Samakal:
2025-04-03@20:47:22 GMT

ছড়া কবিতা

Published: 24th, January 2025 GMT

ছড়া কবিতা

মুকুল শাহরিয়ার 
স্বার্থহীন সঙ্গী

গোসল এবং ঘুম ছাড়া আর
যেটুক সময় বাকি–
খোকাবাবুর সঙ্গে সে যে
থাকবে পাকাপাকি।

ইশকুল বা খেলার মাঠেও
সে হয়ে যায় সাথী–
তাকে ছাড়া ঠিক মতো কি
লাগবে বলে লাথি!

তাকে ছাড়া রাস্তা-ঘাটে
খুব মসিবত হাঁটা
খেতে গেলে গলাতে ঠিক
ফুটবে মাছের কাঁটা!

সবকিছুতে লাগছে, তবু
তার চাওয়া নেই কিছু–
সর্বদা সে সামনে থাকে
খোকা যে তার পিছু!

নাকের উপর চেপে বসে
দুই পা দিয়ে কানে
সকাল-দুপুর-সন্ধ্যারাতেও
সে থাকে ওই খানে।

কে বলো তো সঙ্গী এমন
স্বার্থ ছাড়াই চলে–
পারছো নাতো? বলছি শোনো
‘চশমা’ তাকে বলে।  

 

 

উৎপলকান্তি বড়ুয়া 
মায়ের হাসি

খোকন পড়ে ছড়াটা তো
ছন্দে সুরে ভরা তা-তো।
খাতার পাতা রোল টানা
পুতুলের মুখ গোলটা না?
দাদুর ছাতা বড়োটা না
নদীর পারে ঘর ওটা না?

জায়গার নাম-দারোটানা
এখন দুপুর বারোটা না?
ঘুঘু ডাকে– কা কা তো না!
কেউ কি ফিরে তাকাতো না?
কই–পড়া কর মুখস্থ তো
আড়ালে তুই লুকস্ ততো!

‘না না, তা না! এই তো আসি
আঁকছি মায়ের মুখের হাসি।’
 

 

মজনু মিয়া 
ভূত দেখেছি

মামার বাড়ির বট গাছে এক ভূত থাকে
মধ্য রাতে যায় না থাকা হাঁক-ডাকে!
জাগনা পেয়ে যেই উঠেছি ঘোর রাতে
চেয়ে দেখি বট গাছে সেই ভূত ‘মাতে’!
মাথা ভরা লম্বা লম্বা চুলে
তাকিয়ে থাকে বুকে থাকা চোখগুলো সে খুলে
হাঁ-করতেই মুখ দিয়ে বের হয় আগুন
পা দুটো তার মাটির সাথে দেখতে যেন ফাগুন!
চেঁচিয়ে উঠে–মা মা ডেকে যেই না গেলাম ঘরে 
বিকট আওয়াজ করলো ভূতে; যাচ্ছি আমি মরে! 
তড়িঘড়ি মা এসে কয়– আমার কাছে আয়
ডাকলি না কেন্ আমায় রে বাপ ভূত দেখেছিস; হায়!

 

কামাল হোসাইন  
ভালো থাকার রসদ

ডাকছে পাখি কিচিরমিচির ফুটছে কতো ফুল
ভোর হয়েছে সবাই ওঠো, নাচছে নদীর কূল
আঁধার কেটে আলোর পরশ দূরে দেখা যায়
মন জুড়োবে প্রাণ জুড়োবে মইঠালি হাওয়ায়।

শাদা শাদা শিশিরদানা শরীর ছুঁয়ে যাবে
ঠান্ডা হাওয়ায় নতুন করে শক্তি খুঁজে পাবে।
দূরে তাকাও, ফরসা আকাশ দেখো আপনমনে 
ভালো লাগায় নাচবে হৃদয় বুঝবে ক্ষণে ক্ষণে। 

