Samakal:
2025-04-03@05:08:15 GMT

পদাবলি

Published: 23rd, January 2025 GMT

পদাবলি

প্রতিভাময়ীর প্রেমে
মারুফ রায়হান
 
গানের সঙ্গে গদ্যের প্রেম হলো
তোমরা অবাক হলে
গহিন সুরের সাথে নুড়িপাথরের প্রেম হলে
তোমরা চমকে যাও, কেন!
প্রতিভাময়ীর প্রেমে আমি বারবার সন্তপুরুষ

স্থাপত্যের সাথে বুঝি শব্দের প্রেম হতে নেই
আমি চিরকাল থরোথরো নিঃশব্দ শব্দ
সে আজ আশ্চর্য স্থপতি
আমার মনের নকশা বদলে বদলে দিচ্ছে
কেন তবে প্রতিভাময়ীর প্রেমে 
শব্দকে সশব্দ হতে দেব না, বলো?

শাস্ত্রীয় সংগীতের সাথে কবিতার ছন্দ ও মিল
খুঁজে পেল একবার জীবনের অন্ত্যমিল
কবিতায় যদি রাগিণী বেজে ওঠে, আর
রাগিণীর স্তনের মন্দিরে মাথা রাখে কবিতা
তাতে জগতের কী ক্ষতি, বলতে পারো?
ঈর্ষায় মূর্ছা যায় তবু নীতিভ্রষ্ট বিচারক

জলরংশিল্পী বুঝি ফ্যাশন মডেলে মুগ্ধ হতে পারে না
এই প্রেমকে সামাজিক চোখে দেখো না দেখো না
শিল্পী সতত থাকে শিল্পেরই প্রেমে
যেমন কবিতা সারাক্ষণ থাকে নৃত্যের আলিঙ্গনে
নর্তকী নশ্বর, আর কবিতা অবিনাশী
আমি নগণ্য কবি বটে, তবে
আমার ধ্বনিরা আজ ক’জন প্রতিভাময়ীর প্রেমে
শূন্যতায় গড়ে চলেছে বিমূর্ত বাসর

 

 

বহুদূর থেকে ভেসে আসা সুর
আরিফ মঈনুদ্দীন
 
বহুদূর থেকে কী এক শব্দ ভেসে আসছে
অনুমান-আন্দাজ করার আগে ভাবনার পাল খাটিয়ে খানিক
তাকিয়ে থাকি দূরের পর্দায়– অদৃশ্য অথচ জ্বলজ্বল-করা
সৃষ্টিসীমায় দিগন্তপ্রসারী হাওয়ার নাচন এখানে
তোমার তরল জ্যোৎস্না উপস্থিত হবে পূর্ণিমায়

উপভোগের আলোয় যারা অভ্যর্থনা জানাতে প্রস্তুত
তারা দেখবে আমার কতটুকু গ্রহণযোগ্যতা লেখা হয়ে আছে
                                            দলিলের পৃষ্ঠা জুড়ে
তাই আমি সোজা পথ ধরে নির্দেশিত কথামালা
কর্ম তালিকায় তুলে নিয়ে একটি একটি করে
                 রূপায়ণ প্রক্রিয়ায় হাত দেবো
কতটুকু সময় বরাদ্দ তা যেহেতু জানা নেই
আমার তাড়াহুড়োর পাশ কাটিয়ে কঠিন দৃঢ়তায় বেছে নেবো
                                            সময়ের শ্রেষ্ঠ অংশ
যতখানি জীবন না-পারার কিছুই নেই
     কেননা ততখানিই নির্ঘণ্ট আমার
বাকিটুকু ফেলে রাখা হবে তোমাদের জন্য

এভাবেই শতাব্দী আসবে আর যাবে
সভ্যতার শেষ লগ্ন অবধি মানব-মানবীর বাক প্রতিমাই
                                   ইতিহাসে লেখা রবে।
সেই শব্দই স্বপ্নে অথবা জাগরণে ভেসে আসে নিশিদিন
যারা ধরতে পারে তারাই সাফল্যের বরপুত্র
                        নবীন কিংবা প্রবীণ।
 

 

বসন্ত বিবাদ
অনুভব আহমেদ 
 
তোমার সাথে আমার কোনো বসন্ত নাই, কলহ আছে

আছে–
পার করেও পার করা যায় না এমন দূরত্বে
ধুরন্ধর হাওয়ায় নিরুদ্বেগ উড়া পাতার নিনাদ

আমি তো বাতাস বেয়ে গড়িয়ে পড়া ফুলের ঘ্রাণে
রাষ্ট্রবাহী শবের প্রতীক
চিৎকারে চিৎকারে গুম হয়ে যাওয়া বাঁকের বাঁকে
আমার শরীর স্রোতের খড়কুটো
মাছেরা ঠুকরে খায়

আমার কোনো বসন্ত নাই
পাখিরা গায়, ধুলো ওড়ে
তোমাকে করা ফোন কেটে যায়
সহজ যোগাযোগের দিনে দুর্বল হয়ে থাকা সেতুটা ভেঙে যায়

ছড়া কাটার ছলে আমাদের কেটেছিল যে সাপ
আমি তার বিষ বয়ে বেড়াই প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তর

হয়তো কোনো বসন্তে
তোমার মতো কেউ আসে
আমি সেই ঠোঁটে ক্ষত রাখি

আমি ভয় পাই, আমি দেখি
তারও কোনো বসন্ত নাই
আছে–
নিরুদ্বেগ হাওয়ায় উড়ে যাওয়া পাতা, ধুলোর ঝড়।

.

উৎস: Samakal

এছাড়াও পড়ুন:

সম্প্রীতির উৎসবে সংঘাত কেন?

মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করিয়া সমগ্র দেশে যখন সম্প্রীতির সুর বাজিয়াছে তখন হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফরিদপুরসহ কতিপয় এলাকায় সশস্ত্র সংঘাতের ঘটনাবলি যথেষ্ট উদ্বেগজনক। আমরা জানি, রমজানের রোজার শেষে ‘খুশির ঈদ’ উৎসব উপলক্ষে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম তাঁহার বহুল শ্রুত সংগীতে ‘দোস্ত’ ও ‘দুশমন’ ভুলিয়া গিয়া সকলের সহিত করমর্দনের তাগিদ দিয়াছেন। কিন্তু তৎপরিবর্তে একের হস্ত অপরের উপর সক্রোধে ক্ষুব্ধ ক্রিয়া করিতেছে কেন? যেই সকল তুচ্ছ ঘটনায় এই সকল সংঘাত ঘটিয়াছে, উহাও কম উদ্বেগজনক নহে।

সমকাল অনলাইনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার কতিপয় ব্যক্তি বাণিজ্য উপলক্ষে ঢাকার মিরপুরে বসবাস করেন। কয়েক দিন পূর্বে তুচ্ছ বিষয় লইয়া তথায় তাঁহাদের মধ্যে হস্তযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। ঈদের ছুটিতে সকলে এলাকায় প্রত্যাবর্তন করিলে মঙ্গলবার উক্ত অঘটন লইয়া সালিশ বৈঠক চলাকালে উভয় পক্ষ লাঠিসোটা ও ধারালো অস্ত্র সহযোগে পরস্পরের উপর সমর্পিত হয়। ফলে দুই পক্ষের অন্তত ৪০ জন আহত হন। একই দিবসে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের মনসুরাবাদ গ্রাম ও তুজারপুর ইউনিয়নের সরইবাড়ি গ্রামে ‘আধিপত্য বিস্তার’কে কেন্দ্র করিয়া পৃথক দুই সংঘর্ষে আহত ন্যূনপক্ষে অর্ধশতাধিক মানুষ। অন্যদিকে মঙ্গলবারই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ফুটবল খেলায় বাধা প্রদানকে কেন্দ্র করিয়া দুই পক্ষের মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যথায় প্রায় ২০ জন আঘাতপ্রাপ্ত হন। ৩০ মার্চ তথা চন্দ্ররজনীতে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে দোকানের সম্মুখে ব্যাটারিচালিত রিকশা রাখার ন্যায় তুচ্ছ বিষয় লইয়া দুই দলের মধ্যে যেই তুমুল সংঘর্ষ হইল, উহাও বিস্ময়কর।

