২৯ নম্বর আন্তর্জাতিক সীমানা পিলারের ৩ নম্বর সাব পিলারের পাশে এ ঘটনা ঘটে।
কাঁটাতারের বেড়ার বাইরে ভারতের ভূখণ্ডে মরাকুটি (ভোরাম পয়োস্তি) এলাকায় ওই চোরাকারবারীর মরদেহ দেখেন বাংলাদেশিরা। ৪ ঘণ্টা ধরে সেখানে পড়েছিল ভারতীয় ওই চোরাকারবারীর মরদেহ। পরে বিএসএফের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। এ নিয়ে ওই সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
নিহত যুবকের নাম জাহানুর আলম (২৪)। তিনি ভারতের কোচবিহার জেলার দিনহাটা থানার গিদালদহ এলাকার মরাকুটি ভোরাম পয়োস্তি গ্রামের কবিদুল ইসলামের ছেলে।
সীমান্তবাসীরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে মাদকের ব্যবসাসহ গরু পারাপারে জড়িত ছিলেন তিনি।
সীমান্তে বসবাসকারী সায়েদ আলী ও হয়রত আলী জানান, বৃহস্পতিবার ভোরে উভয় দেশের একদল চোরাকারবারী ওই সীমান্ত দিয়ে গাঁজা ও গরু নিয়ে বাংলাদেশে আসার চেষ্টা করে। এ সময় ভারতীয় ভারবান্দা ক্যাম্পের টহলরত বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে ৬ রাউন্ড গুলি ছোড়েন। এতে ভারতীয় চোরাকারবারী জাহানুর গুলিবৃদ্ধ হয়। সেখানে পড়ে থাকা অবস্থায় অনেকবার চিৎকার করলেও সহযোগীরা তাকে উদ্ধার না করায় ঘটনাস্থলে মারা যান তিনি। গুলির শব্দ পেয়ে বাকি চোরাকারবারীরা পালিয়ে যান।
এ দিকে নিহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিজিবির পক্ষে গোরকমন্ডল ক্যাম্পের কমান্ডার নায়েক সুবেদার ফিরোজ এবং বিএসএফের পক্ষে ৩ বিএসএফ ব্যাটলিয়নের অধীন ভারবান্দা গিদালদহ ক্যাম্পের কমান্ডার গিরিশ চন্দ্র নেতৃত্ব দেন। পতাকা বৈঠকের পর সকাল ১০টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহ নিয়ে যায় বিএসএফ।
এ প্রসঙ্গে লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটলিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মেহেদী ইমাম জানান, বিএসএফের কাছে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়- ভোরের দিকে একদল ভারতীয় নাগরিক টহলরত বিএসএফ পোস্টে হামলা চালায়। তখন আত্মরক্ষার্থে বিএসএফ রাবার বুলেট নিক্ষেপ করলে এক ভারতীয় হামলাকারী নিহত হয়। বিষয়টি ভারতের অভ্যন্তরীন। এর সঙ্গে বাংলাদেশ বা বিজিবির কোনও সমৃক্ততা নেই। তারপরও সীমান্তে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।