Samakal:
2025-04-03@03:00:24 GMT

শিশুর প্রথম সলিড খাবার

Published: 21st, January 2025 GMT

শিশুর প্রথম সলিড খাবার

শিশু ছয় মাস পর্যন্ত কেবল মায়ের বুকের দুধ পান করে। ছয় মাস পর শিশু যখন বুকের দুধের পাশাপাশি বাড়তি খাবার খেতে শুরু করে তাকে উইনিং ফুড বলা হয়। এই উইনিং ফুড দিয়ে সলিড খাবার দেওয়া শুরু করা হয়। এ সলিড খাবার অবশ্যই ঘরের তৈরি খাবার দিয়ে শুরু করতে হবে। বাইরের প্রক্রিয়াজাত খাবার দিয়ে শুরু করা যাবে না। এ জন্য মা, বাবা কিংবা অভিভাবকদের সলিড খাবার শুরু করার আগে সঠিক ধারণা থাকতে হবে। 
শিশু প্রথম সলিড খাবারের মাধ্যমে নতুন স্বাদ ও গন্ধের পরিচয় পেতে শুরু করবে। এ জন্য এই সময় সব নতুন খাবার এক দিনে দেওয়া শুরু করবেন না। ধীরে ধীরে একেকটা করে খাবারে অভ্যস্ত করাতে হবে। 
শিশুকে সলিড খাবার দেওয়ার সময় অ্যালার্জি হতে পারে। এ জন্য খাবার গ্রহণের পর অ্যালার্জি হচ্ছে কিনা– অভিভাবকদের চিহ্নিত করতে হবে। যেসব লক্ষণ দেখলে অ্যালার্জি বলে চিহ্নিত করবেন সেগুলো হলো– পেট ব্যথা ও পেট মোচড়, বারবার বমি, গায়ে র‌্যাশ ওঠা কিংবা লালচে ভাব দেখা দেওয়া, নাক দিয়ে পানি পড়া ইত্যাদি। 
কোনো খাবার দেওয়ার পর এ রকম লক্ষণ দেখা দিলে খাবারটি সাময়িক বন্ধ রাখুন। তারপর কিছুদিন পর সেটি আবার খাওয়াতে চেষ্টা করুন। যদি দ্বিতীয়বার শিশুর অ্যালার্জি হয়, তবে নিশ্চিত হোন সে খাবারে তার অ্যালার্জি আছে।
আমাদের দেশে অনেকেই শিশুর প্রথম সলিড খাবার হিসেবে খিচুড়ি দিয়ে থাকেন, যা ঠিক নয়। শুরুতে খিচুড়ি বা প্রোটিনের মতো ভারী খাবার দিলে শিশুর পাকস্থলীর ওপর চাপ পড়ে। এ ছাড়া প্রথম খাবার হতে হবে একটি করে উপাদান। নতুন খাবার দেওয়ার আগে ৩ থেকে ৫ দিন বিরতি দিন।
শিশুকে দিনে ২ থেকে ৩ কাপ পরিমাণ নরম খাবার দিয়ে শুরু করুন। শুরুতে সবজি হালকা চাপিয়ে নরম করে অথবা সেদ্ধ করে ম্যাশ করে দেওয়া উচিত। এ ছাড়া পিউরি করে ফল দিতে পারেন। পাকা ফল চটকে ১ থেকে ২ চা চামচ দিতে হবে। আস্তে আস্তে চাল, ডাল ও দুটি সবজি মিশ্রিত করে খাওয়াতে হবে।
শিশুর সলিড ফুডের কিছু নমুনা 
চটকানো পাকা কলা, মিষ্টি আলুর পিউরি, ডালের পানি দিয়ে চটকানো নরম ভাত বা মাড়, পাকা ফলের রস, জাউ ভাত, সেদ্ধ নরম সবজি ইত্যাদি। ধীরে ধীরে চাল-ডালের খিচুড়ি দিতে হবে। শিশুর রান্না করা খাবারে অবশ্যই ২ থেকে ৩ চা চামচ তেল দিতে হবে। এর বেশি নয়। 
কতটুকু দেবেন 
প্রথম দিন ১ চা চামচ, দ্বিতীয় দিন ২ চা চামচ, তৃতীয় দিন ৩ চা চামচ, প্রতিদিন ১ পোয়া বাটির হাফ বাটি দিনে ২ বার বাড়তি খাবার দিতে হবে। ১ থেকে ২ বার পুষ্টিকর নাশতা দিতে হবে। সারাদিন শিশু ৩ ঘণ্টা পরপর খাবে; যার মধ্যে দুটি বাড়তি খাবার ও দুটি পুষ্টিকর নাশতা থাকবে। শিশুর খাবার  হজম ও পুষ্টি শোষণ নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত পানি পান করাতে হবে।
শিশুর সলিড খাবার দেওয়ার সময় লক্ষণীয় বিষয় 
lশিশুর প্রথম সলিড খাবার শুরু করার সময় জাউভাত বা খাবারের সঙ্গে কিছু সবজি যেমন কাঁচা পেঁপে, মিষ্টি কুমড়া, লাউ, বরবটি, গাজর ইত্যাদি মিক্সড করে খাওয়াতে হবে।
lদুই বছরের আগে সরাসরি গরুর দুধ না খাওয়ানো ভালো।
lসব খাবার শিশুর পছন্দ নাও হতে পারে। এ জন্য শিশুকে জোর করে খাওয়াবেন না।
lশিশু খেতে না চাইলে ধীরে ধীরে তার খাবারের প্রতি আগ্রহ বাড়াবেন।
lব্লেন্ড করে বা লিকুইড করে শিশুকে খাবার দেবেন না। এতে সে চিবিয়ে খেতে শিখবে না।
lশিশুকে সবসময় ঘরের তৈরি খাবার খাওয়ান এবং নিজ হাতে খেতে শেখান।
lশিশুকে খাওয়ানোর সময় অন্যমনস্ক হয়ে যেমন টিভি দেখতে দেখতে, খেলতে খেলতে, এদিক-ওদিক করে খাওয়াবেন না। v

