সকল বিচারে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনে বিপুল জয়লাভ করিয়া সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদে শপথ গ্রহণ করিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান দলের এই নেতা অবশ্যই আমাদের অভিবাদন প্রাপ্য।
আমরা জানি, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষার নিদর্শনরূপে প্রেসিডেন্ট পদে আসীন হইবার পূর্বেই তিনি ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরের ব্যবস্থার মাধ্যমে কার্যত মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রথম ধাপ নিশ্চিত করিয়াছেন। এই জন্যও ট্রাম্পকে আমরা শুভেচ্ছা জানাই। ক্ষমতায় আরোহণের পর তাঁহার অপর প্রতিশ্রুতি পূরণ তথা রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতিও স্বাক্ষরের আশ্বাস দিয়াছেন। আমাদের প্রত্যাশা, এই ক্ষেত্রেও তিনি সফল হইবেন। তবে এই সকল বিষয়ে উল্লাস প্রকাশ, তৎসহিত ইহাও বলা প্রয়োজন, প্রেসিডেন্টরূপে প্রথম দিনেই ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন কতিপয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিয়াছেন যেইগুলি বাংলাদেশের ন্যায় উন্নয়নকামী দেশে তো বটেই, খোদ যুক্তরাষ্ট্রেও গভীর উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার বিস্তার ঘটাইয়াছে।
সমকালসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমসূত্রে জানা যাইতেছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশ্বব্যাপী উদ্বেগ সৃষ্টিকারী সিদ্ধান্তসমূহের মধ্যে রহিয়াছে মার্কিন নাগরিকত্বপ্রাপ্তি এবং তথায় অভিবাসনের পথ দুরূহকরণ পদক্ষেপ। তিনি ইতোমধ্যে এমন কয়েকটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করিয়াছেন, যাহার কারণে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের সমাপ্তি ঘটিতে পারে এবং দেশটিতে আশ্রয় ও শরণার্থী-বিষয়ক চলমান কর্মসূচি স্থগিত হইতে পারে। প্রচলিত নিয়ম অনুসারে, কোনো বিদেশি নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রে গিয়া শিশু জন্ম দিলে, উক্ত শিশুর সহিত তাহার পিতা-মাতাও নাগরিকত্ব পাইতেন। ট্রাম্পের আদেশের ফলে এই নিয়মটি বন্ধ হইয়া যাইতেছে। যদিও বিশেষজ্ঞ অনেকের মত, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব দেশটির সংবিধানে ১৪তম সংশোধনী দ্বারা সুরক্ষিত। সংবিধানের ঐ ধারা বাতিলের ক্ষেত্রে যদিও আইনি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করিতে হইবে ট্রাম্প প্রশাসনকে, আপাতত ইহাই সত্য, নাগরিকত্বপ্রাপ্তির পথ বন্ধের কুফল অন্য অনেক দেশের ন্যায় বাংলাদেশকেও ভোগ করিতে হইবে। ট্রাম্পের আদেশের কারণে দেশটিতে থাকা অনিবন্ধিত অভিবাসীদিগকেও বাহির করিয়া দেওয়া হইবে। তৎসহিত পরিবারের একজন নাগরিকত্ব লইয়া বাকিদের একাদিক্রমে যুক্তরাষ্ট্রে লইবার নিয়মও বাতিল হইবে।
আমরা জানি, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের প্রবাসী আয়ের একক বৃহত্তম উৎস দেশ। ফলে আমাদের প্রবাসী আয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়িবার আশঙ্কা উড়াইয়া দিবার সুযোগ নাই। আর বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ এবং আমদানিসহ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রবাসী আয়ের বিপুল ভূমিকার কথা স্মরণে রাখিলে ট্রাম্পের ঐ সিদ্ধান্তের বিরূপ প্রভাব বহুমুখী হইবার শঙ্কাই বেশি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যদি যুক্তরাষ্ট্র শরণার্থী গ্রহণের বর্তমান ধারা বন্ধ করিয়া দেয় তাহা হইলেও বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হইবার আশঙ্কা রহিয়াছে। বিশেষত রোহিঙ্গা