কেয়া কসমেটিকসের আরও দুটি কারখানা বন্ধ
Published: 22nd, January 2025 GMT
গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী (জরুন) এলাকায় কেয়া কসমেটিকসের চারটি কারখানা বন্ধ ঘোষণার ২১ দিনের মাথায় আরও দুটি স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। আগামী ২০ মে থেকে এই কারখানা দুটি বন্ধ হয়ে যাবে। গতকাল মঙ্গলবার এক নোটিশে শ্রমিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বাংলাদেশ শ্রম আইনের বিধি অনুযায়ী সব পাওনা কারখানা বন্ধের পরবর্তী ৩০ দিবসের মধ্যে পরিশোধ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
কেয়া কসমেটিকসের মানবসম্পদ বিভাগের ব্যবস্থাপক সাবিনা ইয়াসমিন গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘নতুন করে বন্ধ ঘোষণা করা কারখানা দুটি আগে বন্ধ ঘোষণা করা কারখানাগুলোর সঙ্গে যুক্ত। তবু আমরা এ দুটি কারখানা চালু রাখার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু বেশ কিছু কারণে এই কারখানা দুটিও বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, আগামী ১ মে থেকে কেয়া গ্রুপের বন্ধ ঘোষণা করা কারখানাগুলো হলো, কেয়া কসমেটিকস লিমিটেড (নিট কম্পোজিট গার্মেন্টস ডিভিশন, নিটিং বিভাগ, স্পিনিং ডিভিশন, কটন ডিভিশন) ও গাজীপুরের কোনাবাড়ীর জরুন এলাকার কেয়া ইয়ার্ন মিলস লিমিটেড। কারখানাগুলো ১ জানুয়ারি থেকে চালু আছে, ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চালু থাকবে। কারখানাগুলো ১ মে থেকে স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের পাওনাদি পাবেন। সবশেষ নোটিশ অনুযায়ী, কারখানা দুটি আগামী ২০ মে থেকে স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাবে।
কর্তৃপক্ষ কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধের নোটিশে বন্ধের কারণ হিসেবে বর্তমান বাজার অস্থিতিশীলতা, ব্যাংকের সঙ্গে হিসাবের অমিল, কাঁচামালের অপর্যাপ্ততা ও কারখানার উৎপাদন কার্যক্রমের অপ্রতুলতাকে দায়ী করে। নোটিশে কেয়া গ্রুপের পরিচালক/ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কেয়া কসমেটিকস লিমিটেডের চেয়ারম্যান (নিট কম্পোজিট ডিভিশন) স্বাক্ষর করেছেন। নোটিশটি গতকাল বিকেলে কারখানার প্রধান ফটকে সাঁটিয়ে দেওয়া হয়।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, কেয়া কসমেটিকস লিমিটেড (নিট কম্পোজিট ডিভিশন) ডাইং ও ইউটিলিটি বিভাগের (জরুন, কোনাবাড়ী, গাজীপুর) সব শ্রমিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, বর্তমান বাজার অস্থিতিশীলতা, ব্যাংকের সঙ্গে হিসাবের অমিল, কাঁচামালের অপর্যাপ্ততা এবং ফ্যাক্টরি উৎপাদন কার্যক্রম অপ্রতুলতার কারণে আগামী ২০ মে কারখানার সব কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হলো।
শ্রমিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বাংলাদেশ শ্রম আইনের বিধি অনুযায়ী সব পাওনা কারখানা বন্ধের ৩০ দিবসের মধ্যে পরিশোধ করা হবে।
কারখানার মালিক ও শ্রমিক পক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কারখানাগুলোতে প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন। কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে গেলে এসব মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। তাদের মধ্যে ১ হাজারের কাছাকাছি শ্রমিক রয়েছেন, যারা শ্রবণ ও বাক্প্রতিবন্ধী। যাদের অনেক বয়স হয়ে গেছে। তাদের পক্ষে নতুন করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা কঠিন হয়ে পড়বে।
মঙ্গলবার কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন সেকশনে কর্মরত সাত শতাধিক শ্রবণ ও বাক্প্রতিবন্ধী শ্রমিক কারখানা খোলার দাবিতে প্রধান ফটকে জড়ো হন। তারা সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে কেয়া গ্রুপের সামনে সাজু মার্কেটে একত্র হয়ে কারখানা খোলার দাবিতে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করেন।
কেয়া গ্রুপের মানবসম্পদ বিভাগের ব্যবস্থাপক সাবিনা ইয়াসমিন এসব বিষয় স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘কেয়া গ্রুপে ১০ হাজারের বেশি শ্রমিক কাজ করেন। তাদের মধ্যে বিপুলসংখ্যক বাক ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী রয়েছেন। আমরা তাদের নিয়েও চিন্তিত।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের মালিক ব্যাংক কর্তৃপক্ষের উদ্দেশ্যমূলক হয়রানির শিকার। ব্যাংক আমাদের সঙ্গে হিসাবের গরমিল সমাধান করছে না। তারা আমাদের রপ্তানির আয় সরাসরি কেটে নিয়েছে। মালিকের হিসাবে জমা দেয়নি। আমরা অনেক দেনদরবার করেও ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে হিসাব নিয়ে বসাতে পারিনি। তাই আমাদের মালিক সময়মতো শ্রমিকদের বেতন দিতে পারেননি। শ্রমিকেরা আন্দোলন করেছেন। তাই মালিক বাধ্য হয়ে কারখানাগুলো বন্ধ ঘোষণা করেছেন।’