পল্লি অঞ্চলে প্রভাবশালী পরিবার কিংবা পক্ষসমূহের আধিপত্য বিস্তারের প্রবণতা বহুল আলোচিত। সেই আধিপত্য বিস্তারে সংঘর্ষে সংশ্লিষ্ট হইবার ঘটনাও বিরল নহে। কিন্তু রাষ্ট্র ও সামাজিক কাঠামোতে ইতোমধ্যে বহু পরিবর্তন সাধিত হইলেও সামন্ত যুগের সেই সংঘাত-সংঘর্ষ হইতে বিশেষত পল্লি অঞ্চলসমূহ অদ্যাবধি বাহির হইতে পারে নাই। বরং রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ অনেকাংশেই সেই প্রভাবশালীদের স্থান দখল করিয়াছেন। তাহাদের আশীর্বাদপুষ্ট গোষ্ঠীসমূহ তাই বিবিধ অজুহাতে প্রায়শ সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। উল্লিখিত ঘটনাবলি বিশ্লেষণ করিলেও হয়তো অধিকাংশ ক্ষেত্রে উহার প্রমাণ মিলিবে। কিন্তু ঈদুল ফিতরের ন্যায় সম্প্রীতির উৎসব উদযাপনকালেও যখন এহেন সংঘাত-সংঘর্ষের বিস্তার ঘটে, তখন আমাদের ললাট কুঞ্চিত না হইয়া পারে না। এহেন সংঘাত-সংঘর্ষে স্পষ্ট– ধর্মীয় বিধিবিধান তো দূরস্থান, উৎসবের মিলনাত্মক আমেজও উহাদের নিরস্ত করিতে পারিতেছে না।

আমরা জানি, ঈদ মানেই এমন এক উৎসব, যখন সকল প্রকার সামাজিক ব্যবধান-বৈষম্য অতিক্রম করিয়া মুসলমান সমাজ সমভিব্যাহারে আনন্দে মাতিয়া উঠে। এমনকি ধর্ম-বর্ণের ব্যবধানও এই সময়ে ঘুচিয়া যায়। অর্থাৎ ঈদুল ফিতর এমন এক উপলক্ষ লইয়া আসে যখন সমাজের সকল মানুষের একাট্টা হইবার অবকাশ সৃষ্টি হয়। সেই সময়ে যখন আলোচ্য সংঘর্ষের ন্যায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাবলি ঘটে তখন বুঝিতে হইবে, সমাজের মধ্যে কোনো না কোনো ব্যাধি দানা বাঁধিয়াছে। ইহার সুচিকিৎসা না হইলে এই সকল উৎপাত বৃদ্ধিই পাইবে। সুলুক সন্ধান জরুরি– কেন স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমক্ষে এহেন সংঘাত-সংঘর্ষ ঘটে। হবিগঞ্জের ঘটনায় জানা গিয়াছে, উভয় পক্ষ রীতিমতো ‘অগ্রিম ঘোষণা’ দিয়া সংঘর্ষে প্রবৃত্ত হইয়াছে। ইহার অর্থ, স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশকে এক প্রকার অবহিত করিয়াই তাহারা এহেন দুষ্কর্মে মনোনিবেশ করিয়াছে। এক্ষণে প্রশ্ন, প্রশাসন ও পুলিশ অগ্রিম ব্যবস্থা গ্রহণ করিল না কেন?

সম্পর্কিত নিবন্ধ