পাহাড়ে খাস জমিতে রিসোর্ট কুজেন্দ্রর
Published: 24th, January 2025 GMT
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতিমন্ত্রী কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা চার একর পাহাড়ি খাসজমি দখল করে গড়ে তুলেছেন পর্যটন কেন্দ্র। আর বরখাস্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান ও তাঁর স্ত্রীর ১২টি ব্যাংক হিসাবে মিলেছে ৩৪২ কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য। এ দম্পতির নামে ৪০ কোটি ৮৭ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদও পাওয়া গেছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এসব তথ্য।
ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম, দুর্নীতি, দখল ও জালিয়াতির মাধ্যমে এসব অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে কুজেন্দ্র, জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা করেছে দুদক। গতকাল বৃহস্পতিবার অনুসন্ধান কর্মকর্তারা কমিশনের ঢাকা-১ কার্যালয়ে মামলাগুলো করেন। দুদক মহাপরিচালক ও মুখপাত্র আক্তার হোসেন এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
কুজেন্দ্র লালের বিরুদ্ধে মামলায় বলা হয়েছে, তিনি প্রভাব খাটিয়ে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্রের পাশে ২৬২ নম্বর গোলাবাড়ী মৌজায় ৪৮৫৭ (আং) খাস দাগে চার একর জমি দখল করেন। সেখানে বাণিজ্যিকভাবে নির্মাণ করেছেন ‘খাস্রাং রিসোর্ট’। তৃতীয় শ্রেণির এ জমির প্রতি শতকের মৌজা রেট ২৫ হাজার ৫১৫ টাকা। সেই হিসাবে সাবেক এ প্রতিমন্ত্রীর দখল করা জমির দাম ১ কোটি ২ লাখ টাকা। বাজারমূল্যে যা আরও বেশি। সরকারি সম্পত্তি এভাবে আত্মসাৎ করে তিনি দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৪০৯, ৪২০-সহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।
সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের নামে মামলার এজাহারে বলা হয়, তিনি নিজ নামে ২২ কোটি ২৭ লাখ ৭৮ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। গাইডলাইন অব ফরেন এক্সচেঞ্জ ট্রান্সজেকশন অনুযায়ী, বর্তমান অনুমোদিত সীমা লঙ্ঘন করে নিজ হিসাবে জমা করেন ৫৫ হাজার মার্কিন ডলার। এ ছাড়া তাঁর নামীয় আটটি সক্রিয় ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১২০ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন হয়েছে।
আরও বলা হয়, জিয়াউল আহসান আয়কর রিটার্নে মৎস্য ও পোলট্রি খামারের আয় দেখালেও রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা ও সরেজমিন তাঁর নামে নিবন্ধিত-অনিবন্ধিত এমন খামারের অস্তিত্ব পায়নি দুদক। আগে ছিল, এমন বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণও মেলেনি। সেই হিসাবে ২০২১-২০২২ করবর্ষ থেকে ২০২৩-২০২৪ করবর্ষ পর্যন্ত আয়কর রিটার্নে তাঁর দেখানো অর্জিত আয় বৈধ হিসেবে মেনে নেওয়ার সুযোগ নেই। এ ছাড়া জিয়াউল আহসানের নামে প্রচুর কৃষিজমি থাকলেও কৃষি আয়ের সপক্ষে কোনো বৈধ রেকর্ডপত্র পাওয়া যায়নি। একজন উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তা হওয়ার সুবাদে এই কাজে নিজ পদ ও অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি দুদক, দণ্ডবিধি এবং মানি লন্ডারিং আইনের একাধিক ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।
জিয়ার স্ত্রী নুসরাত জাহানের বিরুদ্ধে ১৮ কোটি ৫৯ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা হয়েছে। দুদকের এজাহারে বলা হয়েছে, নুসরাতের নামে চারটি সক্রিয় ব্যাংক হিসাবে ২২২ কোটি ৫০ লাখ টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন পাওয়া গেছে। স্বামী জিয়াউল আহসানের সহযোগিতা ও পরস্পর যোগসাজশে ওই পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি।
সাবেক এমপি হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম, দুর্নীতির মাধ্যমে ২ কোটি ৮১ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অপর মামলাটি করেছে দুদক। এ ছাড়া তাঁর ১০টি ব্যাংক হিসাবে সঞ্চয়ী, চলতি, এফডিআর হিসাবে ১৫ কোটি ৯৭ লাখ টাকা লেনদেনের তথ্য মিলেছে।
.
