সীমান্ত সুরক্ষায় কাজ করতে হবে আরাকান আর্মির সঙ্গে
Published: 24th, January 2025 GMT
বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যকার সীমান্তে অপরাধ দমনসহ সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আরাকান আর্মির সঙ্গে কাজ করতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার রোহিঙ্গা সমস্যা ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়াবলি সংক্রান্ত হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেছেন, সীমান্তের ওপারে আরাকান আর্মি দখল নিয়েছে। সীমান্তে ওপারে যেই থাকুক না কেন, তাদের সঙ্গে আমাদের কাজ করতে হবে। কারণ রাখাইনে একটি সংকট পরিস্থিতি চলছে। মার্চ বা এপ্রিলে সেখানে একটি দুর্ভিক্ষ আসতে পারে। তখন সেখান থেকে আরও রাখাইন অধিবাসীদের বাংলাদেশে প্রবেশের আশঙ্কা রয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর নিজস্ব ক্যাম্পাসে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর পিস অ্যান্ড জাস্টিস (সিপিজে) ‘ক্রাইম এগেইনস্ট হিউম্যানিটি ইন মিয়ানমার: চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড ওয়ে ফরওয়ার্ড ফর আইআইএমএম’ শীর্ষক লেকচারের আয়োজন করে। বাংলাদেশ সফররত মিয়ানমারের জন্য জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্ত ব্যবস্থা আইআইএমএমের প্রধান নিকোলাস কৌমজিয়ান তদন্তের বিষয়ে বক্তব্য দেন। সেই সঙ্গে সম্মানিত অতিথি হিসেবে প্রধান উপদেষ্টার রোহিঙ্গা সমস্যা ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়াবলি সংক্রান্ত হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ ড.
বাংলাদেশে রোহিঙ্গার চেয়ে গাজা সংকট নিয়ে বেশি সচেতনতা রয়েছে জানিয়ে খলিলুর রহমান বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কার্যক্রম চলমান। রাখাইনে একটি পরিস্থিতি চলছে। আমরা সীমান্তে শান্তিপূর্ণ অবস্থান চাই। যেদিন সীমান্তের ওপারে আরাকান আর্মি দখলে নিয়েছে, তখন আমি কক্সবাজারে ছিলাম। সঙ্গে সঙ্গে সীমান্ত সুরক্ষার বিষয়ে আমরা শক্ত অবস্থানের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সার্বভৌম দেশ হিসেবে সীমান্ত রক্ষা করা আমাদের কর্তব্য। এটিকে শান্তিপূর্ণ রাখা, প্রতিরক্ষা করা ও সুরক্ষিত করা আমাদের দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, সীমান্তের অপর প্রান্তে যেই থাকুক না কেন, তাদের সঙ্গে আমাদের কাজ করতে হবে। মিয়ানমারের সঙ্গে আমাদের সীমান্ত ২৭১ কিলোমিটার বিস্তৃত। এখান দিয়ে মানুষের যাতায়াত হয়। কখনও কখনও অস্ত্র ও মাদকও পাচার হয়ে থাকে। ওপারের সহযোগিতা না পেলে সীমান্ত সুরক্ষা করা কঠিন।
খলিলুর রমান বলেন, রাখাইনে বড় ধরনের মানবিক সংকট চলছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেখানে ওষুধ সরবরাহও কঠিন হয়ে পড়েছে। জাতিসংঘ উন্নয়ন প্রকল্প (ইউএনডিপি) মনে করে, সংকটগুলো সমাধান করা না গেলে মার্চ অথবা এপ্রিলের মধ্যে রাখাইনে একটি দুর্ভিক্ষ আসবে। খালি পেট সীমান্ত বোঝে না। আমরা দেখেছি, ১২ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। আমরা আরও ১২ লাখ রাখাইন জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়ার মতো অবস্থায় নেই। এ কারণে সেখানে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো জরুরি।
রোহিঙ্গা দক্ষতা উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সম্প্রতি আমরা বিষয়গুলো নিয়ে বৈঠক করেছি। রোহিঙ্গাদের শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণের বিষয়টি আমাদের বিবেচনায় রয়েছে।