ঝিরিঝিরি বাতাস লেগে গাছের পাতা জাগে
হয়তো তুমি আর দেখোনি এমনটা এর আগে।
করবে আকুল ফুলগুলো তার ব্যাকুল করা বাসে
খালি পায়ে হাঁটতে থাকো নরম কোমল ঘাসে।

সারাটাদিন ভালো থাকার রসদ পাবে খুঁজে 
তাই থেকো না ঘরের কোণে মুখটা তোমার গুঁজে।

 

রুবেল হাবিব 
ছড়ার কথা

একটি ছেলে ছড়ায় খেলে
ছড়ায় ভাসায় নাও
ঢেউয়ের তালে নায়ের পালে
দিচ্ছে ছড়ায় বাও।
 
ঘুরছে ছড়ায় বসুন্ধরায়
সবুজ শ্যামল বনে
ছড়ায় দেখে ছড়ায় লেখে
ছড়ায় থাকে রণে।

আকাশ জুড়ে চাঁদ ও তারায়
ছন্দ ছড়ায় পথ যে মাড়ায়
তালের তালে সুরে
গাছের সাথে ছড়ার কথা
লতায় পাথায় ছন্দ পোতা
বন বাদাড় সব জুড়ে।

সেই ছেলেটির ঘরের ভিতর
আওয়াজ উঠে খাবার কি তোর,
ছড়ায় এনে দেয়?
বলছে সে তো– একটি ছড়া
মিটায় ক্ষুধা জীর্ণজরা
দুঃখটা কেড়ে নেয়।
 
ছড়া চলে ছড়ার বেগে
ছড়া বলে ধরার থেকে
অসংগতির ব্যথা,
ছড়া গড়ে স্বপ্ন দেখার
ছড়া লড়ে রত্ন আঁকার
ভীষণ গতির কথা।

.

উৎস: Samakal

এছাড়াও পড়ুন:

আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে প্রেমা-আরাধ্যা

এক দুর্ঘটনায় সব শেষ হয়ে গেছে কলেজপড়ুয়া তাসনিয়া ইসলাম প্রেমার। চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় সে হারিয়েছে মা-বাবা ও দুই বোনকে। ফুফাতো বোনও চলে গেছে না ফেরার দেশে। পরিবারের আপন বলতে আর কেউ নেই তার। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে সেও মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ)। প্রাণে বাঁচলেও দুর্ঘটনায় তার মস্তিষ্ক গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্ঘটনার এক দিন পার হলেও এখনও জ্ঞান ফেরেনি প্রেমার। 

তাঁর মতো একই অবস্থা ছয় বছর বয়সী শিশু আরাধ্যা বিশ্বাসের। এই অল্প বয়সে সেও হারিয়েছে মা-বাবাকে। দীর্ঘ সময় ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন থাকার পরও শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি। যে কারণে বৃহস্পতিবার আরাধ্যাকে ওয়ার্ড থেকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। তাকে যখন আইসিইউতে নেওয়া হচ্ছিল, তখন ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামে তার বাবা দিলীপ বিশ্বাস ও মা সাধনা মণ্ডলের মরদেহ ছিল শ্মশানের পথে। মা-বাবা যে বেঁচে নেই, তা এখনও জানে না এই অবুঝ শিশুটি। 

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে লোহাগাড়ার চুনতি জাঙ্গালিয়ায় বাস ও মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে গত বুধবার দুই দম্পতিসহ ১০ জনের মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে ঢাকার মিরপুরের রফিকুল ইসলাম শামীম ও লুৎফুন নাহার সুমি দম্পতি এবং তাদের দুই মেয়ে আনীসা আক্তার (১৪) ও লিয়ানা (৮) এবং শামীমের ভাগনি তানিফা ইয়াসমিনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত হয়ে তাদের বড় মেয়ে প্রেমা (১৮) এখন আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়ে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশু আরাধ্যা ও তার মামাতো ভাই দুর্জয় কুমার বিশ্বাস (১৮)। আহত তিনজনের অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। 

বৃহস্পতিবার আহতদের দেখতে এসে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম।