উৎস: Samakal
এছাড়াও পড়ুন:
বাংলাদেশি ভেবে বিএসএফের গুলি, ভারতীয় চোরাকারবারি নিহত
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর গুলিতে এক ভারতীয় চোরাকারবারি নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার ভোরে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার গোরকমন্ডল সীমান্তের ৯২৯ নম্বর আন্তর্জাতিক সীমানা পিলারের ৩ নম্বর সাব পিলারের পাশে এ ঘটনা ঘটে।
কাঁটাতারের বেড়ার বাইরে ভারতের ভূখণ্ডে মরাকুটি (ভোরাম পয়োস্তি) এলাকায় ওই চোরাকারবারীর মরদেহ দেখেন বাংলাদেশিরা। ৪ ঘণ্টা ধরে সেখানে পড়েছিল ভারতীয় ওই চোরাকারবারীর মরদেহ। পরে বিএসএফের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। এ নিয়ে ওই সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
নিহত যুবকের নাম জাহানুর আলম (২৪)। তিনি ভারতের কোচবিহার জেলার দিনহাটা থানার গিদালদহ এলাকার মরাকুটি ভোরাম পয়োস্তি গ্রামের কবিদুল ইসলামের ছেলে।
সীমান্তবাসীরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে মাদকের ব্যবসাসহ গরু পারাপারে জড়িত ছিলেন তিনি।
সীমান্তে বসবাসকারী সায়েদ আলী ও হয়রত আলী জানান, বৃহস্পতিবার ভোরে উভয় দেশের একদল চোরাকারবারী ওই সীমান্ত দিয়ে গাঁজা ও গরু নিয়ে বাংলাদেশে আসার চেষ্টা করে। এ সময় ভারতীয় ভারবান্দা ক্যাম্পের টহলরত বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে ৬ রাউন্ড গুলি ছোড়েন। এতে ভারতীয় চোরাকারবারী জাহানুর গুলিবৃদ্ধ হয়। সেখানে পড়ে থাকা অবস্থায় অনেকবার চিৎকার করলেও সহযোগীরা তাকে উদ্ধার না করায় ঘটনাস্থলে মারা যান তিনি। গুলির শব্দ পেয়ে বাকি চোরাকারবারীরা পালিয়ে যান।
এ দিকে নিহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিজিবির পক্ষে গোরকমন্ডল ক্যাম্পের কমান্ডার নায়েক সুবেদার ফিরোজ এবং বিএসএফের পক্ষে ৩ বিএসএফ ব্যাটলিয়নের অধীন ভারবান্দা গিদালদহ ক্যাম্পের কমান্ডার গিরিশ চন্দ্র নেতৃত্ব দেন। পতাকা বৈঠকের পর সকাল ১০টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহ নিয়ে যায় বিএসএফ।
এ প্রসঙ্গে লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটলিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মেহেদী ইমাম জানান, বিএসএফের কাছে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়- ভোরের দিকে একদল ভারতীয় নাগরিক টহলরত বিএসএফ পোস্টে হামলা চালায়। তখন আত্মরক্ষার্থে বিএসএফ রাবার বুলেট নিক্ষেপ করলে এক ভারতীয় হামলাকারী নিহত হয়। বিষয়টি ভারতের অভ্যন্তরীন। এর সঙ্গে বাংলাদেশ বা বিজিবির কোনও সমৃক্ততা নেই। তারপরও সীমান্তে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।