প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা সরকারের সময় দেশের অর্থনীতির উচ্চ প্রবৃদ্ধি নিয়ে যা বলা হতো, তা ছিল ‘ভুয়া’। শেখ হাসিনা দাবি করেছিলেন প্রবৃদ্ধিতে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশ।

বৃহস্পতিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অধ্যাপক ইউনূস এসব কথা বলেন। একই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কোনো আগ্রহ তার নেই।

হাসিনা সরকারের দুর্নীতি নিয়ে প্রশ্ন না তোলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি।

সুইজারল্যান্ডের দাভোস শহরে চলছে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলন। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সঙ্গে অধ্যাপক ইউনূসও এই সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন। সম্মেলনের ফাকে রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘তিনি (হাসিনা) দাভোসে এসে দেশ কীভাবে চালাতে হয়, সে কথা সবাইকে বলেছিলেন। কেউ তখন প্রশ্ন করেননি। এটা মোটেও কোনো ভালো বিশ্বব্যবস্থা নয়।’

শেখ হাসিনা সরকারের স্বৈরাচারী হয়ে ওঠায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরও দায় আছে বলে মনে করেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘এটা যে ঘটেছে, এর জন্য পুরো বিশ্ব দায়ী। তবে এটা বিশ্বের জন্য একটি শিক্ষা।’ 

প্রবৃদ্ধি নিয়ে হাসিনার একটি মন্তব্যের উল্লেখ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘তিনি (হাসিনা) বলেছিলেন, আমাদের প্রবৃদ্ধির হার অন্য সবার চেয়ে বেশি। এটা একেবারে মিথ্যা।’

.

উৎস: Samakal

কীওয়ার্ড: সরক র র ইউন স

এছাড়াও পড়ুন:

আহতদের প্রয়োজনে বিদেশে পাঠানোর ঘোষণা উপদেষ্টা ফারুক ই আজমের

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় ভয়াবহ দুর্ঘটনায় আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনে বিদেশে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম। 

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে আহতদের দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। আহতদের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় সবকিছু সরকারের পক্ষ থেকে করা হবেও বলেও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। এসময় উপদেষ্টার সঙ্গে ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

গত বুধবার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়ার জাঙ্গালিয়ায় বাস ও মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে দুই দম্পতিসহ ১০ জনের মৃত্যু হয়। আহত তিনজন চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তারা হলেন-তাসনিয়া ইসলাম প্রেমা, আরাধ্য বিশ্বাস ও দুর্জয় মণ্ডল। এরমধ্যে প্রেমা ও আরাধ্য বিশ্বাস হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রয়েছেন।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক ই আজম বলেন, সবকিছু ডাক্তারদের পরামর্শেই হবে। এখান থেকে যদি উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য কোথাও নিতে হয় সেটাও চিকিৎসকদের পরামর্শ মতে করা হবে। আরও উন্নত চিকিৎসার জন্য যদি বাইরে কোথাও নিতে হয় সরকারের পক্ষ থেকে আমরা উদ্যোগ নেব। চিকিৎসকদের পরামর্শে যা করা দরকার সবটুকু আমরা করব।

চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, আরাধ্যর মা-বাবা দুজনই মারা গেছেন। এটা অত্যন্ত হৃদয় বিদারক। তার শারীরিক অবস্থা আস্তে আস্তে উন্নতি হচ্ছে। তবে এখনও শঙ্কামুক্ত না। চিকিৎসকরা আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে। সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং ওষুধ হাসপাতালের পক্ষ থেকে দেওয়া হচ্ছে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