তদন্তে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে নিকোলাস কৌমজিয়ান বলেন, রোহিঙ্গাদের সঙ্গে যা হয়েছে তা আর কারও সঙ্গে হয়নি। আমরা তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহ করছি, যাতে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি), আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালত (আইসিজে) এবং আর্জেন্টিনার আদালতের কৌঁসুলিরা এগুলো ব্যবহার করে বিচার নিশ্চিত করতে পারে। আমাদের তদন্ত থেকে ভবিষ্যতে বিচার নিশ্চিত করা যাবে। এমনকি আমরা বর্তমানে চলা সংঘাতের তদন্তও করছি।
উৎস: Samakal
কীওয়ার্ড: আর ক ন আর ম ক জ করত তদন ত
এছাড়াও পড়ুন:
পরিবেশকে খারাপ করে এমন বক্তব্য এড়িয়ে চলাই সর্বোত্তম
ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক খারাপ হয়, এমন বক্তব্য পরিহার করার আহ্বান জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পরিবেশকে খারাপ করে এমন বক্তব্য এড়িয়ে চলাই সর্বোত্তম। শুক্রবার দুপুরে ব্যাংককের সাংরিলা হোটেলে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে নরেন্দ্র মোদি বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি এ কথা জানান।
থাইল্যান্ডের রাজধানীতে ষষ্ঠ বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলন শেষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে বিক্রম মিশ্রি বক্তব্য দেন। এরপর তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে প্রথমবারের মতো বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান। নরেন্দ্র মোদি আশা প্রকাশ বলেন, ভবিষ্যতে ভারত এমন এক গণতান্ত্রিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক, স্থিতিশীল বাংলাদেশ দেখতে চায়, যেখানে নির্বাচনের একটি ভূমিকা রয়েছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, নয়াদিল্লি সবসময় ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ককে ‘সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার’ দিয়েছে। দুই প্রতিবেশীর ইতিহাস ওতপ্রোতভাবে জড়িত, বাংলাদেশের জন্মের সঙ্গে সম্পর্কিত। ভারত সর্বদা একটি প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশকে সমর্থন করে। ভারত বাংলাদেশের কোনো নির্দিষ্ট দলকে সমর্থন করে না। আমাদের সম্পর্ক জনগণের সঙ্গে জনগণের।
বিক্রম মিশ্রি জানান, সীমান্তে আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং অবৈধ সীমান্ত অতিক্রম প্রতিরোধ, বিশেষ করে রাতে সীমান্ত অতিক্রম ঠেকানো সীমান্ত নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় বলে উল্লেখ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক পর্যালোচনা এবং এগিয়ে নেওয়ার জন্য দুই দেশের প্রতিনিধিরা বৈঠক করতে পারেন বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যপর্ণের বিষয়ে অধ্যাপক ইউনূস অনুরোধ করেছেন কিনা জানতে চাইলে বিক্রম মিশ্রি বলেন, শেখ হাসিনার যে বিষয়টি আর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যে অনুরোধ এসেছে, সে বিষয় নিয়ে কথাবার্তা হয়েছিল। আর আমাদের যে মুখপাত্র, তিনি এই বিষয়ে আপনাদের অবগত করেছেন। আমাদের কাছে এ বিষয়ে একটি আবেদন এসেছিল। তা নিয়ে আর কিছু বলা আমার এখন সমীচীন হবে না।
বিক্রম মিশ্রি বলেন, বাংলাদেশে হিন্দুসহ সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিয়ে ভারতের উদ্বেগের কথা তুলে ধরেছেন নরেন্দ্র মোদি। এছাড়া বাংলাদেশে নির্বাচনের বিষয়ে আলোচনা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বিক্রম মিশ্রি বলেন, ‘যেকোনো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নিয়মিত অন্তর্ভক্তিমূলক নির্বাচন খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যাপার। আমাদের প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়েও অধ্যাপক ইউনূসকে অবগত করেছেন। জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে আমরা একটি গণতান্ত্রিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক, স্থিতিশীল বাংলাদেশ দেখতে পাব। এ ব্যাপারে নির্বাচনের একটি ভূমিকা আছে, তা সবাই জানেন।