দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টা অবরোধের পর দাবি পূরণে সাত দিনের আল্টিমেটাম দিয়ে রাজধানীর শাহবাগ মোড় ছেড়েছেন মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুলের (ম্যাটস) শিক্ষার্থীরা। এরপর সেখানে যানচলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।

বুধবার (২২ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় সাধারণ ম্যাটস শিক্ষার্থী ঐক্য পরিষদের সিনিয়র সমন্বয়ক মুজাহিদুল ইসলাম আল্টিমেটাম ঘোষণা করেন।

তিনি বলেছেন, “আগামী সাত দিনের মধ্যে আমাদের চার দফা দাবি না মানলে ম্যাটসের ৪০ হাজার মতো শিক্ষার্থী সচিবালয় অভিমুখে লংমার্চ করবেন।”

বুধবার দুপুর ১টায় চার দফা দাবি আদায়ে শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন ম্যাটসের শিক্ষার্থীরা।
ম্যাটসের শিক্ষার্থীদের চার দাবি হলো—দশম গ্রেডে শূন্য পদে নিয়োগ এবং সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে নতুন পদ সৃষ্টি; অনতিবিলম্বে চার বছরের একাডেমিক কোর্স বহাল রেখে অসঙ্গতিমূলক কোর্স কারিকুলাম সংশোধন ও ভাতাসহ এক বছরের ইন্টার্নশিপ চালু; প্রস্তাবিত ‘এলাইড-হেলথ প্রফেশনাল বোর্ড’ বাতিল করে স্বতন্ত্র ‘মেডিকেল এডুকেশন বোর্ড অব বাংলাদেশ’ নামে বোর্ড চালু করা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও বিএমঅ্যান্ডডিসি স্বীকৃত ক্লিনিক্যাল বিষয়ে উচ্চ শিক্ষার সুযোগ তৈরি।

ঢাকা/রায়হান/রফিক 

.

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর

এছাড়াও পড়ুন:

ঈদের মাসে রেকর্ড ৩২৯ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা

গত ঈদুল ফিতরের আগে রেকর্ড পরিমাণ আয় পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। ১ মাসেই এসেছে ৩২৯ কোটি ডলার, যা এক মাসের হিসাবে যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। বিদেশ থেকে প্রবাসীরা বৈধ পথে অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় পাঠিয়েছেন।

ব্যাংকাররা বলছেন, মূলত অর্থ পাচার কমে আসায় প্রবাসীরা তাঁদের আয় পাঠাতে বৈধ পথ বেছে নিয়েছেন। এর ফলে রমজান মাসে প্রবাসী আয়ে নতুন রেকর্ডের সৃষ্টি হয়েছে। গত বছরের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এটাই ছিল প্রথম ঈদ।

মার্চে মাসের প্রথম ২৪ দিনে ব্যাংকিং চ্যানেলে এসেছে ২৭০ কোটি মার্কিন ডলার। পুরো মাস শেষে যা বেড়ে হয়েছে ৩২৯ কোটি ডলার। এর আগে গত বছরের মার্চে এসেছিল ১৯৯ কোটি ডলার। ফলে মার্চে প্রবাসী আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬৪ শতাংশ। এর আগে ফেব্রুয়ারি মাসে সব মিলিয়ে প্রবাসী আয় এসেছিল ২৫২ কোটি ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ পরিসংখ্যানে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রবাসী আয় হলো দেশে ডলার জোগানের একমাত্র দায়বিহীন উৎস। কারণ, এই আয়ের বিপরীতে কোনো বিদেশি মুদ্রা খরচ করতে হয় না বা কোনো দায়ও পরিশোধ করার দরকার পড়ে না। অন্যদিকে রপ্তানি আয়ের বিপরীতে দেশে ডলার এলেও তার জন্য কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি আমদানি করতে আবার বিদেশি মুদ্রা খরচ করতে হয়। আবার বিদেশি ঋণ পরিশোধ করতেও ডলারের প্রয়োজন হয়। ফলে প্রবাসী আয় বাড়লে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ডলারের রিজার্ভ বা মজুত দ্রুত বৃদ্ধি পায়।

প্রবাসী আয় বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যাংকগুলোয় ডলারের যে সংকট চলছিল, তা অনেকটা কেটে গেছে বলে জানান কর্মকর্তারা। তাঁরা বলেন, ডলারের দাম নিয়ে যে অস্থিরতা ছিল, তা–ও কিছুটা কমে এসেছে। ব্যাংকগুলো এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বেঁধে দেওয়া সর্বোচ্চ ১২৩ টাকার মধ্যেই প্রবাসী আয় কিনছে।

সাধারণত দুই ঈদের আগে প্রবাসী আয় বছরের অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি আসে। তবে এবারের ঈদে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।

দেশে গত বছরের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর টানা ৭ মাস ধরে প্রতি মাসে ২০০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। ফেব্রুয়ারিতে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ২৫২ কোটি ৮০ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৭ শতাংশ বেশি। এ বছরের জানুয়ারিতে গত বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রবাসী আয় ৩ শতাংশ বেশি আসে।

সব মিলিয়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম আট মাস জুলাই-মার্চে প্রবাসীরা দেশে ২ হাজার ১৭৭ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন, যা এর আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৮ শতাংশ বেশি। আগের ২০২৩-২৪ অর্থবছরের একই সময়ে প্রবাসী আয় এসেছিল ১ হাজার ৭০৭ কোটি ডলার।

গত ৬৯ মাসের চিত্র

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যভান্ডার ঘেঁটে গত ৫ বছর ৯ মাসের মাসওয়ারি প্রবাসী আয়ের চিত্র পাওয়া গেছে। সেখানে দেখা গেছে, চলতি মার্চ মাসেই সর্বোচ্চ ৩২৯ কোটি ডলার এসেছে। এর আগে ডিসেম্বরে সর্বোচ্চ ২৬৩ কোটি ডলার এসেছিল। ২০১৯-২০ সালের পর মাত্র ২৪ মাসে ২০০ কোটি ডলারের বেশি এসেছে।

জানা গেছে, ব্যাংকগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা করে প্রবাসী আয়ের ডলার কেনা এখন অনেকটা কমে এসেছে। ফলে ডলারের দাম ১২৩ টাকার মধ্যেই রয়েছে। এতে পণ্য আমদানিতেও ডলারের দাম কম পড়ছে। ফলে আমদানি খাদ্যপণ্যের দাম সেভাবে বাড়েনি। আগে একসময় প্রতি ডলারের দাম ১২৮ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল।

সম্পর্কিত নিবন্ধ