Samakal:
2025-02-27@19:08:27 GMT

অভিভাবকহীন দুই নগর ভবন

Published: 21st, January 2025 GMT

অভিভাবকহীন দুই নগর ভবন

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র ও কাউন্সিলররা গা-ঢাকা দেন। পরে নগরের সেবা স্বাভাবিক রাখতে দেশের সব সিটি করপোরেশনে মেয়রের জায়গায় আমলাদের প্রশাসক হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। আর কাউন্সিলরের দায়িত্ব পান আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তারা। বর্তমানে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সাত দপ্তরপ্রধান নেই। আর উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) প্রধান নির্বাহীসহ নেই দুটি দপ্তরপ্রধান। ফলে অভিভাবকহীন দুই সিটিতে সেবায় বিঘ্ন ঘটছে।
আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ১৯ আগস্ট দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। ডিএসসিসির দায়িত্ব দেওয়া হয় অতিরিক্ত সচিব ড.

মুহ. শের আলীকে। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝিতে তিনি অবসরে যান। ২৩ সেপ্টেম্বর ডিএসসিসিতে অতিরিক্ত সচিব নজরুল ইসলামকে তাঁর স্থলাভিষিক্ত করা হয়। তিনি ৬ জানুয়ারি পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব পদে পদোন্নতি পান। এখন পর্যন্ত তাঁর জায়গায় কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি।

সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, ডিএসসিসিতে নিয়োগ পাওয়ার পর ওই দুই প্রশাসকের একজনও সপ্তাহে দু’দিনের বেশি নগর ভবনে আসতেন না। আবার এই দু’দিনও ২-১ ঘণ্টার বেশি সময় দিতেন না তারা। সিটি করপোরেশনে মেয়র বা প্রশাসকের পরই প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান ২৪ ডিসেম্বর অবসরে যান। এর পর নতুন করে কাউকে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাও ৩১ ডিসেম্বর অবসরে গেছেন। এ ছাড়া প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা, প্রধান অডিট কর্মকর্তা ও প্রশাসকের পিএস বদলিজনিত কারণে করপোরেশন ত্যাগ করলেও, নতুন করে কাউকে পদায়ন করা হয়নি। 
ডিএসসিসি সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, চাকরি স্থায়ীকরণ, পদোন্নতি আর বদলিকে কেন্দ্র করে করপোরেশনে প্রশাসক, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, সচিবসহ অন্য কর্মকর্তার কক্ষে কর্মচারী ও শ্রমিক দলের কয়েকটি গ্রুপ হট্টগোল করে। টেন্ডারকে কেন্দ্র করে বহিরাগতরাও করপোরেশনের ভেতরে দ্বন্দ্বে জড়ায়। কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীদের কক্ষে বিশৃঙ্খলার ঘটনাও ঘটে। এসব কারণে করপোরেশনে প্রশাসকসহ অন্য পদে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা আসতে চাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন একাধিক কর্মকর্তা। 
এদিকে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মীর খায়রুল আলম ৩১ ডিসেম্বর অবসরে যান। এর পর সেখানে কাউকে পদায়ন করা হয়নি। এ ছাড়া ডিএনসিসির প্রধান নিরীক্ষা কর্মকর্তা ও আইন কর্মকর্তার পদ শূন্য। 

সংকট উত্তরণে গত ৩০ অক্টোবর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে করপোরেশনসহ পৌরসভাগুলোতে দ্রুত স্থায়ী প্রশাসক নিয়োগ করা হবে বলে জানিয়েছিলেন সাবেক স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা এ এফ হাসান আরিফ। আর কোনো অগ্রগতি নেই। 
দুই সিটি করপোরেশনের একাধিক কর্মকর্তা ও প্রকৌশলী সমকালকে বলেন, মেয়র কাউন্সিলরহীন করপোরেশনে এখন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ‘চেইন অব কমান্ড’ নেই। উন্নয়ন কাজের নথি অনুমোদন হচ্ছে না। আবার পদোন্নতি আর টেন্ডারের জন্য বহিরাগতরা যখন-তখন এসে হট্টগোল বাধাচ্ছেন। এতে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। আবার ৫ আগস্টের পর করপোরেশনের ছোটখাটো বিষয়ে মামলা হচ্ছে। এসব বিষয়ে আইন কর্মকর্তার পরামর্শ জরুরি। অর্থছাড় আর অডিটের মতো পদগুলোতে ক্যাডার কর্মকর্তা না থাকায় সেখানেও সমস্যা হচ্ছে।
ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা সচিব মোহাম্মদ বশিরুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘প্রশাসকসহ দপ্তরপ্রধানের কয়েকটি পদ না থাকায় কাজে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। এসব পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে আমাদের রুটিন কাজ চলছে। মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, দ্রুতই এসব পদে নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে।’
ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা সচিব মোহাম্মদ মাসুদ আলম সিদ্দিক বলেন, ‘শীর্ষ পদ আর টেকনিক্যাল পদগুলো খালি থাকায় বাড়তি সময় নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ে এসব পদে দ্রুত পদায়নের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করতে গিয়ে যাচাই-বাছাই চলছে। দ্রুত এসব পদে পদায়নের কাজ করছেন তারা।’

উৎস: Samakal

কীওয়ার্ড: ড এনস স ড এসস স সরক র

এছাড়াও পড়ুন:

