আইএসআই কর্মকর্তাদের ঢাকা ‘সফরের গুজব’, নয়াদিল্লির পাত্তা
Published: 24th, January 2025 GMT
বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক যোগাযোগ নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমের অতিরঞ্জিত প্রচারের মধ্যে সেদেশে খবর রটেছে ইন্টার-সার্ভিস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই) কর্মকর্তারা ঢাকা সফর করছেন।
ভারতের সংবাদমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত এই খবরকে গুজব বলে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং ফ্যাক্টস বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) বিবৃতি দিয়েছে, যা তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্ট করা হয়।
বাসসের খবর অনুযায়ী, ওই বিবৃতিতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের বক্তব্য রয়েছে, যিনি সাফ এ-সম্পর্কিত খবরকে সর্ববৈ মিথ্যা বলে বর্ণনা করেছেন।
আরো পড়ুন:
ভারতের ১০ বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যকে বহিষ্কার
বাংলাদেশ সীমান্তে ‘অপস্ অ্যালার্ট’ জারি বিএসএফের
তারপরও আইএসআই কর্মকর্তাদের বাংলাদেশ সফরের গুজবকে গুরুত্বে নিয়ে কথা বলছে নয়াদিল্লি, যা নিয়ে শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) ভারতের মূলধারার সংবাদমাধ্যমে খবর হয়েছে।
এ দিন পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দা বিভাগ আইএসআই কর্মকর্তাদের ঢাকা সফরের খবরের প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে নয়াদিল্লি।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জইসওয়াল নয়াদিল্লিতে শুক্রবার নিয়মিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে আসেন। তখন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভারত প্রতিবেশীদের (বাংলাদে-পাকিস্তান) সম্পর্কোন্নয়নের ওপর গভীর নজর রাখছে এবং প্রয়োজন অনুসারে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে।
আইএসআইর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শহীদ আমির আফসারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বর্তমানে বাংলাদেশ সফরে রয়েছেন- এমন খবর দ্য ইকোনমিক টাইমস, ইন্ডিয়া টুডে থেকে শুরু করে ভারতের প্রথম সারির প্রায় সংবাদমাধ্যম এসেছে।
এই খবরের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে সংবাদ সম্মেলনে রণধীর জইসওয়ালের কাছে ভারতের প্রতিক্রিয়া জানতে চান সাংবাদিকরা। তখন তিনি বলেন, “আমরা সারা দেশে এবং এই অঞ্চলের সমস্ত কার্যকলাপের পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করে, এমন সব কার্যক্রমের ওপর নজর রাখি এবং সরকার যথাযথ পদক্ষেপ নিয়ে থাকে।”
অবশ্য বাংলাদেশের সঙ্গে বিদ্যমান সম্পর্ক জোরদারের ওপরও গুরুত্ব দেন জইসওয়াল। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের প্রতি ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা এবং বিদ্যমান সম্পর্ক আরো মজবুত করে গড়ে তোলা। আমরা একটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশকে সমর্থন করি। আমরা আমাদের সম্পর্ক জোরদার করতে চাই, যাতে ভারত ও বাংলাদেশের জনগণ উন্নতি করতে পারে।”
সীমান্তের বেড়াবিহীন অংশে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণে ভারতের প্রচেষ্টায় বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের আপত্তির বিষয়ে এক প্রশ্নে জইসওয়াল বলেন, “এই ধরনের নির্মাণকাজ বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় রয়েছে।”
আইএসআই কর্মকর্তাদের ঢাকা সফরের খবর সরকার থেকে নাকচ করলেও বাংলাদেশের সামরিক কর্মকর্তাদের পাকিস্তান সফরের তথ্য বিজ্ঞপ্তি দিয়ে গণমাধ্যমকে জানায় আইএসপিআর।
গত সোমবার (২০ জানুয়ারি) আইএসপিআরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পাকিস্তান সফর শেষে দেশে ফিরেছে ৬ সদস্যের সামরিক প্রতিনিধি দল। সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসানের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি ১৩ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত পাকিস্তান সফর করে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, সফরকালে প্রতিনিধিদলটি পাকিস্তানের তিন বাহিনীর প্রধানসহ উচ্চপর্যায়ের সামরিক বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করে।
সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিরা দুই দেশের মধ্যকার সামরিক বাহিনীর পেশাগত ও প্রশিক্ষণসংক্রান্ত বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা করেন। এ সময় পারস্পরিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অব্যাহত রাখার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।
ঢাকা/রাসেল
.উৎস: Risingbd
কীওয়ার্ড: চ কর চ কর নয় দ ল ল সফর র
এছাড়াও পড়ুন:
মিয়ানমারে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় সশস্ত্র বাহিনীর আরও ত্রাণ গেল
মিয়ানমারের ভয়াবহ ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনীর তিনটি উড়োজাহাজে করে আরও ১৫ টন ত্রাণসামগ্রী পাঠানো হয়েছে। আজ মঙ্গলবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ত্রাণসামগ্রীর সঙ্গে আজ একটি উদ্ধারকারী দল, জরুরি ওষুধসামগ্রীসহ একটি চিকিৎসক দল গেছে।
আইএসপিআরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশে গত ২৮ মার্চ মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডে সংঘটিত ভয়াবহ ভূমিকম্পে মিয়ানমারের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সহায়তার অংশ হিসেবে সশস্ত্র বাহিনীর মাধ্যমে জরুরি ভিত্তিতে ত্রাণসামগ্রী এবং উদ্ধার ও চিকিৎসাসহায়তা দল পাঠানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে প্রথম ধাপে গত ৩০ মার্চ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর দুটি পরিবহন বিমানের মাধ্যমে সাড়ে ১৬ টন জরুরি ত্রাণসহায়তা সফলভাবে মিয়ানমারে পাঠানো হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি এবং বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর দুটি পরিবহন বিমানের মাধ্যমে উদ্ধার সরঞ্জামসহ একটি উদ্ধারকারী দল এবং জরুরি ওষুধসামগ্রীসহ একটি চিকিৎসক দল এবং আরও ১৫ টন ত্রাণসামগ্রী মিয়ানমারের নেপিডোর উদ্দেশে যাত্রা করেছে।
আইএসপিআরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ৫৫ সদস্যবিশিষ্ট বাংলাদেশ সহায়তাকারী দল সেনাবাহিনীর কর্নেল মো. শামীম ইফতেখারের নেতৃত্বে মিয়ানমারের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার অভিযান ও জরুরি চিকিৎসাসেবা পরিচালনা করবে। ৩৪ সদস্যবিশিষ্ট উদ্ধারকারী দলের মধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২১ জন, নৌবাহিনীর ২ জন, বিমানবাহিনীর ১ জন এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ১০ সদস্য রয়েছেন। এ ছাড়া ২১ সদস্যবিশিষ্ট চিকিৎসা সহায়তা দলের মধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১০, নৌবাহিনীর ১, বিমানবাহিনীর ২ এবং অসামরিক ৮ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও নার্স রয়েছেন।
উদ্ধারকারী ও চিকিৎসাসহায়তা প্রদানকারী দলের পাশাপাশি আজ পাঠানো ১৫ টন ত্রাণসহায়তার মধ্যে রয়েছে শুকনা খাবার, বিশুদ্ধ পানি, তাঁবু, হাইজিন প্রোডাক্ট, ওষুধসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্যান্য সামগ্রী।
মিয়ানমারের ক্রান্তিকালে বাংলাদেশ সরকারের এই মানবিক উদ্যোগে সশস্ত্র বাহিনীর পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কার্যালয় পূর্ণ সহযোগিতা দিয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে সশস্ত্র বাহিনী বিশেষভাবে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।
আইএসপিআরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রতিবেশী রাষ্ট্র মিয়ানমারের এই সংকটকালে বাংলাদেশ সরকারের এই মানবিক উদ্যোগ বাংলাদেশের সুপ্রতিবেশীসুলভ আচরণের পরিচায়ক। বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী বিশ্বাস করে, বাংলাদেশ সরকারের পাঠানো এই মানবিক সহায়তা মিয়ানমারে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের দুর্ভোগ কমিয়ে আনা এবং দুই প্রতিবেশী দেশের সরকার ও জনগণের পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাস বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।