লেখক: পুষ্টিবিদ, রাইয়ান হেলথ কেয়ার হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার, দিনাজপুর।

.

উৎস: Samakal

কীওয়ার্ড: এ জন য র সময়

এছাড়াও পড়ুন:

অ্যাটলেটিকোকে হারিয়ে ফাইনালে রিয়ালের মুখোমুখি বার্সেলোনা

প্রথম লেগে রোমাঞ্চকর এক লড়াই উপহার দিয়েছিল বার্সেলোনা ও অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। তবে সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে খুব একটা জমেনি লড়াই। ফেরান তোরেসের কল্যাণে প্রথম আধা ঘন্টায় পাওয়া গোল বাকি সময়ে আগলে রাখল বার্সেলোনা। তাতে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদকে হারিয়ে তিন মৌসুম পর কোপা দেল রের ফাইনালে উঠল কাতালান দলটি। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে বার্সেলোনার অপরাজেয় যাত্রা পৌঁছে গেল টানা ২১ ম্যাচে। লা লিগার শীর্ষে থাকা দলটি এই বছরে এখনও কোনো ম্যাচ হারেনি।

বুধবার রাতে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদকে ১-০ গোলে হারিয়েছে হ্যান্সি ফ্লিকের শিষ্যরা। তাতে দুই লেগ মিলিয়ে ৫-৪ ব্যবধানের জয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে বার্সা। আগামী ২৬ এপ্রিলের শিরোপা নির্ধারণী ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ রিয়াল মাদ্রিদ। ২০১৪ সালের পর এই প্রথম স্পেনের দ্বিতীয় সেরা প্রতিযোগিতাটির ফাইনালে দেখা যাবে এল-ক্লাসিকো মহারণ।

ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। লামিন ইয়ামাল ও মার্কোস ইয়োরেন্তে দুই প্রান্ত দিয়ে চাপ তৈরি করছিলেন। তবে ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় বার্সেলোনা। মিডফিল্ডে পেদ্রি ও ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং ছন্দময় ফুটবল খেলছিলেন, সঙ্গে ফেরমিন লোপেজও আক্রমণে ছিলেন কার্যকর।  

প্রথমার্ধে লামিন ইয়ামালের পাস থেকে বল পেয়ে ফেরান তোরেস গোল করে বার্সাকে এগিয়ে নেন। অ্যাটলেটিকোর গোলরক্ষক হুয়ান মুসোকে পরাস্ত করে দলকে লিড এনে দেন তিনি। এরপর রাফিনহা একাধিক সুযোগ পেলেও তা কাজে লাগাতে পারেননি।

দ্বিতীয়ার্ধে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ আক্রমণ বাড়ানোর জন্য বেশ কিছু পরিবর্তন আনে। গ্রিজমানের শট পোস্টের বাইরে চলে যায়, আর আলেক্সান্দার সরলথ সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেন। বার্সেলোনা এরপর রক্ষণ সামলে খেলতে শুরু করে এবং প্রতিপক্ষকে গোলের সুযোগ দিতে চায়নি।

ম্যাচের শেষ মুহূর্তে সরলথ গোল করলেও অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়ে যায়। অ্যাটলেটিকো শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করেও সমতা ফেরাতে পারেনি, বার্সেলোনা তাদের লিড ধরে রেখে জয় নিশ্চিত করে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