অনূর্ধ্ব–১৯ বিশ্বকাপে বুধববার (২২ জানুয়ারি, ২০২৫) বাংলাদেশের মেয়েরা সুপার সিক্স নিশ্চিত করেছেন। এই রাউন্ডে বাংলাদেশ প্রতিপক্ষ হিসেবে পাচ্ছে শক্তিশালী ভারতকে, সঙ্গে আছে ওয়েস্ট ইন্ডিজও।

গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষে ছিল অস্ট্রেলিয়া, নেপাল ও স্কটল্যান্ড। গ্রুপ ‘ডি’-এর সেই লড়াইয়ে অজিদের বিপক্ষে ম্যাচ হেরে রানার্সআপ হয়ে সুপারসিকে জায়গা পায় বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব–১৯ দলের মেয়েরা।

বাংলাদেশ সুপার সিক্সে ১ নম্বর গ্রুপে জায়গা করে নিয়েছে। এই গ্রুপের অন্য ৫টি দল হচ্ছে ভারত, অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও স্কটল্যান্ড। এখন ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে প্রশ্ন, বাংলাদেশ শুধু ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেই কেন খেলবে?

আরো পড়ুন:

বিএসএফের সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন: বিজিবি

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে উত্তেজনা

অনূর্ধ্ব–১৯ বিশ্বকাপের এবারের আসরের নিয়ম অনুযায়ী, একই গ্রুপে থাকা দলগুলো সুপার সিক্সে একে অন্যের মুখোমুখি হবে না। আবার গ্রুপ পর্বের চ্যাম্পিয়ন বা রানার্সআপরা অন্য গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন বা রানার্সআপদের সঙ্গে খেলবে না।

দেখা যাচ্ছে সুপার সিক্সের ১ নম্বর গ্রুপটা মূলত তৈরি হয়েছে গ্রুপ পর্বের ‘এ’ ও ‘ডি’ গ্রুপ দিয়ে। বাংলাদেশ গ্রুপ পর্বে ছিল ‘ডি’ গ্রুপে। একই গ্রুপ থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে সুপার সিক্সে উঠেছে অস্ট্রেলিয়া ও স্কটল্যান্ড।

‘ডি’ গ্রুপ থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। অন্যদিকে ‘এ’ গ্রুপের শীর্ষ দল ভারত এবং  রানার্সআপ শ্রীলঙ্কা। তাই বাংলাদেশকে খেলতে হচ্ছে ভারতের বিপক্ষেই। তুলনামূলক কম শক্তিশালী শ্রীলঙ্কাকে প্রতিপক্ষে হিসেবে পাচ্ছে না নিয়মের বেড়াজালে। সুপার সিক্সে বাংলাদেশের আরেক প্রতিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ‘এ’ গ্রুপ থেকে তৃতীয় হয়ে উঠে এসেছে।

বাংলাদেশের জন্য সেমিফাইনালের রাস্তা কঠিন। এই দুটা ম্যাচ জিতলেই বাংলাদেশের ক্ষুদে মেয়েদের শেষ চার নিশ্চিত নয়। কারণ, গ্রুপ পর্বে খেলা ম্যাচের পয়েন্টও যোগ করা হবে। তবে যারা এক্ষত্রে বিবেচনা করা হবে কেবল যারা সুপার সিক্সে উঠেছে, তাদের বিপক্ষে পাওয়া পয়েন্টগুলো।

সুপার সিক্সে থাকা দুই দলের বিপক্ষে জয় নিয়ে শীর্ষ দুই দল ভারত ও অস্ট্রেলিয়া। ২ পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ৪ নম্বরে। অন্যদিকে সমান ২ পয়েন্ট পেলেও তালিকার রানরেটে এগিয়ে থেকে ৩ নম্বরে আছে শ্রীলঙ্কা। লঙ্কানদের রানরেট (‍+০.

৫২৫),  অন্যদিকে বাংলাদেশের রানরেট (‍+০.৪২৫)।

ঢাকা/নাভিদ

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর গ র প পর ব

এছাড়াও পড়ুন:

উৎসবেও কেন আঁশসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া জরুরি

আঁশসমৃদ্ধ খাবারের সবচেয়ে বড় উপকারিতা হলো, এসব খাবার খেলে রক্তের খারাপ চর্বির মাত্রা কমে যায়। উৎসবের সময় এক দিকে থাকে ভারী খাবারদাবারের আয়োজন, আবার অনেকেই এ সময় শরীরচর্চা করেন না। লম্বা ছুটিতে এমন জীবনধারা বেছে নিলে কিন্তু রক্তে খারাপ চর্বির মাত্রা বাড়ার ঝুঁকি সৃষ্টি হয়। তাই এ সময় আঁশসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করা দারুণ অভ্যাস। সঙ্গে একআধটু শরীরচর্চা করতে পারলে তো খুবই ভালো হয়। তিনবেলা খাওয়ার পর ১০ মিনিট করেই নাহয় হাঁটুন। সুস্থ থাকবেন।