নীরবেই কি রিয়াদের বিদায়

মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মুশফিকুর রহিমের কাছে দলের চাওয়া ছিল ভালো পারফরম্যান্স। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে সে প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছেন দু’জনই। ব্যাটিং ব্যর্থতা প্রশ্ন তুলে দিয়েছে তাদের দলে থাকা। গতকাল তো ঢাকার ক্রিকেটপাড়ার আলোচনার বিষয়ই ছিল মাহমুদউল্লাহ ও মুশফিকের অবসর।

সংগঠকদের অনেকে বলাবলি করছিলেন, রাওয়ালপিন্ডিতে আজ প্রি-ম্যাচ সংবাদ সম্মেলনে আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেবেন দুই ভাইরা ভাই। যদিও বিসিবির কাছে এ রকম কোনো বার্তা নেই। মাহমুদউল্লাহ বা মুশফিক বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদের কাছে নিজেদের পরিকল্পনা জানাননি।

জাতীয় দলের ম্যানেজমেন্টকেও নিজেদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে কিছু বলেননি দুই সিনিয়র ক্রিকেটার। সেদিক থেকে ধরে নিতে পারেন– মাহমুদউল্লাহ ও মুশফিকের অবসর ঘোষণার আলোচনা ক্রিকেটানুরাগীদের চাওয়া।

বৈশ্বিক ক্রিকেটে মাহমুদউল্লাহ ভালোই খেলেন। ২০১৫ ও ২০২৩ সালের বিশ্বকাপে সেঞ্চুরি আছে তাঁর। ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বাংলাদেশকে সেমিফাইনালে তোলায় বড় ভূমিকা রেখেছেন। এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলে রান করতে পারেননি। শেষ ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে রান পেলে মাহমুদউল্লাহর পক্ষে বলার লোকের অভাব হবে না। যদিও বয়স বিবেচনায় মিডল অর্ডার এ ব্যাটারকে জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় রাখতে চায় না বিসিবি।

মাহমুদউল্লার মতো মুশফিকের ওয়ানডে ক্যারিয়ারও শেষ দেখছেন অনেকে। জাতীয় দলের এ দুই সিনিয়র ক্রিকেটারের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ বলেন, ‘টুর্নামেন্ট চলাকালে তাদের সঙ্গে কথা বলতে চাইনি। তারাও কিছু বলেনি। বাইরের আলোচনা থেকে তো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় না। তারা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি থেকে দেশে ফিরুক। সময় সুযোগ বুঝে কথা বলা যাবে। নির্বাচক প্যানেল, কোচিং প্যানেল এবং যাদের নিয়ে কথা হচ্ছে, তাদের সঙ্গে কথা বলে বাকি সিদ্ধান্ত। মে-জুনে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ হবে। তার আগে কথা বলার সুযোগ আছে।’

চলমান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি শেষে জাতীয় দল নির্বাচক প্যানেল বিশ্বকাপকেন্দ্রিক পরিকল্পনা হাতে নিতে চায়। ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের দল গোছানোর কাজে হাত দিতে চায় পরবর্তী দ্বিপক্ষীয় সিরিজ থেকে। একজন নির্বাচকের মতে, ‘কোনো সন্দেহ নেই, ২০২৭ সালের বিশ্বকাপ মাথায় রেখে পরিকল্পনা করা হবে। কোন কোন পজিশনে খেলোয়াড় নিতে হবে, সেটা নিয়ে কাজ শুরু হয়ে গেছে। ব্যাটিং, বোলিং প্রতিটি পজিশনে একাধিক বিকল্প খোঁজা হচ্ছে। সবাই যাতে পারফরম্যান্স করার চাপ ফিল করে, সে পরিবেশ তৈরি করা না গেলে ভালো করা কঠিন।’

মাহমুদউল্লাহ, মুশফিকরা ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলার কথা চিন্তাও করেন না। এ দুই ব্যাটারই ভালো করে জানেন, আইসিসির শেষ টুর্নামেন্ট খেলছেন তারা। সরব না নীরবে অবসর ঘোষণা করবেন, সে সিদ্ধান্ত তাদেরই নিতে হবে।

জাতীয় দল-সংশ্লিষ্ট একজন বলেন, ‘তারা ভালো খেলতে না পেরে চুপ হয়ে আছে। অবসর নিয়ে কোনো কিছু বলছে না। নীরবেই হয়তো ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা। সেটা না করলে বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে।’

মাশরাফি বিন মুর্তজাও জাতীয় দল থেকে অবসর নেননি। সে তুলনায় মাহমুদউল্লাহ বিসিবিকে স্বস্তি দিয়েছেন টেস্ট ও টি২০ ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়ে। হতে পারে দেশের মাটিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে এ বছর জুলাই-আগস্টের সিরিজে বিদায় বলে দেবেন। এ কারণেই হয়তো বিশেষ ব্যবস্থায় মাহমুদউল্লাহ, মুশফিকের জন্য বিদায়ী সিরিজ আয়োজন করা।

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • অবসর গুঞ্জনে যা বলেছেন ফখর জামান
  • আইপিএল খেলতে বিশ্রাম, জবাব দিলেন স্টার্ক 
  • হতাশায় অবসরের চিন্তা ফখর জামানের 
  • নীরবেই কি রিয়াদের বিদায়
  • রাজনীতির মাঠে ওজিল, তুরস্কের ক্ষমতাসীন দলে বিশ্বকাপজয়ী তারকা