মানবসম্পদ বিভাগের ব্যবস্থাপক বলেন, সরকার যদি বিষয়গুলো দেখে, কারখানা খোলার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়, তাহলে আবার কারখানা চালু করা হবে।
.উৎস: Samakal
কীওয়ার্ড: র ব যবস থ
এছাড়াও পড়ুন:
সহযোগিতা বাড়াতে চায় ৩ দেশের স্টক এক্সচেঞ্জ
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর স্টক এক্সচেঞ্জের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করার অংশ হিসেবে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের তিন প্রধান স্টক এক্সচেঞ্জ। গত ২৭ মার্চ শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোতে এই সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), কলম্বো স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) এবং পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্জ (পিএসএক্স)। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে ডিএসই।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কলম্বোতে অনুষ্ঠিত সমঝোতা স্মারক স্মাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম, কলম্বো স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) চেয়ারম্যান দিলশান উইরসেকারা এবং সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন অব পাকিস্তানের চেয়ারম্যান আকিফ সাইদ। ডিএসইর প্রতিনিধি দলে ছিলেন পরিচালক শাকিল রিজভী, মিনহাজ মান্নান ইমন, রিচার্ড ডি’ রোজারিও এবং কোম্পানি সচিব আসাদুর রহমান।
সমঝোতা স্মারকটিতে তিন দেশের স্টক এক্সচেঞ্জের ডিজিটাল রূপান্তরে যৌথ উদ্যোগ, নতুন আর্থিক পণ্য ও বাজার উন্নয়নে এক্সচেঞ্জগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়, বাজার তদারকি এবং বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা কাঠামোর সমন্বয়, মানবসম্পদ উন্নয়নে যৌথ উদ্যোগ, ক্রস-এক্সচেঞ্জ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং নলেজ শেয়ারিং বিষয়ে সহযোগিতার অঙ্গীকার করা হয়েছে।
ডিএসইর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, সমঝোতা স্মারকের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হলো– এক দেশের কোম্পানিকে অন্য দেশের স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত (ক্রস বর্ডার লিস্টিং) করা এবং দেশগুলোর বিনিয়োগকারীদের অন্য দেশের কোম্পানিতে বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টির পথ খোঁজা এবং এ লক্ষ্যে দেশ তিনটির স্টক ব্রোকারদের মধ্যে অংশীদারিত্ব এবং প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ বাড়ানো।
সমঝোতা স্মারক বিষয়ে ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, আকারে ছোট হওয়ায় দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত ছাড়া অন্য দেশের স্টক এক্সচেঞ্জগুলোর প্রযুক্তিগত এবং প্রক্রিয়াগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সম্পদের সীমাবদ্ধতার কারণে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় এই স্টক এক্সচেঞ্জগুলো কাঙ্ক্ষিত সক্ষমতা অর্জন করতে পারছে না। সম্পদ ও অভিজ্ঞতার পারস্পরিক বিনিময় এবং প্রযুক্তিগত যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে স্টক এক্সচেঞ্জগুলো নিজ নিজ দেশে দক্ষ ও শক্তিশালী পুঁজিবাজার গঠনে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। একত্রে কাজ করে আর্থিক ইকোসিস্টেমে সমৃদ্ধি ও উদ্ভাবনের সুযোগ উন্মুক্ত করা যাবে। বিনিয়োগকারী এবং অংশীদারদের জন্য যা সুফল বয়ে আনবে।
শ্রীলঙ্কা সফরকালে ডিএসইর চেয়ারম্যান একটি সেমিনারে অংশ নিয়ে বাংলাদেশের শেয়ারবাজার এবং অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ডিমিউচুয়ালাইজেশন পরবর্তী অভিজ্ঞতা, পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে করণীয় বিষয়ে আলোকপাত করেন। পরে ডিএসইর প্রতিনিধিরা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন অব পাকিস্তানের চেয়ারম্যান, কমিশনার, পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি সিস্টেমের সিইও ও সেন্ট্রাল কাউন্টার পার্টির সিইও এবং কলম্বো স্টক এক্সচেঞ্জের সিইও, সিআরও এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথকভাবে বৈঠক করেন। বৈঠকে ডিএসইর চেয়ারম্যান বর্তমান কার্যক্রম, আঞ্চলিক পণ্যের বাজার উন্নয়ন, প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি নিজস্বভাবে তৈরি, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।