শরণার্থী লইয়া বাংলাদেশ যখন জেরবার, তখন বিগত মার্কিন প্রশাসন রোহিঙ্গাদের যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের আশ্বাস দিয়াছিল। ইতোমধ্যে কয়েক সহস্র রোহিঙ্গার ব্যবস্থাও তাহারা করিয়াছে বলিয়া জানি। বাংলাদেশের অব্যাহত প্রচেষ্টার ফলরূপে হয়তো ভবিষ্যতে এই সংখ্যা বৃদ্ধিই পাইত। কিন্তু ট্রাম্পের শরণার্থী গ্রহণ বন্ধের পদক্ষেপ বিষয়টা সম্পূর্ণ অনিশ্চিত করিয়া দিল। ট্রাম্পের অপর এক নির্বাহী আদেশের বলি হিসাবে অধ্যয়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গমনে ইচ্ছুক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা আরও যাচাই-বাছাইয়ের মুখোমুখি হইলে, উহাও বাংলাদেশকে ভোগাইবে বলিয়া আমরা মনে করি।
ট্রাম্প এমন সময়ে উক্ত সিদ্ধান্তসমূহ গ্রহণ করিতেছেন, যখন যুক্তরাষ্ট্রই অভিবাসীদের ভূমিরূপে পরিচিতি পাইয়াছে। এমনকি খোদ ট্রাম্পের পূর্বপুরুষ ও তাঁহার স্ত্রীও অভিবাসীরূপে উক্ত দেশে আসন গাড়িয়াছিলেন। উন্নত জীবনের আশায় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের অভিবাসনপ্রত্যাশীদের সর্বাপেক্ষা আকর্ষণীয় গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র। আবার যুক্তরাষ্ট্র ও তাহার ইউরোপীয় মিত্রদের দেশে দেশে দীর্ঘ ঔপনিবেশিক শাসনের ইতিহাস পর্যালোচনার ভিত্তিতে বলা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশাধিকার অভিবাসীদের এক প্রকার অধিকারও বটে। অতএব, বিশ্বব্যাপী মার্কিন প্রেসিডেন্টের এহেন অযৌক্তিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জনমত গড়িয়া তোলা সময়ের দাবি। এই সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রস্তুতি লইবার বিকল্প নাই।
.উৎস: Samakal
কীওয়ার্ড: শরণ র থ কর য় ছ গ রহণ
এছাড়াও পড়ুন:
মাদারীপুরে চালককে হত্যা করে ভ্যান ছিনতাই, ‘পালানোর সময়’ যুবক আটক
মাদারীপুরের শিবচরে এক ভ্যানচালককে গলা কেটে হত্যা করে যানটি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পালিয়ে যাওয়ার সময় ভ্যানে রক্ত দেখে স্থানীয় কয়েকজন সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন।
গতকাল বুধবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নের তালতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তির নাম সাঈদ মোল্লা (৬৫)। তিনি শিবচর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের কেশবপুর এলাকার বাসিন্দা। অন্যদিকে আটক ব্যক্তির নাম সৈকত ঢালী (৩৫)। তিনি পাঁচ্চর ইউনিয়নের কেরানিবাট এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাত ১০টার দিকে তালতলা এলাকার রাস্তর পাশে সাঈদের গলাকাটা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন কয়েকজন। এ সময় তাঁরা আশপাশের লোকজনকে খবর পাঠিয়ে ভ্যানটি খুঁজতে বের হন। একপর্যায়ে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে একটি ভ্যানে রক্ত দেখতে পেয়ে তাঁদের সন্দেহ হয়। স্থানীয় লোকজন ভ্যানসহ সৈকতকে আটক করেন। পরে তাঁরা সৈকতকে মরদেহর কাছে নিয়ে গিয়ে পিটুনি দেন।
খবর পেয়ে শিবচর থানার পুলিশ ও সেনাবাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে সৈকতকে পুলিশি হেফাজতে নেয়। একই সঙ্গে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।
কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সৈয়দ ব্যাপারী বলেন, এ ধরনের ঘটনায় এলাকাবাসী উদ্বিগ্ন। এ হত্যাকাণ্ডের বিচার চান তাঁরা।
লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ। তিনি বলেন, এ ঘটনায় জড়িত একজনকে আটক করা হয়েছে। ছিনতাই করা ভ্যান ও একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ।