অভিনয়জীবনে দিনটি ছিল রাজ্জাকের সবচেয়ে স্মরণীয়
Published: 23rd, January 2025 GMT
নায়ক হতে চেয়েছিলেন। তাই অন্য কোনও পেশায় যুক্ত হননি। তবে শুরুর দিকে করতে হয়েছে অনেক কষ্ট। নিজের মেধা, প্রতিভার সবটুকু ঢেলে দিয়ে পরিশ্রম করে তিনি হয়ে উঠেছেন নায়করাজ। বর্ণঢ্য অভিনয়জীবনে রাজ্জাকের স্মরণীয় দিন ছিল ১০০ তম সিনেমার উৎসব। তা নিজেই জানিয়ে গেছেন নায়করাজ।
কিংবদন্তি অভিনেতা নায়করাজ রাজ্জাকের জন্মদিন আজ। বিশেষ এই দিনে সামনে এসেছে রাজ্জাকের পুরোনো একটি সাক্ষাৎকারে ভিডিও।
সেখানে চলচ্চিত্র জীবনে সবচেয়ে বড় উপলব্ধি ও স্মরণীয় দিনের কথা জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘আমি একটা সময় চলচ্চিত্রে দিনরাত কাজ করেছি। যেমন কাজ করেছি তেমনই সন্মানও পেয়েছি। আমার সবচেয়ে স্মরণীয় দিন হল ১০০ তম সিনেমার রিলিজ উৎসব। কারণ, এজন্য আমাদের চলচ্চিত্র শিল্পীদের ৭ দিন ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল। এই ৭ দিন প্রযোজক, পরিচালক, শিল্পী, এফডিসি ও দর্শকের শুভেচ্ছা জানানো হয়। এরই মধ্যে এফডিসিতে তিনদিন ব্যাপী একটি অনুষ্ঠান হয়। সেখানে সেই সময়ের সব নায়কের স্বাক্ষরিত একটি স্মারক আমাকে উপহার দেওয়া হয়। সেটা আমার ঘরে আছে। দীর্ঘ চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারে শততম সিনেমার সময় আমি যে চলচ্চিত্র শিল্প ও শিল্পীরা আমাকে যে শ্রদ্ধা-ভালোবাসা দিয়েছিল এর চেয়ে বড় পাওয়ার আমার আর কিছু নেই।’
রাজ্জাক বলেন, ‘দেশের প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক ও গল্পকার জহির রায়হান আমাকে চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সুযোগ দিয়েছিলেন। প্রথম দেখায় তিনি আমাকে বলেছিলেন, ‘আমি আপনাকে নায়ক বানাবো’। তিনি আমাকে নায়ক বানানোর জন্য ‘হাজার বছর ধরে’ ছবিতে নেওয়ার কথা ছিল কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত নানা কারণে সিনেমাটি হয়নি। পরবর্তীতে তিনি ‘বেহুলা’ সিনেমায় আমাকে সুযোগ করে দেন।’
‘বেহুলা’ সিনেমার পর তাকে আর ফিরে তাকাতে হয়নি। নিজের সর্বোচ্চ দিয়ে অভিনয় করে গেছেন। রাজ্জাক বলেন, ‘জহির রায়হান সাহেবের পরামর্শে আমি পরবর্তীতে এগিয়ে গেছি। তিনি আমাকে শিখিয়েছেন, চলচ্চিত্রে লোভ করলে কিছুই পাওয়া যায় না, বরং ত্যাগ করতে হয়। তার এই বাণী আমি জীবনের প্রত্যেকটি পর্যায়ে মেনে চলেছি। তাই আমার জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় ও শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব জহির রায়হান সাহেব।’
.উৎস: Samakal
কীওয়ার্ড: ন য়কর জ ন য়কর জ র জ জ ক চলচ চ ত র স মরণ য় সবচ য়
এছাড়াও পড়ুন:
ঈদে সেই সুযোগ এখন আর হয় নেই: ন্যান্সি
ঈদ এলেই উৎসবের রং ছড়িয়ে পড়ে চারপাশে। সাধারণ মানুষের মতো পর্দার মানুষগুলোও এই দিনটিকে ঘিরে সাজিয়ে রাখেন বিশেষ পরিকল্পনা। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে আড্ডা, ঘুরে বেড়ানো-সব মিলিয়ে ঈদ মানেই বাড়তি আনন্দ। তবে আগের মত ঈদের আনন্দ এখন নেই বলে জানালেন দেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী নাজমুন মুনিরা ন্যান্সি।
ন্যান্সি সমকালকে বলেন, ‘এবার ঈদ ঢাকায় করছি। বাবা-মা মারা যাওয়ার পর থেকেই ঢাকায় ঈদ করি। আমরা যারা ঢাকার বাইরে থেকে আসি, ঈদে তারা নিশ্চয় গ্রামের বাড়িতে যান। আমাদের কিন্তু সেই সুযোগ নেই। আমরা কিন্তু চাইলেই যেতে পারি না।’
ছোটবেলা ও এখনকার ঈদের মধ্যে পার্থক্য বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘ছোট-বড়বেলা ঈদের মধ্যে অনেক পার্থক্য। আমি একটা জিনিস বুঝেছি, বাবা-মাকে ছাড়া ঈদ করা কঠিন। আমার বাবা-মা তো বেঁচে নেই আমি কোথায় যাবো। যেকোনো উৎসবে অনেক বেশি খারাপ লাগে। তবে এখন সন্তানরাই আমার সব। সন্তান ও পরিবার নিয়েই এখন আমার ঈদ।’
ন্যান্সির কথায়, ‘একটা সময় আমার মা-বাবাই সব ধরনের খোঁজ-খবর নিতেন। ঈদের দিন বা পরের দিন আমি তাদের বাড়ি যেতাম, নয়তো তারা আমার বাড়ি আসতেন। অনেক হইহুল্লো করে দিন যেতো। কিন্তু এখন তো আর সেটা নেই।’
ন্যান্সি বলেন, ‘শুধু তাই নয়, আমিসহ আমার বাচ্চাদের টেনশন ছিল তাদেরই। এই যে একটা ঈদ আসলো, মা যে কত কিছু করতেন তা বলে বোঝানো যাবে না। আমার টিভি অনুষ্ঠানসহ সব কিছু মা খেয়াল রাখতেন। একটা গান আসলে আমার মায়ের যে উচ্ছ্বাস আমি দেখেছি তার আর কারও মধ্যে দেখিনি।’