Samakal:
2025-04-03@20:26:01 GMT

সন্দেহ গুজবের বিপিএল

Published: 23rd, January 2025 GMT

সন্দেহ গুজবের বিপিএল

চারপাশের সন্দেহ আর গুজবে বিপিএল এখন যেন কানকথার টুর্নামেন্ট! রাজশাহীর ক্রিকেটারদের সম্মানী না পাওয়ার বাস্তবতা দিয়ে নেতিবাচক শিরোনামে আসে এ আসরটি। এরপর সন্দেহ দানা বাঁধে বিভিন্ন ম্যাচে অদ্ভুত সব ওয়াইড দেখে। এরপরই শুরু হয় গুজবের হাওয়া। মিডিয়াকুলে ফিসফিস– দলের ভেতরে কোন্দল, টিম হোটেলের পেমেন্ট ঝামেলায় দুর্বার রাজশাহীর মালিককে নজরদারিতে রাখা, লঙ্কান ক্রিকেটারের ম্যাচ বয়কটের মতো সব ঘটনা। বিষয়গুলো যাচাই করতে গিয়ে বেশির ভাগ ঘটনার সত্যতা মেলেনি। 

বিপিএলে যে কারণে সন্দেহ: ঢাকা ক্যাপিটালের পেসার আলাউদ্দিন বাবু কেন মাঠে নেই– এ নিয়ে নানা গুঞ্জন জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে। আলোচনা থেকে সন্দেহ দানা বাঁধে। সাংবাদিকদের মুখে মুখে ফিরতে থাকে নানা কথা। বাধ্য হয়েই আলাউদ্দিন বাবুকে ফোন করা। কেন মাঠে আসেননি– জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘আমি ১৫ জনে নেই। আমাকে তাই হোটেলে রেখে গেছে। এখানে অন্য কোনো কারণ নেই।’ ১৫ জনে জায়গা না পেলে অনেক ক্রিকেটারকেই হোটেলে থাকতে হয়। 

আলোচনায় উসমান, ফার্নান্দো: চিটাগং কিংসের পাকিস্তানি ব্যাটার উসমান খান দারুণ একজন ব্যাটার। চলমান বিপিএলে সেঞ্চুরিও আছে একটি। গতকাল তাঁকে হোটেলে রেখে ম্যাচ খেলতে গিয়েছিল দল। হোটেলে রেখে যাওয়া হয়েছিল ফার্নান্দো বিনুরাকেও। এ দুই বিদেশি ক্রিকেটারের মাঠে না যাওয়া নিয়ে বিসিবি-সংশ্লিষ্ট সবার মুখে মুখে শোনা গেছে, সম্মানী না দেওয়ায় হোটেলে থেকে গেছেন এ দুই বিদেশি। 

এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে চিটাগং কিংসের মালিক সামির কাদের চৌধুরী বলেন, ‘বিদেশি দুই ক্রিকেটারের মাঠে না যাওয়া নিয়ে নানা কথা শুনছি। সবার উদ্দেশে বলতে চাই, পেমেন্টের কোনো ইস্যু নেই। ফার্নান্দো মাঠে যায়নি, কয়েক দিন আগে তাঁর পরিবারে বিয়োগান্তক ঘটনা ঘটেছে। আর উসমান ভালো করতে না পারায় বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। আমরা বিদেশিদের ৭০ শতাংশ টাকা দিয়েছি। দেশি কয়েক ক্রিকেটারের পেমেন্ট কম দেওয়া হয়েছে। সুতরাং যেগুলো বাইরে শোনা যাচ্ছে, তা গুজব।’

বিতর্কে চিড়ে চ্যাপ্টা রাজশাহী: ক্রিকেটারদের সম্মানীর চেক বাউন্স করার প্রতিবাদ ও টাকার দাবিতে প্র্যাকটিস বয়কটের মধ্য দিয়ে আলোচনায় দুর্বার রাজশাহী। বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদের হস্তক্ষেপে ২৫ শতাংশ সম্মানী নগদ দেওয়া হলে ম্যাচ খেলেন ক্রিকেটাররা। 

গতকাল চট্টগ্রামের আলোচিত ছিল রাজশাহীর হোটেল ভাড়া নিয়ে। জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে কান পাতলেই শোনা গেছে, হোটেল ভাড়ার চেক বাউন্স করায় ভ্যালেন্টাইন গ্রুপের এমডি শফিকুর রহমানকে নজরদারিতে রাখা হয়েছিল। 

