ঢাকা সারুলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষককে  অপহরণের পর মুক্তিপন আদায় করে মেয়ে লেলিয়ে দিয়ে ব্লাকমিলিং করার মামলার দীর্ঘ দেড় মাস পর অবশেষে পলাতক আসামী রিফাদ হোসেন (২৫)কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গত বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারী)  রাতে বন্দর উপজেলা ফরাজিকান্দাস্থ বালিয়াগাও এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃত রিফাদ হোসেন উল্লেখিত এলাকার আনোয়ার হোসেন মিয়ার ছেলে। গ্রেপ্তারকৃতকে শুক্রবার (২৪ জানুয়ারী) দুপুরে উল্লেখিত মামলায় তাকে আদালতে প্রেরণ  করেছে পুলিশ। যার মামলা নং- ১৩(১২)২৪ ধারা- ৩৬৫/ ৩৮৫/ ৩৮৬/ ৩২৩/ ৫০৬ দঃবিঃ।

এর আগে গত রোববার (৮ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৮টায় বন্দর উপজেলার চর-ঘারমোড়াস্থ আজিজ মিয়ার বাড়ি থেকে অপহৃত মাদ্রাসা শিক্ষককে উদ্ধার করে এলাকাবাসী।

অপহৃত মাদ্রাসা শিক্ষক সাইদুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, গত রোববার বিকেলে আমি বন্দর উপজেলার  মদনপুর ফুফাত ভাই জুয়েলের সাথে দেখা করে  আমার কর্মস্থল ডেমরা থানার সারুলিয়া পশ্চিম বক্সনগর তারতিলুল কোরআন মাদ্রাসা যাওয়ার জন্য সিএনজিতে উঠি।

সিএনজি গাড়ীটি কিছু দূর যাওয়ার পর গাড়ীতে থাকা অপহরনকারীরা আমাকে ২টি ধারালো  অস্ত্র গলায় ঠেকিয়ে হত্যার ভয় দেখিয়ে জোর পূর্বক চর ঘারমোড়া এলাকার আজিজ মিয়ার বাড়িতে আনে। পরে আমাকে ৪ ঘন্টা আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতন করে আমার সাথে থাকা ১টি মোবাইল ফোন, নগদ ৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়।  

পরে আপহরণকারিরা মুক্তিপন হিসেবে আমার কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। এ ঘটনায়  আমি জীবন রক্ষার্থে মাদ্রাসার শিক্ষক, আত্মীয় স্বজন ও বন্ধু বান্ধদের কাছ থেকে আমার নাম্বারসহ অপহরনকারীদের বিভিন্ন নাম্বারে বিকাশের মাধ্যমে আরো ৩০ হাজার টাকা মুক্তিপনে টাকা দেই।

টাকা নেওয়ার পরও কাজী মাসুদ, রিফাদ আমাকে মেয়ে দিয়ে ভিডিও করে ব্লাকমিলিং করে। পরে আমার চিৎকারের শব্দ পেয়ে স্থানীয় এলাকাবাসী দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে আমাকে উদ্ধারসহ অপহরনকারী চক্রের হোতা কাজী মাসুদকে আটক করে পুলিশে সর্পোদ করে। 
 

.

উৎস: Narayanganj Times

কীওয়ার্ড: ন র য়ণগঞ জ অপহরণ

এছাড়াও পড়ুন:

যুবলীগ সন্ত্রাসীকে চাঁদা না দেয়ায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে অপহরণ করে নির্যাতন

সিদ্ধিরগঞ্জে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা না দেওয়ায় ৩নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহীন মিয়াকে অপহরণ করে তুলে নিয়ে নির্যাতন করেছে স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী সরল ও তার বাহিনী।

এ ঘটনায় শুক্রবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে ভুক্তভোগী শাহীন মিয়ার পিতা আঃ রশিদ ৮ জনের নাম উল্লেখ করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা অভিযোগ দায়ের করেছেন। 

অভিযুক্তরা হলেন- যুবলীগ সন্ত্রাসী মো. সরল (৪০) ও ছাত্র সমাজের ২ নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি শামীম ওসমানের ভাতিজা আজমেরী ওসমানের অন্যতম ক্যাডার নিশাদ (২৮), ঢাকা মহানগর যুবলীগ ক্যাডার হেলাল ফরাজি (৪৫),  মো. সুমন ফজলী সুমন (৩৫), মেহেদী (২৮), রুদ্র (২৫), মো. রানা (২৫),  মো. মিলন (৩৫)। এদের মধ্যে সরল ও নিশাদ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ফতুল্লা থানায় দায়ের করা ছাত্র হত্যা মামলার আসামি। 

