চীনা ঋণের সুদহার ১ শতাংশ করার প্রস্তাব পররাষ্ট্র উপদেষ্টার
Published: 21st, January 2025 GMT
চীনা ঋণের সুদের হার ২-৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করার প্রস্তাব দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। অপরদিকে, চীনা রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয়ের তিনটি বৈশ্বিক উদ্যোগ—জিডিআই, জিএসআই এবং জিসিআই-তে যোগদানে বাংলাদেশকে অনুরোধ জানিয়েছে দেশটি।
মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) বেইজিংয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো.
বৈঠকের বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন চীনকে প্রেফারেন্সিয়াল বায়ার্স ক্রেডিট (পিবিসি) এবং সরকারি কনসেশনাল ঋণ (জিসিএল) উভয় ক্ষেত্রেই সুদের হার ২-৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করার প্রস্তাব দেন। এ ছাড়া ঋণ পরিশোধের সময়সীমা ২০ থেকে ৩০ বছর করার অনুরোধ জানান তিনি।
বৈঠকে ঋণ পরিশোধে বাংলাদেশের ভালো রেকর্ডের প্রশংসা করে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঋণ পরিশোধের সময়সীমা বাড়ানোর ব্যাপারে নীতিগতভাবে সম্মত হন এবং সুদের হার কমানোর অনুরোধটি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন। তিনি স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের পর তিন বছর ধরে চীনা বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের কোটা ফ্রি প্রবেশাধিকার অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। বাংলাদেশের অনুরোধে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বাংলাদেশি রোগীদের চিকিৎসার জন্য কুনমিংয়ে ৩ থেকে ৪টি স্বীকৃত হাসপাতালকে বিশেষায়িত করার চীনের সিদ্ধান্তের কথা জানান।
বাংলাদেশ-চীন কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে শুভেচ্ছার নিদর্শন হিসেবে ঢাকায় একটি বিশেষায়িত চীনা হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার বাংলাদেশের প্রস্তাবকেও তিনি স্বাগত জানান। শিক্ষা, রেলপথ, কৃষি, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, পশুসম্পদ, মৎস্য, জাহাজ ভাঙা, টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং নীল অর্থনীতির মতো খাতে আর্থিক, প্রযুক্তিগত এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির সহযোগিতা এবং সহায়তার জন্য বাংলাদেশের অনুরোধ বিবেচনা করার জন্য চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০তম বার্ষিকী জাঁকজমকপূর্ণভাবে উদযাপনের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজনের প্রস্তুতির কথা জানায় উভয় পক্ষ। বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থান স্বীকার করে উভয় পক্ষ বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) অধীনে অব্যাহত সহযোগিতার ওপর জোর দেয়। তারা চীনা অর্থায়নে প্রস্তাবিত প্রকল্প যেমন দাশেরকান্দি পয়ঃনিষ্কাশন শোধনাগার, মোংলা বন্দরের উন্নয়ন ও আধুনিকীকরণ, ডিজিটাল সংযোগ স্থাপন এবং ৪-জি সম্প্রসারণে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে।
বৈঠকে উভয় নেতা রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা করেন এবং এই সমস্যার টেকসই সমাধান খুঁজে বের করার জন্য একটি রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করার জন্য তাদের যৌথ প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধির জন্য মিয়ানমারের সাথে চীনের অব্যাহত সম্পৃক্ততার আশ্বাস দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বাংলাদেশকে চীনা রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয়ের তিনটি বৈশ্বিক উদ্যোগ—জিডিআই, জিএসআই এবং জিসিআই-তে যোগদানের কথা বিবেচনা করার অনুরোধও করেন। জবাবে বাংলাদেশ প্রস্তাবগুলি পরীক্ষা করার এবং বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনায় চীনের সাথে জড়িত থাকার আগ্রহ প্রকাশ করে। তারা জাতিসংঘসহ বহুপাক্ষিক ফোরামে একে অপরের প্রার্থিতার বিষয়ে সহযোগিতা করতেও সম্মত হন।
উল্লেখ্য, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই’র আমন্ত্রণে সোমবার দেশটিতে সফরে যান পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। তিনি বেইজিং সফর শেষে সাংহাই যাবেন। তিন দিনের সফর শেষে আগামী ২৪ জানুয়ারি পররাষ্ট্র উপদেষ্টা দেশে ফিরবেন।
ঢাকা/হাসান/এনএইচ
উৎস: Risingbd
কীওয়ার্ড: চ কর চ কর পরর ষ ট র উপদ ষ ট পরর ষ ট রমন ত র র জন য
এছাড়াও পড়ুন:
নীলফামারীতে পুলিশ-সেনা সদস্যদের যৌথ টহল অব্যাহত
নীলফামারীতে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ঈদের পরও সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং পুলিশের যৌথ টহল ও চেকপোস্ট কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) ঈদের পরের দিনে সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথভাবে নীলফামারী সদরের উত্তরা ইপিজেড, সৈয়দপুর বাসটার্মিনাল, শুটকির মোড় ও পাঁচ মাথা মোড়ে চেকপোস্ট বসিয়ে সন্দেহভাজন ব্যক্তি, হেলমেট ও লাইসেন্সবিহিন মোটরসাইকেল আরোহী, নছিমন, ভটভটি, প্রাইভেটকার ও বাসে তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করে।
নীলফামারীতে সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ ফাহিম এহসান ও সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার ওমর ফারুক এবং সৈয়দপুরে সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার মোস্তফা মজুমদারের নেতৃত্বে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
আরো পড়ুন:
প্রধান উপদেষ্টাকে ঈদ-নিরাপত্তার বিষয়ে জানিয়েছেন সেনাপ্রধান
সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে: তারেক রহমান
এ সময় নীলফামারীর ইপিজেড পয়েন্টে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) প্রশান্ত রায় ও সৈয়দপুর পয়েন্টে এসআই সুজন উপস্থিত ছিলেন।
সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ ফাহিম এহসান জানান, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নীলফামারীতে জনগণের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনা সদস্যরা ঈদের পরও নিরলসভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। যৌথ বাহিনীর চেকপোস্ট পরিচালনার মুল উদ্দেশ্য হলো সচেতনতা বৃদ্ধিসহ মানুষ যেন নিশ্চিন্তে ও নিরাপদে চলাফেরা করতে পারে এবং দুষ্কৃতিকারীদের তৎপরতা সীমিত রাখা যায়।
সেনাবাহিনী সুত্র জানায়, গত ২ মার্চ থেকে সেনাবাহিনী ও পুলিশ বিভিন্ন ধরনের চেকপোস্ট ও তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এ পর্যন্ত দুই উপজেলায় ২৫২টি মামলায় ৮ লাখ ৩৬ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এরমধ্যে নীলফামারীতে ১৪২টি মামলায় ৪ লাখ ৭০ হাজার ৬০০ টাকা এবং সৈয়দপুরে ১১০টি মামলায় ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৯০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার মোস্তফা মজুমদার জানান, কার্যক্রমের ফলে জনগণের মাঝে আরো তৎপরতা ও সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। চেকপোস্টের মাধ্যমে যানবাহনে লাইসেন্স না থাকায় ব্যবস্থা নেওয়া এবং হেলমেটবিহীন মোটরসাইকেল আরোহীদের সতর্ক করা হয়।
এছাড়াও বাস, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি করা হয়।
ঢাকা/সিথুন/বকুল