বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের শূন্যরেখার ১৫০ গজের মধ্যে কৃষক ছাড়া আর কেউ যেতে পারবে না বলে আলোচনায় ঐকমত্যে এসেছে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী। গতকাল বুধবার সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ বিওপির সম্মেলন কক্ষে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের মধ্যে সেক্টর কমান্ডার পর্যায়ের সৌজন্য বৈঠকে এ আলোচনা হয়। 

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্তে দুই দফা উত্তেজনা ও সীমান্তবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের পর এ বৈঠক হলো। এতে বিজিবির পক্ষে নেতৃত্ব দেন রাজশাহী বিভাগের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল ইমরান ইবনে এ রউফ এবং বিএসএফের পক্ষে ছিলেন মালদা সেক্টরের ডিআইজি অরুণ কুমার গৌতম। এ সময় মহানন্দা ৫৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম কিবরিয়া, ১১৯ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক সুরজ সিংসহ উভয় দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 

বৈঠকে বিজিবি-বিএসএফ নিজ দেশের সীমান্তে কার্যক্রম চালানো এবং কোনো সমস্যা হলে তাৎক্ষণিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। এ ছাড়া চারটি বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছায়। সেগুলো হলো– উভয় পক্ষ সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে বাংলাদেশি এবং ভারতীয় কৃষক ছাড়া অন্য কেউ প্রবেশ করতে পারবে না, সীমান্তে যে কোনো সমস্যা বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমন্বিতভাবে সমাধান করা, উভয় দেশের গণমাধ্যমে সীমান্ত সম্পর্কিত অপপ্রচার কিংবা গুজব ছড়ানো বন্ধ করা এবং অনুপ্রবেশ ও মাদক চোরাচালান থেকে নিজ দেশের জনগণকে বিরত রাখা। 

এ বিষয়ে লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম কিবরিয়া জানান, সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সাক্ষাৎ হয়েছে এবং উভয় বাহিনী সিদ্ধান্তগুলো মেনে চলতে একমত।

এদিকে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার উচনা সীমান্তে পতাকা বৈঠকের পর বিএসএফ কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া বন্ধ করলেও নির্মাণসামগ্রী সরিয়ে নেয়নি। গত মঙ্গলবার ভোরে বিএসএফ সদস্যরা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে উচনা সীমান্তের জিরো পয়েন্ট থেকে ৩০ গজের মধ্যে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার চেষ্টা করেন। ওই সময় বিজিবি সদস্যরা বাধা দিলে বিএসএফ পিছু হটে। এর পর বিকেলে পতাকা বৈঠকে কাঁটাতারের বেড়া ও নির্মাণসামগ্রী সরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় বিএসএফ। তবে গতকাল বুধবার পর্যন্ত নির্মাণসামগ্রী সরানো হয়নি। 

স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল বাছেদ বলেন, এর আগেও বিএসএফ দু’বার বেড়া দিতে এসেছিল। তখনও বিজিবির বাধায় তারা সরে গেছে। তবে কখন কী হয়, বলা যায় না। আমরা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। এর একটা সমাধান চাই। 

জয়পুরহাট-২০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাহিদ নেওয়াজ বলেন, আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে এর সমাধান হবে। বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।

.

উৎস: Samakal

কীওয়ার্ড: ব এসএফ কর ন ল

এছাড়াও পড়ুন:

রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতেই নির্বাচন, বললেন মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতেই নির্বাচন হবে। এক্ষেত্রে সংস্কার সংস্কারের মতো চলবে, আর নির্বাচন নির্বাচনের মতো চলবে।

মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) বিকালে ঠাকুরগাঁওয়ে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গ মতবিনিময়ের তিনি এই মন্তব্য করেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, “সংস্কারের বিষয়ে ছয়টা কমিশন হয়েছে। ছয়টা কমিশনের বিষয়ে আমরা আমাদের মতামত দিয়েছি। এরপর রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যে মতের ঐক্য হবে, সেই ঐকমত্যের ভিত্তিতেই নির্বাচন হতে হবে।

“যারা নির্বাচিত হবে, তারা এই সংস্কারকগুলোকে ইনপ্লিমেন্ট করবে। সংস্কার আর নির্বাচন আলাদা জিনিস না। সংস্কারক সংস্কারের মতো চলবে, আর নির্বাচন নির্বাচনের মতো চলবে,” বলেন তিনি। 

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের চীন সফরের বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “চীন সফর বর্তমান সরকারের বড় সাফল্য। ইতোপূর্বে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চীন একতরফাভাবে নির্দিষ্ট একটি দলের সঙ্গে সম্পর্ক রেখেছিল।

“তবে সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে চীন তাদের চিন্তাভাবনা পরিবর্তন করেছে। তারা এখন সব দলের সঙ্গে কথাবার্তা বলছে,” বলেন তিনি।

মির্জা ফখরুল নিজের শারীরিক অসুস্থতার কথা তুলে ধরে চলতি মাসের ছয় তারিখে চিকিৎসার জন্যে দেশের বাইরে যাওয়ার তথ্য দেন মির্জা ফখরুল।

মতবিনিময় শেষে মির্জা ফখরুল দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের ঈদের শুভেচ্ছা জানান। এসময় মির্জা ফখরুলকে ঈদের শুভেচ্ছা জানাতে হাজারো নেতাকর্মী তার বাসভবনে ভিড় জমান।

ঢাকা/হিমেল/রাসেল

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • নিজ দলের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার স্বাধীনতা চায় না প্রধান দলগুলো
  • রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতেই নির্বাচন, বললেন মির্জা ফখরুল