যদিও বিষয়টি অস্বীকার করে রাজশাহীর অন্যতম এ মালিক বলেন, ‘আমি নতুন এসেছি, বিপিএলের নিয়মকানুন সম্পর্কে ভালো জানাশোনা নেই। শুধু তো খেলোয়াড়দের টাকা নয়, আরও অনেক খরচ আছে। সেগুলোও তো পরিশোধ করতে হয়। আমরা ধাপে ধাপে তা করছি। হোটেলের সঙ্গে চুক্তি ৫০ শতাংশ টাকা দেব, বাকিটা পরে। সেভাবে পেমেন্ট করা হয়েছে। গাড়ি ভাড়া কত দিয়েছি তা তো ড্রাইভার, হেলপার জানবে না। জানবে কোম্পানি। অথচ এগুলোকে ইস্যু করা হচ্ছে নিউজ বানিয়ে। আমরা খেলোয়াড়দের ২৫ শতাংশ টাকা দিয়েছি, ঢাকায় গিয়ে ২৫ শতাংশ দেব। বল ধার করে অনুশীলন কেন করতে হবে রাজশাহীকে। আগের রাতেই তো বল পৌঁছে গেছে। আর অধিনায়ক পরিবর্তনের বিষয়টিও নিয়মমাফিক হয়েছে।’
 
বিসিবি এসিইউ বলছে, অতিরঞ্জিত: মূলধারার গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসেছে, দেশি-বিদেশি ৪০ জন বিপিএল ক্রিকেটারকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। সন্দেহের জালে কেউ কেউ আটকেও গেছেন বলে খবর। বিসিবির দুর্নীতি দমন বিভাগের কর্মকর্তারাও কয়েকজন বোলারকে স্পট করেছেন। সন্দেহজনক ওভারগুলো পর্যালোচনা করে বিসিবিকে নোট দিয়েছেন তারা। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তদন্তের অনুমতি চাওয়া হয়েছে বলে জানান এক এসিইউ কর্মকর্তা। 

৪০ ক্রিকেটারের দিকে সন্দেহের তীর– এ প্রশ্ন করা হলে এসিইউপ্রধান মেজর (অব.

) রায়ান আজাদ বলেন, ‘যা কিছু দেখছেন অতিরঞ্জিত। সন্দেহ থেকে যে যার মতো ব্যাখ্যা করছে। আমরা বা আপনাদের সন্দেহ হলেও প্রমাণ ছাড়া কোনো কিছু বলা যাবে না। কেউ সাহায্য চাইলে আমরা তাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করি। একে ধরছি, ওকে ধরছি, বিষয়টি ঠিক না।’

উৎস: Samakal

কীওয়ার্ড: ব প এল ব প এল

এছাড়াও পড়ুন:

অপরাধ প্রবণতা কমাতে সিসিটিভির আওতায় আসছে পুরো নারায়ণগঞ্জ শহর

নারায়ণগঞ্জ শহরে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও অপরাধ প্রবণতা কমাতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ক্যামেরা স্থাপনের কার্যক্রম হাতে নিয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন।

প্রাথমিকভাবে শহরের প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়া গোলচত্বর থেকে শুরু করে নূর মসজিদ, মেট্রোহল মোড়, ডাক বাংলো ও আর্মি মার্কেট পর্যন্ত সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করেছে জেলা প্রশাসন।

পর্যায়ক্রমে পুরো শহরকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসা হবে বলে জানান জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) চাষাঢ়া বিজয়স্তম্ভ এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার, নারায়ণগঞ্জ  অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট  নিলুফা ইয়াসমিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক), মো. আলমগীর হুসাইন,  অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) সোহেল রানাসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ।

এসময় জলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, এই এলাকাটি হচ্ছে আমাদের নারায়ণগঞ্জের প্রাণকেন্দ্র। এখানে আমাদের জাতীয় দিবস থেকে শুরু করে মেলা ও অন্যান্য বাণিজ্যিক কার্যক্রম হয়ে থাকে। তাই আমরা এই চাষাঢ়া এলাকাটাকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দিতে চেয়েছি।

তিনি আরো বলেন, নারায়ণগঞ্জে আমরা গ্রিন অ্যান্ড ক্লিন সিটির কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। এর অধীনে অনেক কাজ চলছে। সেই ধারাবাহিকতায় চাষাঢ়া থেকে শুরু করে ডাক বাংলো ও এপাশে নূর মসজিদ, আর্মি মার্কেট, মেট্রোহল মোড় পর্যন্ত এই পুরো এলাকা সিসি টিভির কাভারেজে নিয়ে এসেছি।

এখানে আমরা ১৬টি সিসিটিভি ক্যামেরা লাগিয়েছি। ধীরে ধীরে আমরা পুরে শহরকে সিসিটিভির আওতায় নিয়ে আসবো।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার বলেন, সিসিটিভি আওতায় থাকলে আইনশৃঙ্খলা সহ নানা পরিস্থিতি নজরদারিতে অত্যন্ত সুবিধা জনক হবে। এতে করে কেউ কোনো ঘটনা ঘটিয়ে চলে গেলেও সিসিটিভির নজরদারির মাধ্যমে তাদেরকে সনাক্ত করা সম্ভব হবে। 

স্থানীয়রা জানান, নারায়ণগঞ্জবাসীর নিরাপদ চলাচল, যানজট নিরসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রমে জেলা প্রশাসক এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • অপরাধ প্রবণতা কমাতে সিসিটিভির আওতায় আসছে পুরো নারায়ণগঞ্জ শহর
  • অপরাধ দমনে সিসিটিভির আওতায় চাষাড়া