জানা যায়, পেশাগত কাজের সুবাদে শামীম ও দিলীপের মধ্যে দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক। তাদের কারণে দুই পরিবারের মধ্যেও সম্পর্ক অনেক পুরোনো। তারা গাজীপুরে পোশাক কারখানার কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ঈদের ছুটিতে এ দুই পরিবার তাদের সন্তান ও আত্মীয়কে নিয়ে কক্সবাজারে বেড়াতে যাচ্ছিলেন। যাওয়ার পথেই ভয়াবহ এ দুর্ঘটনা ঘটে। 

চমেক আইসিইউর সামনে যেতেই চোখে পড়ে প্রেমার ছোট মামি জেসমিন রহমানের চোখেমুখে বিষণ্নতা। কিছুক্ষণ পায়চারি করছেন আবার এক কোণে গিয়ে চোখের পানি মুচছেন। তিনি বলেন, একদিন পার হয়ে গেলেও এখনও মেয়েটির জ্ঞান ফেরেনি। মা-বাবাসহ পরিবারের সবাই মারা গেছেন। আল্লাহ যেন তাকে বাঁচিয়ে রাখে। তার জন্য সবার দোয়া চাই।

দুর্ঘটনার খবর পেয়েই ঝিনাইদহের শৈলকুপার বোয়ালিয়া থেকে চমেক হাসপাতালে ছুটে এসেছেন আরাধ্যার আত্মীয় অসিত কুমার বাড়ৈ। শিশু আইসিইউর সামনে কথা হয় তাঁর সঙ্গে।

তিনি বলেন, শিশুটি মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। শেষবারের মতো মা-বাবার চেহারাটাও দেখার সুযোগ পেল না। লম্বা সময় পর চোখ খুলে তাকালেও সে এখনও কথা বলতে পারছে না। দুর্ঘটনায় তার দুই পায়ের হাঁড় ভেঙে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মাথা, মুখ, হাতসহ বিভিন্ন অঙ্গ। তার কষ্ট আর সইতে পারছি না।

দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তসলিম উদ্দিন বলেন, দুর্ঘটনায় শিশু আরাধ্যার পা ভেঙে গেছে। পায়ের গুরুতর আঘাতের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে মস্তিষ্কে। সেটিই এখন বড় দুশ্চিন্তার কারণ। প্রেমারও জ্ঞান ফেরেনি। তার অবস্থাও খুব খারাপ। এখান থেকে অন্য কোথাও নিয়ে যাওয়ার অবস্থাও নেই। আহতদের সুস্থ করে তুলতে সব ধরনের চেষ্টাই করে যাচ্ছেন চিকিৎসকরা। 

নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছয় মানববন্ধন: লোহাগাড়া প্রতিনিধি জানান, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে দুর্ঘটনা রোধে যথাযথ পদক্ষেপ ও  ছয় লাইনে উন্নতি করার দাবিতে গতকাল পৃথক ছয়টি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে অর্ধশতাধিক সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন অংশগ্রহণ করে। উপজেলা সদর ও মহাসড়কসংলগ্ন পদুয়া, আমিরাবাদ, আধুনগর ও চুনতি ইউনিয়নে সকাল ১০টা থেকে বিকেল পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যানারে এ মানববন্ধন হয়। মানববন্ধনে সাবেক এমপি আলহাজ শাহজাহান চৌধুরী বলেন, লোহাগাড়ার চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরেই একটি দুর্ঘটনাপ্রবণ অঞ্চল। দুর্ঘটনা রোধে লবণবাহী ট্রাক বন্ধ করে দিয়ে লবণ রেলে এবং পানি পথে নিয়ে যেতে হবে। অতি দ্রুত এ মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করতে হবে। 

অন্য এক মানববন্ধনে লোহাগাড়া বিএনপির সভাপতি নাজমুল মোস্তফা আমিন বলেন, চুনতির জাঙ্গালিয়া মৃত্যুকূপে পরিণত হয়েছে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করতে আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাই। 

সম্পর্কিত নিবন্ধ