এ সময় আঁশের আরও উপকারিতা

আঁশসমৃদ্ধ খাবার পেটের জন্য ভালো। উৎসব-আয়োজনে জম্পেশ খাওয়াদাওয়ার পর পেটের পীড়ায় ভোগেন অনেকেই। এই সমস্যা প্রতিরোধে সহায়তা করতে পারে আঁশসমৃদ্ধ খাবার। আমাদের অন্ত্রে স্বাভাবিকভাবেই যেসব উপকারী জীবাণু থাকে, সেসবের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে খাবারের আঁশ। ফলে বাড়ে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা। তাতে পেটের পীড়ার ঝুঁকি কমে যায়। পর্যাপ্ত আঁশ গ্রহণ করলে কোষ্টকাঠিন্য এড়ানো সহজ হয়। আঁশসমৃদ্ধ খাবার খেলে বেশ লম্বা সময় ক্ষুধাও লাগে না। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়। ডায়াবেটিক রোগীদের ক্ষেত্রে রক্তের সুগার নিয়ন্ত্রণেও সহায়তা করে আঁশসমৃদ্ধ খাবার।

আরও পড়ুনআপনিও কি খাওয়ার পরে গ্যাসের ওষুধ খান? ১৫ আগস্ট ২০২৪

কী খাবেন, কী এড়িয়ে চলবেন

নানান রকম ফলমূল এবং সবজি খাবেন। ফলের রসের চেয়ে গোটা বা টুকরা করা ফল ভালো। যেসব খোসা সমেত খেতে পারবেন, সেসবের খোসা ফেলবেন না। অন্তত একবেলা শাক খাওয়া ভালো। নানান ধরনের ডাল, বীজ, বাদাম প্রভৃতি খেতে পারেন। রিফাইনড বা পরিশোধিত শস্যের চেয়ে গোটা শস্যে বেশি আঁশ থাকে। লাল চাল বা লাল আটা বেছে নিতে পারেন। একবেলা হয়তো ওটস দিয়ে মজার কিছু তৈরি করে খেলেন। ইনস্ট্যান্ট নুডলস-জাতীয় প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খাওয়া উচিত। আঁশ যেমন খাবেন, পর্যাপ্ত পানিও খাবেন রোজ।

কতটা খাবেন আঁশ

রোজ একজনের গড়ে ২৮-৩৪ গ্রাম আঁশ প্রয়োজন। এতটা আঁশ কিন্তু রোজকার জীবনে অনেকেই গ্রহণ করেন না। তাই আঁশের মাত্রা বেশি হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি আদতে খুবই কম। ধরুন, আপনি ১০০ গ্রাম সবজি বা ফল খেলেন। এর ১০০ গ্রামই তো আর আঁশ নয়। সবজি বা ফলভেদে প্রতি ১০০ গ্রামের জন্য কিছু পরিমাণ আঁশ পাবেন আপনি। একেবারে গুগল থেকে আঁশের মাত্রা খুঁজে বের করে ক্যালকুলেটরে হিসাব করে খেতে হবে, তা কিন্তু নয়। খানিকটা কমবেশি হলে কোনো ক্ষতি নেই। চেষ্টা করুন আঁশ একটু বেশিই গ্রহণ করতে। তবে কেউ যদি একেবারে অতিরিক্ত আঁশ গ্রহণ করে ফেলেন, তাহলে অবশ্য তাঁর অ্যাসিডিটি, পেট ফাঁপা, পেটব্যথা বা পাতলা পায়খানার মতো কিছু সমস্যা হতে পারে।

আরও পড়ুনঅতিরিক্ত খেয়ে পেট ফাঁপলে উপায় কী?১৭ জুন ২০২৪

উৎসবের পরও

উৎসবের পরও আঁশ খাওয়ার অভ্যাস বজায় রাখুন। উপকার মিলবে। রক্তের খারাপ চর্বি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, স্ট্রোকের ঝুঁকি কমবে। তাই আঁশসমৃদ্ধ খাবার খাবেন রোজ। তাতে প্রদাহের ঝুঁকিও কিন্তু কমে। ডায়াবেটিস এবং ক্যানসারের ঝুঁকিও কমে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। গবেষণা এমনটাও জানাচ্ছে, আঁশসমৃদ্ধ খাবার খেলে স্মৃতিভ্রমের ঝুঁকি কমে।

সূত্র: হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল

আরও পড়ুনকী খেলে আঁশ পাবেন২০ জানুয়ারি ২০১৭

সম্পর্কিত নিবন্ধ