এরআগে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে সাইনবোর্ড এলাকা শাহিনের নিজের পরিবহন কাউন্টার থেকে তাঁকে অপহরণ করে প্রাইভেট কারে তুলে নিয়ে যায় তারা। 

ভুক্তভোগী শাহীন জানান যে, সে সাইনবোর্ড এলাকায় বাসের টিকিট বিক্রির কাজ করেন। সম্প্রতি সেখানে একটি চায়ের দোকান দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। সরল বাহিনী তার কাছে বার বার ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলো। দাবিকৃত চাঁদা না দিলে তাকে সেখানে ব্যবসা করতে দিবে না বলে হুমকি দেয়। 

শাহীন মিয়া চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় তাঁকে কয়েকবারই দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়। এরই জের ধরে হিসেবে গত বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে সরলের ভাই নিশাদসহ ৪/৫ জনের একদল সন্ত্রাসী বাহিনী  সাইনবোর্ড টিকিট কাউন্টার থেকে প্রকাশ্যে অনেক মানুষের সামনে থেকে  শাহীন মিয়াকে টেনে হেঁচড়ে একটি প্রাইভেট কারে উঠিয়ে নিয়ে পার্শ্ববর্তী মিতালী মার্কেটের এক নম্বর ভবনে তাদের টর্চার সেলে নিয়ে যায়। 

সেখানে শাহীনকে লোহার পাইপ, হকিষ্টিক দিয়ে অমানুষিক নির্যাতন চালায়, চাইনিজ কুড়াল দিয়ে কোপায়। তাঁকে হত্যা করার জন্য উদ্ধত হয়। এমতাবস্থায় সে সরলের পায়ে ধরে জীবন ভিক্ষা চায়। এক পর্যায়ে যেভাবেই হোক দুই তিন দিনের মধ্যে ৫০ হাজার টাকা যোগার করে এনে সরলকে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় শাহীন। 

তারপর সরল ও তার বাহিনী চাঁদা প্রদানের শর্তে তাকে ছেড়ে দেয় এবং শাহীন যাতে আইনের আশ্রয় না নেয় তার জন্য হুমকি প্রদান করে। তবে ছেড়ে দেওয়ার পূর্বে তারা শাহীনকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে ভিডিও করে রাখে এবং বলে তুই বাড়াবাড়ি করলে এই ভিডিও প্রশাসনের কাছে দিয়ে বলবো তুই ছিনতাইকারী। 

এই যুবলীগ ক্যাডার সরল ও হেলাল ফরাজি  বাহিনীর সন্ত্রাসী তান্ডবে আওয়ামীলীগের সময় থেকে সাইনবোর্ড স্টান্ড, মিতালী মার্কেটের ব্যবসায়ীরা সম্পুর্ন জিম্মি। সাইনবোর্ড স্ট্যান্ড এবং মিতালী মার্কেটের কোনো ব্যবসায়ী তাদেরকে চাঁদা না দিয়ে এখনো ব্যবসা বানিজ্য করতে পারে না। 

মিতালী মার্কেটের বিভিন্ন ভবনে রয়েছে তাঁর একাধিক টর্চার শেল। কেউ তাঁর সন্ত্রাসী কার্যকলাপের প্রতিবাদ করলে বা চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তাঁকে তাদের বাহিনী দিয়ে ধরে নিয়ে এসে এই টর্চার শেলে নিয়ে এসে নির্যাতন চালায়। 

যুবলীগ সন্ত্রাসী সরল ও হেলাল ফরাজি এবং তাদের বাহিনী এখনো তাদের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ দাপটে চালিয়ে যাচ্ছে। রোজার মধ্যে সরলের নেতৃত্বে মিজমিজি কান্দাপাড়া এলাকায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক পাপ্পু এবং স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা টুটুলের বাড়ি করে সশস্ত্র হামলা করে। এই ঘটনায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ সন্ত্রাসী সরলের বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলা হলেও পুলিশ সরলকে রহস্যজনক কারণে গ্রেপ্তার করেনি। 

এদিকে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরব ভূমিকায় জনমনে আতংক বিরাজ করছে।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শাহিনুর আলম বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিদর্শন করি। এসময় অভিযুক্ত কাউকে পাইনি। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এঘটনায় মামলা পক্রিয়াধীন রয়েছে।  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • যুবলীগ সন্ত্রাসীকে চাঁদা না দেয়ায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে অপহরণ করে নির্যাতন