ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সেন্টমার্টিনে পর্যটক চান ব্যবসায়ীরা
Published: 24th, January 2025 GMT
সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটকের যাতায়াত ও রাত্রিযাপন আগামী ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত উন্মুক্ত রাখার দাবি জানিয়েছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা। বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম মিলনায়তনে ‘সেন্টমার্টিন দ্বীপ পরিবেশ ও পর্যটন রক্ষা-উন্নয়ন জোট’-এর ব্যানারে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান বলেন, নভেম্বরে সেন্টমার্টিন পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। ডিসেম্বর যেতে পারলেও ট্রাভেল পাস নিয়ে নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যে পড়ছেন অনেকেই। আগামী মার্চে রমজান শুরু হবে। ফেব্রুয়ারি ভ্রমণের শেষ সুযোগ। এই সময় পর্যটক যাওয়া বন্ধ থাকলে বড় ক্ষতির মুখে পড়বেন দ্বীপবাসী।
সংগঠনের চেয়ারম্যান দাবি করে এ সময় পর্যটন শিল্পের শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্য সংগঠন টোয়াবের সাবেক সভাপতি শিবলুল আজম কোরেশি বলেন, সেন্টমার্টিনের সঙ্গে বাংলাদেশের নিরাপত্তার বিষয়টি জড়িত। সেখানে সব সময় জাহাজ চলাচল করলে দেশের নিরাপত্তা বাড়বে। পর্যটক না গেলে ভূখণ্ড নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বে।
দ্বীপ রক্ষায় সোলার বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি মন্তব্য করে তিনি বলেন, ভূগর্ভস্থের পানি যাতে ব্যবহার করতে না হয়, সেজন্য সাগরের পানি পরিশোধনের মাধ্যমে পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। প্লাস্টিক বর্জ্য অপসারণে ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে।
জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পরিবেশ অধিদপ্তর ১৯৯৯ সালে সেন্টমার্টিনকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করে। ২০২০ সালে সেন্টমার্টিন নিয়ে আন্তর্জাতিক ওশান সায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা নিবন্ধে বলা হয়, পদক্ষেপ না নিলে ২০৪৫ সালের মধ্যে দ্বীপটি পুরোপুরি প্রবালশূন্য হতে পারে। মুমূর্ষু এই দ্বীপ বাঁচাতে গত আওয়ামী লীগ সরকার তিন বছরের জন্য পর্যটক বন্ধের সিদ্ধান্ত নিলেও কার্যকর করতে পারেনি। অন্তর্বর্তী সরকার এসে সেন্টমার্টিনে পর্যটক যাতায়াত সীমিত করে। দ্বীপ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নে ফেব্রুয়ারিতে পর্যটক যাওয়া বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তও নিয়েছে।
.উৎস: Samakal
কীওয়ার্ড: স ন টম র ট ন ব যবস
এছাড়াও পড়ুন:
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক ইস্যু সমাধানের আশা
যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে চলমান আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক ইস্যু সমাধানে ইতিবাচক অগ্রগতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
প্রেস সচিব জানান, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্ক পর্যালোচনা করছে বাংলাদেশ।
বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) দ্রুত শুল্কহার যৌক্তিক করার বিভিন্ন বিকল্প খুঁজে বের করবে, যা এই বিষয়টি সমাধানে অত্যন্ত জরুরি।
তিনি আরো লেখেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং আমাদের সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য। ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে আমরা দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য একযোগে কাজ করে আসছি। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক ইস্যু সমাধানে ইতিবাচক অগ্রগতি হবে বলে আশা করছি।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশি পণ্যে শুল্ক বাড়িয়ে ৩৭ শতাংশ ধার্য করেন। আগে দেশটিতে বাংলাদেশি পণ্যে শুল্কের হার ছিলো গড়ে ১৫ শতাংশ। অতিরিক্ত শুল্কের কারণে দেশের রপ্তানি বাজারে বিশেষ করে পোশাক খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের পণ্যের ওপর ২৬ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। পাকিস্তানের পণ্যের ওপর আরোপ করা হয়েছে ২৯ শতাংশ শুল্ক। চীনা পণ্যের ওপর আরোপ করা হয়েছে ৩৪ শতাংশ শুল্ক।
এছাড়া, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ, ভিয়েতনামের পণ্যের ওপর ৪৬ শতাংশ, শ্রীলঙ্কার পণ্যে ৪৪ শতাংশ, তাইওয়ানের পণ্যে ৩২ শতাংশ, জাপানের পণ্যে ২৪ শতাংশ, দক্ষিণ কোরিয়ার পণ্যে ২৫ শতাংশ, থাইল্যান্ডের পণ্যে ৩৬ শতাংশ, সুইজারল্যান্ডের পণ্যে ৩১ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ার পণ্যে ৩২ শতাংশ, মালয়েশিয়ার পণ্যে ২৪ শতাংশ, কম্বোডিয়ার পণ্যে ৪৯ শতাংশ, যুক্তরাজ্যের পণ্যে ১০ শতাংশ, দক্ষিণ আফ্রিকার পণ্যে ৩০ শতাংশ, ব্রাজিলের পণ্যে ১০ শতাংশ, সিঙ্গাপুরের পণ্যে ১০ শতাংশ, ইসরায়েলের পণ্যে ১৭ শতাংশ, ফিলিপাইনের পণ্যে ১৭ শতাংশ, চিলির পণ্যে ১০ শতাংশ, অস্ট্রেলিয়ার পণ্যে ১০ শতাংশ, তুরস্কের পণ্যে ১০ শতাংশ, কলম্বিয়ার পণ্যে ১০ শতাংশ আরোপ করা হয়েছে।
ঢাকা/ইভা